প্রকাশিত: ১২ জুন, ২০২৬ ০০:০০ (শুক্রবার)
ভিটেমাটি বিক্রি করেও মুক্তি মেলেনি লিবিয়ায় জিম্মি সিলেটের ফয়সলের

ছবি: ফাইল ছবি।

উন্নত জীবনের স্বপ্নে পাড়ি জমিয়েছিলেন প্রবাসে। কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার তরুণ ফয়সলের। লিবিয়ায় মানব পাচারকারী চক্রের কাছে জিম্মি হয়ে অমানবিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন তিনি। মুক্তিপণ জোগাতে পরিবার সর্বস্ব বিক্রি করে টাকা দিলেও মুক্তি মেলেনি তার। এ অবস্থায় তাকে ফিরিয়ে আনতে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করছে অসহায় পরিবার।

 

সরেজমিন ফয়সলের গ্রামের বাড়ি উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের সাতপাড়ায় গিয়ে কথা হয় তার বাবা মদরিস আলী ও মা মিনারা বেগমের সঙ্গে।

 

তারা জানান, এসএসসি পাস করার পর বিশ্বনাথ ডিগ্রি কলেজে ভর্তি হলেও আর পড়ালেখা করা হয়নি ফয়সলের। ২০২৩ সালে গ্রামের একজনের মাধ্যমে পাড়ি জমান লিবিয়ায়। দীর্ঘদিন সেখানে অবস্থানের পর, সম্প্রতি মনস্থির করেন ইউরোপের একটি দেশে যাওয়ার। তখন চুক্তি হয় নবীগঞ্জের এরশাদ আলী নামের এক দালালের সঙ্গে। তিনি তাকে অবৈধ পথে পাঠানোর জন্য ‘লিবিয়া গেইম’-এ যুক্ত করেন।


এ অবস্থায় তিনি আটক হন লিবিয়া পুলিশের হাতে। একপর্যায়ে তাদের কাছ থেকে ফয়সলকে কিনে নেয় মানব পাচারকারী চক্র (মাফিয়া চক্র)। তাকে জিম্মি করে ভিডিও কলের মাধ্যমে মুক্তিপণ চাওয়া হয় ২৫ লাখ টাকা। এরপর থেকে ভিডিও কলে নির্যাতনের চিত্র দেখিয়ে টাকা পাঠানোর তাগদা দেয় তারা। অনেক আহাজারির পর ৬ লাখ টাকায় মুক্তি দিতে রাজি হলে ভিটেমাটি বিক্রি করে দালালের দেওয়া দেশীয় বিকাশ নম্বরে তা পাঠানো হয়। এরপরও মুক্তি না দিয়ে বাকি টাকার জন্য ফের নির্যাতন শুরু করেছে ফয়সলকে।


এ অবস্থায় তাকে ফিরিয়ে আনতে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন তারা। বিশ্বনাথ থানার ওসি গাজী মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, বিষয়টি জানতে পেরে ভিকটিমের পরিবারকে থানায় আনা হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করছি।

 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/ এহিয়া