ছবি: সিলেট ভিউ।
চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে শশুরবাড়ির সম্পত্তি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হত্যাচেষ্টা, মারধর, অপহরণ ও লুটপাটের ঘটনায় দায়ের করা মামলার নারীসহ তিন জন পলাতক আসামিকে সিলেট থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৯)।
শুক্রবার (১২ জুন) দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে সিলেট মহানগরীর এয়ারপোর্ট থানাধীন ০১নং ওয়ার্ডস্থ বড়শালা ফুডপার্কের সামনে থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন, চট্টগ্রাম জেলার কর্ণফুলী থানার শিকলবাহা এলাকার শফিক আহমেদের ছেলে মো. রনি (৩৫), চট্টগ্রাম জেলার বন্দর থানার বন্দরটিলা এলাকার মৃত হাসমত খানের ছেলে মো. ফারুক খান (৫২) ও চট্টগ্রাম কর্ণফুলী থানার শিকলবাহা এলাকার মৃত আব্দুস শুক্করের মেয়ে রুমা আক্তার (৩৫)।
ঘটনার বিবরণ উল্লেখ করে র্যাব জানায়, বাদী হাজী আব্দুল আউয়াল চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের একজন সুপারি ব্যবসায়ী। চট্টগ্রামের হাজী আব্দুল আউয়ালের সঙ্গে তার শ্বশুরের সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ ঘটনায় ১ নম্বর আসামি মো. রনি ও ২ নম্বর আসামি মো. ফারুক খান বাদীর ভায়রা ভাই এবং ৭ নম্বর আসামি রুমা আক্তার ও ৮ নম্বর আসামি শামীমা আক্তার তার শ্যালিকা। গত ৮ জুন ২০২৬ সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা ১৫ মিনিটে আসামিরা অজ্ঞাতনামা ৩০ থেকে ৩৫ জনকে সঙ্গে নিয়ে দেশীয় অস্ত্র, ছুরি ও চাপাতি নিয়ে বাদীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করে। এ সময় তারা বাদীর বোন জামাই মো. শওকত আলী (৪০), বোন শিরিন আক্তার (২৮) এবং দোকানের কর্মচারীদের ওপর হামলা চালিয়ে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে আহত করে। একপর্যায়ে ১ নম্বর আসামি মো. রনি তার হাতে থাকা ধারালো চাপাতি দিয়ে শওকত আলীর মাথায় আঘাত করলে তিনি গুরুতর রক্তাক্ত জখম হন। হামলায় আরও কয়েকজন আহত হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া হামলার সময় ৭ ও ৮ নম্বর আসামি দোকানের ক্যাশবক্স থেকে নগদ ৩২ লাখ ৪০ হাজার টাকা, বিভিন্ন ব্যাংকের চেক বই এবং গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র চুরি করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়। একই সঙ্গে দোকানের কর্মচারী মো. জাহেদ (২২)-কে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার পর হাজী আব্দুল আউয়াল বাদী হয়ে চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটি দায়েরের পর আসামিদের গ্রেফতারে র্যাব ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে।
এরই ধারাবাহিকতায় র্যাব-৯, সিপিএসসি, সিলেটের একটি আভিযানিক দল শুক্রবার (১২ জুন) দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে সিলেট মহানগরীর এয়ারপোর্ট থানাধীন ০১নং ওয়ার্ডস্থ বড়শালা ফুডপার্কের সামনে অভিযান পরিচালনা করে। এসময় চট্টগ্রামের কোতোয়ালী থানার এফআইআর নং- ২১, তারিখ-০৯/০৬/২০২৬ খ্রিঃ, ধারা- ১৪৩/৪৪৮/৩২৩/৩২৪/ ৩২৬/৩০৭/৩৬৫/৩৮০/৫০৬ পেনাল কোড ১৮৬০; এর মূলে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে শশুর বাড়ির সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে হত্যাচেষ্টা মামলার এজাহারনামীয় ১, ২ ও ৭নং পলাতক আসামিদের গ্রেফতার করা হয়।
র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৯) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া ) কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, ‘পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে গ্রেফতারকৃত আসামিদের সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়াও দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র্যাব-৯ এর চলমান গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
সিলেটভিউ২৪ডটকম/ এহিয়া
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.