প্রকাশিত: ১০ জুন, ২০২৬ ২০:২৭ (বৃহস্পতিবার)
সিলেটে হ*ত্যা মা ম লা য় তিন জনকে ধরলো র‌্যাব

ছবি: সিলেট ভিউ।

হবিগঞ্জের আজমেরীগঞ্জে পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে মানু মিয়া হত্যা মামলার প্রধান আসামিসহ ৩ জনকে সিলেট থেকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-৯)।

 

মঙ্গলবার (৯ জুন) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টা থেকে ২টার দিকে পৃথক স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

 

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- মালেক মিয়া (৩৯) ও আলেক মিয়া (৩৭)। তারা উভয়েই মৃত নূর মিয়ার ছেলে এবং হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার শিবপাশা গ্রামের বাসিন্দা। এবং অপর ব্যক্তি সুমন আহমেদ জয় (২৯)। তিনি হবিগঞ্জ সদর উপজেলার সুলতানশী এলাকার বাসিন্দা এবং হুমায়ুন কবির শাহিনের ছেলে।

 

মামলার বিবরণ উল্লেখ করে র‌্যাব জানায়, নিহত মান উল্লাহ ওরফে মানু মিয়া হবিগঞ্জ জেলার আজমিরীগঞ্জ উপজেলার শিবপাশা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। গত ১০ মে ২০২৬ তারিখ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আসামি মালেক মিয়া ও তাজুল ইসলামের মধ্যে পাওনা টাকা নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। স্থানীয় লোকজন তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি মীমাংসা করলেও কিছুক্ষণ পর মালেক মিয়ার নেতৃত্বে কয়েকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মানু মিয়ার বাড়িতে গিয়ে তাজুল ইসলামকে আক্রমণ করে। এ সময় তাজুল ইসলামকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসেন মানু মিয়া ও তার স্ত্রী রিনা বেগম। অভিযোগ অনুযায়ী, মালেক মিয়া তার হাতে থাকা কাঠের রুল দিয়ে মানু মিয়াকে এলোপাতাড়ি আঘাত করে গুরুতর আহত করেন। পরে তাকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

 

এ ঘটনায় নিহতের ভাতিজা বাদী হয়ে আজমিরীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি নং-০৪/৩৯, তারিখ ১২ মে ২০২৬; যার ধারাসমূহ হলো ১৪৩/৪৪৭/৩৩২/৩০৭/৩০২/৫০৬/৩৪, পেনাল কোড ১৮৬০। এর ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-৯ এর সিপিসি-৩, শায়েস্তাগঞ্জ ক্যাম্প, হবিগঞ্জ এবং সিপিএসসি, সিলেটের যৌথ আভিযানিক দল মঙ্গলবার (৯ জুন) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে সিলেট মহানগরের শাহপরাণ (রহ.) থানার ২২ নম্বর ওয়ার্ডের বরদুল এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারভুক্ত দুই পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করে।

 

একইদিন দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে শাহপরাণ (রহ.) থানার উপশহর এলাকার আজমল অ্যান্ড আফতাব হাউজের সামনে পৃথক আরেকটি অভিযান চালিয়ে মামলার তদন্তে প্রাপ্ত আরও এক পলাতক আসামি সুমন আহমেদ জয়কে গ্রেফতার করা হয়।

 

র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-৯) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া ) কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, ‘পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে গ্রেফতারকৃত আসামিদের হবিগঞ্জ জেলার আজমেরীগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ছাড়াও দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র‌্যাব-৯ এর চলমান গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

 

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম/ এহিয়া