প্রকাশিত: ১২ জুন, ২০২৬ ২২:২৭ (শনিবার)
হযরত শাহজালাল ও শাহপরাণ (রহ.) মাজারের দানবাক্সে তালা

ছবি: ফাইল ছবি।

সিলেটের ঐতিহ্যবাহী হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.) মাজারের আয়-ব্যয় ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দানবাক্সে তালা দেওয়া হয়। শুক্রবার (১২ জুন) সিলেট জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এই তালা দেওয়ার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

 

জানা যায়, হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.) মাজার সিলেটের ধর্মীয়, ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতীক। সিলেটের নামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.)-এর নাম। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দেশি-বিদেশি পর্যটক ও হাজার হাজার ভক্ত ও দর্শনার্থীরা মাজারে আসেন। তারা নগদ অর্থের পাশাপাশি স্বর্ণালঙ্কার, গবাদিপশু, খাদ্যসামগ্রী ও বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী দান করেন। প্রতিদিনই লাখ লাখ টাকার দান জমা পড়ে এসব মাজারে। তবে সেই অর্থ কীভাবে পরিচালিত হয়, কোথায় ব্যয় করা হয় কিংবা মোট আয় কত-এসব বিষয়ে কখনোই জনসম্মুখে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই মাজারের আয়-ব্যয় নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন ও কৌতূহল ছিল। তাই এই দুই মাজারের আয়-ব্যয় ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে উদ্যোগ নেয় সিলেট জেলা প্রশাসন।

 

এর আগে শুক্রবার (১২ জুন) বেলা দেড়টার দিকে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার পরিদর্শনে যান সিলেটে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলম। এসময় তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘সিলেটের দুটি বড় ঐতিহাসিক হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরাণ (রহ.) মাজার। আমরা এই দুই মাজারকে কেন্দ্র করে কাজ করছি। আমাদের লক্ষ্য হলো এই দুটি প্রতিষ্ঠানকে একটি সুশৃঙ্খল কাঠামোর আওতায় এনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। এরপর ধাপে ধাপে অন্যান্য মাজারের বিষয়েও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বর্তমানে আমরা এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ মাজারের ব্যবস্থাপনা, কার্যক্রম এবং সার্বিক পরিবেশকে একটি নির্দিষ্ট মানদণ্ডের মধ্যে আনার চেষ্টা করছি। পরবর্তী সময়ে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য বিষয় এবং প্রতিষ্ঠান সম্পর্কেও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

 

মাজার পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পাশাপাশি প্রশাসনের প্রতিনিধিদেরও ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘ইতোমধ্যে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, মাজার পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পাশাপাশি প্রশাসনের প্রতিনিধিরাও ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত থাকবেন। প্রতিদিন কত টাকা আয় হচ্ছে, কোথায় ব্যয় হচ্ছে এবং আর্থিক লেনদেনের সকল তথ্য যথাযথভাবে রেকর্ড ও সংরক্ষণ করা হবে। শাহজালাল (রহ.) মাজার ও শাহপরাণ (রহ.) মাজারের সার্বিক কার্যক্রমের ওপর সরকারের নিয়মিত নজরদারি ও তদারকি অব্যাহত থাকবে।’

 

এক মাসের আয়-ব্যয়ের হিসাব নিরীক্ষার জন্য ওয়াক্‌ফ এস্টেটকে দানবাক্সে তালা দিতে বলা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন শাহজালাল (রহ.) মাজারের মোতোয়াল্লি ফতেহ উল্লাহ আল আমান। তিনি বলেন, ‘প্রশাসন কেন হঠাৎ করে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সে বিষয়ে তারা স্পষ্ট ধারণা পাননি। সভায় অংশগ্রহণের জন্যও পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়নি। আমাদের কথাও শোনতে রাজি হননি জেলা প্রশাসক। আমরা এটা কিভাবে পেলাম এটাও শোনতে রাজি নন। আমাদের একটা কোর্টের রায় আছে। একটা মামলাও চলমান আছে। কিন্তু তিনি আমাদেরকে কথা বলারও সুযোগ দেন নি। আমরা অসহায় হয়ে বসে আছি।’ তিনি  আরও বলেন, ‘আমাদের হিসাবপত্র রয়েছে, তবে সেগুলো উপস্থাপনের জন্য পর্যাপ্ত প্রস্তুতির সুযোগ পাইনি। তাই কিছু বিষয়ে অসঙ্গতি বা অসম্পূর্ণতা থাকতে পারে। তবে আয়-ব্যয় ব্যবস্থাপনা নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।’

 


এর আগের দিন বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সভায় সিলেটের জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম এ নির্দেশনা দেন। সভায় মাজার দুটির পরিচালনা কমিটি, মসজিদ ও মাদ্রাসা কমিটির প্রতিনিধি, মোতাওয়াল্লি, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী এক মাস জেলা প্রশাসন ও ওয়াক্‌ফ এস্টেটের সমন্বয়ে দরগাহর আয়-ব্যয়ের হিসাব যৌথভাবে যাচাই করা হবে। এ সময় দানের উৎস, ব্যয়ের খাত এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা শেষে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

 

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম/ এহিয়া