ছবি: সিলেট ভিউ।
চট্টগ্রামের হাটহাজারী থেকে অপহৃত ১০ম শ্রেণির এক ছাত্রীকে উদ্ধার করেছে সেই সাথে মামলার প্রধান আসামি আরিফুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শনিবার (১৩ জুন) তারিখ আনুমানিক রাত সাড়ে ৯টার দিকে র্যাব-৯ ও র্যাব-৭ এর যৌথ অভিযানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার বাঙ্গুরা বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি আরিফুল ইসলাম (২৬)। সে চট্টগ্রাম জেলার বায়েজিদ থানার ফিরোজের বাড়ি এলাকার মৃত শাহজাহানের ছেলে।
ঘটনার বিবরণ উল্লেখ করে র্যাব জানায়, ভিকটিম চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানার মনচুপ আলীর বাড়ি এলাকার বাসিন্দা এবং স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী। ভিকটিমের মা জান্নাতুল ফেরদৌসের সঙ্গে রেহেনা বেগমের পরিচয়ের সূত্র ধরে তার ছেলে আরিফুল ইসলামের সঙ্গে মেয়ের বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়। তবে ভিকটিম নাবালিকা হওয়ায় তার মা ওই প্রস্তাবে সম্মতি দেননি। এরপর অভিযুক্তরা কৌশলে ভিকটিমের পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলে এবং নিয়মিত তাদের বাড়িতে যাতায়াত শুরু করে। গত ৬ মে মো. আনোয়ার ও রেহেনা বেগম ভিকটিমের বাড়িতে গিয়ে তাকে আরিফুল ইসলামের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। এ সময় বিয়ে দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা ভিকটিমকে অপহরণ করে নেওয়ার হুমকিও দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ মে সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে ভিকটিম নাস্তা কিনতে বাড়ি থেকে বের হলে পূর্ব থেকে ওঁৎ পেতে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি তাকে জোরপূর্বক একটি কালো রঙের মাইক্রোবাসে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে। ভিকটিমের চিৎকার শুনে তার মা এগিয়ে এলে তাকে মারধর করে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং ভিকটিমকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনার পর ভিকটিমের মা হাটহাজারী মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর র্যাব ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে।
এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার (১৩ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে র্যাব-৯, সিপিসি-১, ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং র্যাব-৭, সিপিসি-১, ফেনীর সমন্বয়ে গঠিত একটি যৌথ আভিযানিক দল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর থানার বাঙ্গুরা বাজার এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে চট্টগ্রামের হাটহাজারী মডেল থানার মামলা নং-১০, তারিখ ০৬ জুন ২০২৬, ধারা ৩৬৬/৩৬৮/৫০৬(২)/৩৪-এর প্রধান আসামি আরিফুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয় এবং অপহৃত স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়।
র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৯) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া ) কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, ‘পরবর্তী আইনিনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে গ্রেফতারকৃত আসামি ও উদ্ধারকৃত ভিকটিমকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়াও দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র্যাব-৯ এর চলমান গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
সিলেটভিউ২৪ডটকম/ এহিয়া
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.