প্রকাশিত: ১২ জুন, ২০২৬ ২১:৪৯ (শনিবার)
নতুন ঘরে আর বউ তোলা হলো না সাকিবের

‘কত কষ্ট করে ছেলে নতুন ঘর তুলেছে। স্বপ্ন ছিল ছেলেকে বিয়ে দেব, নতুন বউ ঘরে তুলব। সুখের সংসার করবে আমার ছেলে। কিন্তু কী হইয়া গেল’— বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন নির্মাণাধীন ভবনে বিদ্যুতায়িত হয়ে নিহত সাকিবের বাবা হযরত আলী হাওলাদার।


শুক্রবার (১২ জুন) দাফনের পূর্বে ছেলের লাশের পাশে এভাবেই আহাজারি করছিলেন তিনি।

এর আগে, বৃহস্পাতিবার বেলা ১১টার দিকে বান্দরবন জেলা সদর হাসপাতালের নির্মাণাধীন ভবনে বিদ্যুতায়িত হয়ে মারা যান সাকিব। তার বাড়ি চরফ্যাশন উপজেলার চরকলমী ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডে। একই দুর্ঘটনায় নিহত হন একই উপজেলার আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের মোহাম্মদ আলীর ছেলে কামরুল হাসান।
 

শুক্রবার দুপুরে নিহতদের লাশ নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। পরে বিকালে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে বান্দরবনের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতাল প্রাঙ্গনে নির্মাণাধীন একটি ভবনের তৃতীয় তলায় কাজ করার সময় সাকিব ও কামরুল বিদ্যুতায়িত হয়ে মারা যান।
 

তারা দুজনে মাচার ওপর দাঁড়িয়ে ভবনের পলেস্তারার কাজ করছিলেন। এ সময় অ্যালুমিনিয়ামের একটি পাত্রে পলেস্তারার উপকরণ ওপরে তোলা হচ্ছিল। একপর্যায়ে পাত্রটি বিদ্যুতের লাইনের সংস্পর্শে এলে বিদ্যুতায়িত হয়ে যান তারা। এতে দুজন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নিচে পড়ে যান এবং ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।

বান্দরবানের সিভিল সার্জন শাহীন হোসাইন চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, দুই শ্রমিক ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন। তাদের মৃত্যুর ঘটনাটি কাছ থেকে দেখে আরেক সহকর্মী মঈন উদ্দিন অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
 

গণপূর্ত বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী সুমিত রায় জানান, শ্রমিকদের অসতর্কতার কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।

জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মান্না দে বলেন, দুই শ্রমিকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। কাজের সময় প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল কিনা এবং কীভাবে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, তা তদন্ত করে দেখা হবে।

 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/ডেস্ক/এসডি-২৩