প্রকাশিত: ১৪ জুন, ২০২৬ ১৭:৩৫ (সোমবার)
‘ঘাটতি ও চমকে ভরা বাজেট সফল করতে ওয়াদা পূরণ জরুরি’

প্রস্তাবিত নতুন বাজেটকে ঘাটতি, চমক ও স্বপ্নে ভরা আখ্যা দিয়ে এটি সফল করতে হলে জাতির সাথে দেওয়া ওয়াদাগুলো পূরণ করার জোর দাবি জানিয়েছে ‘দুর্নীতি মুক্তকরণ বাংলাদেশ ফোরাম’।

অন্যথায় এই বাজেট জনগণের সাথে একটি গণপ্রতারণার দলিল হিসেবে থেকে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

রবিবার (১৪ জুন) গণমাধ্যমে প্রেরিত এক যৌথ বিবৃতিতে দুর্নীতি মুক্তকরণ বাংলাদেশ ফোরামের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইকবাল হোসেন চৌধুরী, স্থায়ী কমিটির সদস্য নেছারুল হক চৌধুরী (বুস্তান) এবং সাধারণ সম্পাদক জননেতা মকসুদ হোসেন এই প্রতিক্রিয়া জানান।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, প্রস্তাবিত এবারের বাজেটে আপাতত কালো টাকা সাদা করার সুযোগ না রাখাটা নিঃসন্দেহে একটি সাধুবাদ যোগ্য সিদ্ধান্ত। তবে অতীতের মতো বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের অজুহাতে যদি অর্থ বিল পাসের সময়ে আবারও কালো টাকা সাদা করার সুযোগ ফিরিয়ে আনা হয়, তবে এই বাজেট হবে কালো টাকা সাদা করার বাজেট এবং দুর্নীতিবিরোধী জনগণের সাথে প্রতারণার শামিল।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই বিশাল বাজেটে বিদ্যমান উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কোনো সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা নেই। জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় সামনে রেখে নতুন পে-স্কেল ঘোষণা করার উদ্যোগ ভালো, তবে এই পে-স্কেল যদি সামঞ্জস্যপূর্ণ করা না যায়, তাহলে দুর্নীতিমুক্ত কর্মসম্পাদন অসম্ভব হয়ে পড়বে।

যেসব সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারী তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির হিসাব নিয়মিত হালনাগাদ করবেন, কেবল তাদেরকেই নতুন পে-স্কেলের আওতাভুক্ত করা উচিত। রাজস্ব বিভাগের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তালিকা তৈরি করে তাদের অবিলম্বে চাকরি থেকে অব্যাহতি দিতে হবে। করদাতাদের হয়রানিমুক্ত কর প্রদানের সুযোগ নিশ্চিত করতে কর ব্যবস্থায় আরও বেশি স্বচ্ছতা আনতে হবে। বাজেটকে ঋণ নির্ভরতা থেকে মুক্ত করে ক্রমান্বয়ে রাজস্ব নির্ভর বাজেটের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

নেতৃবৃন্দ আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই ঘাটতি ও চমকপ্রদ বাজেটকে সফল করতে দুর্নীতি প্রতিরোধ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার ওয়াদাগুলো পূরণ করতে হবে। তবেই এ বাজেট হবে জনবান্ধব, আন্তরিক ও মানবিক; অন্যথায় এটি সাধারণ মানুষের কোনো কল্যাণে আসবে না।
 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/প্রেবি/এসডি-০৬