প্রকাশিত: ১৪ জুন, ২০২৬ ২৩:৪০ (সোমবার)
আসুন বিশ্বকাপ দেখি, ভেদাভেদ ভুলে মহানন্দে মাতি

ফুটবল বিশ্বকাপ : সমর্থক হওয়া কিংবা  না হওয়া ও নেদারল্যান্ডস এর নৈপুণ্য এবং মেনটর আহাদ স্যার সম্পর্কীত কিছু কথা ও ব্যক্তিগত অনুভূতি তুলে ধরছি।

আমি খেলা দেখি সারা বছর। ফুটবল, ক্রিকেট, লন টেনিস। ফুটবলের ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগ, লা লীগা, সিরি-এ কিংবা আফ্রিকা- আমেরিকা মহাদেশেরও। আমার কাছে মনে হয় বিশ্বকাপ ফুটবল খেলায় স্টারদের সমন্বয় হয় বিছিন্ন ভাবে। আর লীগে থাকে সমন্বিত ভাবে। এতে প্রচুর ব্যয়বহুল টিমের খেলার বাড়তি সৌন্দর্য ও ক্রিড়া নৈপুন্য পাওযা যায়।  সারা বছর লীগে খেলার পর দেশের টিমে এসে স্টার প্লেয়াররা খেলতে গিয়ে কিছুটা হোঁচট খান। ফলে অনেকে টিম মিট না থাকায় নৈপুণ্য দেখাতে  ব্যর্থ হন। 

 

বিশ্বকাপ ফুটবল দেখি আশির দশকের শুরু থেকে। তখন থেকে দৈনিকের সাহিত্য পাতায় নিয়মিত ও খেলার পাতায় অল্প - স্বল্প চোখ বুলানো শুরু। খেলা দেখার সুযোগ ছিল সামান্য, নিজের ও নিজের বোধেরও ছিল সীমাবদ্ধতা। নতুন প্রজন্ম বুঝবেইনা প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতার অসহায়ত্বের কথা। তো বলছিলাম সে সময়কার খেলা দেখার কথা। তখন সমর্থক হওয়া না হওয়া নিয়ে এত হুলুস্থূল কাণ্ড হতোনা। যাঁরা বোদ্ধা দর্শক তাঁদের অবস্থান ছিল আলাদা। তখনকার সময়ে কোন টিমের পারফর্মেন্স কি রকম তাঁরা জানতেন। এসবের ব্যাখা বিশ্লেষণ করতেন তাঁরা। 

 

এসব জানার ক্ষেত্রে মহর্ষি পর্যায়ের ছিলেন আহাদ স্যার। এমসি কলেজের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ স্যার খেলাধুলা সম্পর্কীত বিষয়ে বিশেষত বিশ্বকাপ বিষয়ে  কোন টিমের পারফর্মেন্স কিরকম ও প্লেয়ারদের মান নিয়ে জানার পরিধি ছিল তাঁর পাণ্ডিত্যের পর্যায়ের। স্যারের তখনকার কথাবার্তা এখনো বিশ্বকাপ আসলেই আমার কানে বাজে।  বিভিন্ন দেশের টিমের নাড়িনক্ষত্র জানতেন। ইসলামি ও এশিয়া বা  আফ্রিকার দেশগুলোর প্রতি স্যারের আগ্রহ ছিল বেশি। অর্থনীতির অধ্যাপক হলেও ইংরেজিতে দখল ছিল অসাধারণ। উচ্চ মাধ্যমিক, স্নাতক, সুস্নাতক ও এমএ পর্যায়ের স্যারের লেখা বই ছিল ইংরেজিতে। ডিগ্রিতে বাংলা মাধ্যম এসে যাওয়ায় স্যারের বইয়ের কাটতি কমে যায়। এখন বুঝি ক্রিড়া বিষয়ক ইংরেজি ম্যাগাজিন স্যার পড়তেন। তখনকার ক্রিকেট নিয়ে যা বলতেন তা বুঝতামনা শুধু মাথা নাড়াতাম। তো সেই থেকে স্যার আমাকে খেলা দেখার ও পড়ার প্রতি আগ্রহী করে তুললেন। এই মরক্কো টিমের পারফরম্যান্স তখনও একেবারে খারাপ ছিলোনা। আশির দশকের মরক্কো টিমের পারফরম্যান্সও অসাধারণ ছিল। আফ্রিকা ও এশিয়ার মুসলিম দেশগুলোর টিম নিয়ে  আহাদ স্যারের অনেক উচ্ছাসা ছিল। খেলা দেখায় আগ্রহী করার পেছনে আমার মেনটর শ্রদ্ধেয়  আহাদ স্যার এখন বিলাত বা মার্কিনে বসবাস করেন। স্যারের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করি।

 

সেসময় এক পর্যায়ে আমিও সমর্থকের দলে তরী ভিড়ালাম। আমার প্রিয় টিম হয়ে গেল নেদারল্যান্ডস। একবার বিশ্বকাপেই আসতে পারেনি। সিলেটে মিডিয়া কাপ হয়। সেখানে আর্জেন্টিনা - ব্রাজিল টিম হয় আমি আর্জেন্টিনা টিমে ভিড়ে যাই। নেদারল্যান্ডস বহুদূর যেতে পারেনা, তখন কালো মানুষের প্রতিবেশী হই,  কখনো গরীবের পক্ষে, কখনো এশিয়া এইসব নান্দিবিন্দি করি আর অভিসম্পাত করি নেদারল্যান্ডস কে বেটারা আর এগুতে পারলিনা। ইংল্যান্ডের প্রতি সফট কর্নার রাখি। ভাই বেরাদার থাকায় তাদের কিছু খাই পরি এমনকি একবার গিয়েছিও। তারাও বেশিদূর যেতে পারেনা। তো আমি মূলত: লা লীগা, প্রিমিয়ার লীগ বা ইউরোপ, আফ্রিকা,  আমেরিকার ক্লাব ও  দেশগুলোর বছরব্যাপী বিভিন্ন খেলা দেখে অভ্যস্ত বা খেলা দেখার বেমারী। দেশের ফুটবল - ক্রিকেট নিয়ে মজে থাকি। সে এক অপরিসীম আনন্দ। বিশ্বকাপ এনে দেয় মহানন্দ। আসুন আপন দলের অনুরাগ নিয়ে  ভেদাভেদ ভুলে, নাওয়া-খাওয়া-নিদ্রার ব্যাঘাত কম ঘটিয়ে  বিশ্বকাপ দেখি। মহানন্দে মাতি।

 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/ এহিয়া