প্রকাশিত: ১০ জুন, ২০২৬ ১৮:০০ (বৃহস্পতিবার)
সিলেটে তা ণ্ড ব ছড়াচ্ছে যে দুই রোগ

ছবি: সিলেট ভিউ গ্রাফিক্স।

সিলেটে ব্যাপক উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে দুইটি রোগ। তার মধ্যে এক রোগে দিনের পর দিন শিশুদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে। আবার অন্যদিকে আরেকটি রোগের বর্ষাকালে ব্যাপক সংক্রমন বাড়ে। আর এই দুই রোগের মোকাবেলা করতে প্রতিনিয়ত লড়ে যাচ্ছেন ভূক্তভোগিরা।  হাম ও রুবেলায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো মায়ের বুক খালি হচ্ছে এবং ডেঙ্গুতে প্রতিনিয়ত বাড়ছে সংক্রমন।

 

বুধবার (১০ জুন) স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ১ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন হবিগঞ্জ জেলায়।

 

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি থেকে অধ্যাবধি মোট ২৪ জন রোগী এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তিকৃত রোগীর সংখ্যা মোট ৪ জন। তারমধ্যে সিলেট নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১ জন এবং হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ জন এবং শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ জন।

 

১ জানুয়ারি থেকে অধ্যাবদি পর্যন্ত সিলেট বিভাগে ২৪ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। তারমধ্যে সিলেট জেলায় মোট রোগী ৩ জন, সুনামগঞ্জ জেলায় মোট রোগী ৭ জন, হবিগঞ্জ জেলায়  মোট রোগী ১৩ জন এবং বাহ্মণবাড়িয়া জেলায় ১জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। তবে মৌলভীবাজার জেলায় কোনো রোগী নেই বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ুর পরিবর্তন, নাগরিক অসচেতনতা ও মশা নিধনে গাফিলতি এই তিন মিলেই ডেঙ্গুর প্রকোপ দীর্ঘায়িত হচ্ছে। তারা সতর্ক করে দিয়েছেন, এখনই যদি আমরা সকলে মিলে সচেতন না হই, তাহলে ডেঙ্গু শীতকালেও জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।  জমে থাকা পানি পরিষ্কার রাখা, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা, মশারি ব্যবহার এবং চারপাশ পরিচ্ছন্ন রাখা এখনই এসব অভ্যাসে মনোযোগ না দিলে সামনে শঙ্কা আরও বাড়বে।

 

অন্যদিকে সিলেটে হামে আক্রান্ত হয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (১০ জুন) দুপুরে সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। নিহত ওই শিশু মুনজেরিন (৫ মাস)। সে জকিগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। 

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ নিয়ে চলতি বছরে সিলেট বিভাগে হামে আক্রান্ত হয়ে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৮ জনে। এর মধ্যে একজন প্রাপ্তবয়স্ক এবং বাকি সবাই শিশু।

 

সিলেট বিভাগের জেলা অনুযায়ী মৃতদের মধ্যে সিলেট জেলায় ২৬ জন, সুনামগঞ্জে ২৭ জন, মৌলভীবাজারে ৯ জন এবং হবিগঞ্জে ৬ জন রয়েছেন। বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ২৫৬ জন রোগী চিকিৎসাধীন। এর মধ্যে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৮৯ জন, শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৭৬ জন এবং সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৩৩ জন ভর্তি।

 

গত ২৪ ঘণ্টায় ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নতুন করে কোনো রোগী হামে শনাক্ত হয়নি। তবে একই সময়ে উপসর্গ নিয়ে ৬৬ জন নতুন সন্দেহভাজন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত সিলেট বিভাগে মোট ২৫৯ জন ল্যাব-নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে সুনামগঞ্জে ১৪৪ জন, সিলেটে ৭৬ জন, হবিগঞ্জে ২৫ জন এবং মৌলভীবাজারে ১৬ জন রয়েছেন।

 

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইসিইউ সুবিধা বাড়ানোর প্রস্তুতি রয়েছে।

 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/ এহিয়া