প্রকাশিত: ১৫ জুন, ২০২৬ ২১:১৯ (মঙ্গলবার)
ইকবাল মনসুর ও আবুল মোহাম্মদের পরিবারের খোঁজ-খবর নিলেন সাংবাদিক মতিউল বারী

প্রয়াত দুই সাংবাদিক ইকবাল মনসুর ও আবুল মোহাম্মদের পরিবারের সদস্যদের খোঁজ-খবর নিয়েছেন সিলেট মহানগর বিএনপির যুগ্ম- সাধারণ সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিক মতিউল বারী চৌধুরী খুর্শেদ। একইদিনে তিনি প্রয়াত সংবাদপত্রকর্মী হাফিজুল ইসলামের বাসাতেও যান।

শনিবার (১৩ জুন) রাতে প্রথমে যান নগরীর মাছিমপুরে সাংবাদিক আবুল মোহাম্মদের বাসায়; সেখানে তিনি আবুল মোহাম্মদের সহধর্মিণী, সন্তান ও পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলেন। কুশলাদি বিনিময় করেন।

পরে রাত ৯টায় নগরীর কানিশাইল এলাকায় সাংবাদিক ইকবাল মনসুরের বাসাতে যান। সেখানে মনসুরের বৃদ্ধা মাতাসহ অন্য সদস্যদের সাথে কথাবার্তা বলেন, মায়ের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন। পরে নগরীর শিবগঞ্জ হাতিমবাগে প্রয়াত সংবাদপত্রকর্মী হাফিজুল ইসলামের বাসাতেও গিয়ে খোঁজ-খবর নেন।

এসময় সিনিয়র সাংবাদিক মতিউল বারী বলেন, ‘‘সিলেটের সাহসী আলোকচিত্র সাংবাদিক ছিলেন ইকবাল মনসুর। ঠিক তেমনি আবুল মোহাম্মদও (আবুল হোসেন) ছিলেন সাহসী। দু’জনই মৃত্যুর পূর্বদিন পর্যন্ত সাংবাদিকতা পেশায় ছিলেন। সততা-নিষ্টার সাথে সাংবাদিকতা চালিয়ে নিতে তারা পরিবার-পরিজনকে উন্নত জীবন-যাপন থেকে বঞ্চিত করেছেন। চাইলেই অন্য কোনো পেশা বা ব্যবসায় যেতে কিংবা প্রবাসে উন্নত জীবনে যেতে পারতেন। কিন্তু সমাজের প্রতি, মানু্ষের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই ইকবাল মনসুর ও আবুল মোহাম্মদ সাংবাদিকতা ছাড়তে পারেননি। শত টানাপোড়নেও আমৃত্যু জনসেবামূলক সাংবাদিকতাই করে গেছেন। আবুল মোহাম্মদ সাংবাদিকতার পাশাপাশি একজন সমাজসেবক ছিলেন। তিনি বিভিন্ন সংগঠনের মাধ্যমে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত নারী-পুরুষদের পাশে দাঁড়াতেন। আর এজন্যই সরকার, প্রশাসনসহ সমাজের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের দায়বদ্ধতা আছে প্রয়াত দুই সাংবাদিকের রেখে যাওয়া পরিবারের প্রতি।’’

মতিউল বারী চৌধুরী আরও বলেন, প্রয়াত ইকবাল মনসুর ও আবুল মোহাম্মদের পরিবারের খোঁজ-খবর রাখা সকল সহকর্মীর দায়িত্ব-কর্তব্য। সেই তাগিদ থেকেই আমরা এসেছি। আমি মনেকরি সকল প্রয়াত সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীর পরিবারের প্রতি সরকারের দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের সুনজর রাখা উচিত। আহ্বান জানাবো মরহুম সাংবাদিকদের পরিবারের প্রতি সরকারের পক্ষ থেকে প্রণোদনাস্বরূপ আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হোক। তাদের সন্তানদের মধ্যে থেকে অন্তত একজনকে সরকারি- আধা সরকারি চাকুরির ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হোক। সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট এক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারে। তারা দেশব্যাপী সকল প্রয়াত সাংবাদিকদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে পারে। এ ট্রাস্টের অনেক টাকা বিগতদিনে অপব্যবহার হয়েছে। অনেক টাকা অযোগ্যদের পকেটে ঢুঁকেছে। এ ট্রাস্টে অনেক টাকা অলস পড়ে থাকে। এসব কাজে লাগানো উচিত।

এসময় অন্যদের মধ্যে ছিলেন- সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সাবেক কোষাধ্যক্ষ ও দৈনিক একাত্তরের কথা’র বার্তা সম্পাদক মিসবাহ উদ্দীন আহমদ, সিলেট পেশাজীবী পরিষদের নেতা ও সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক জামিল আহমদ।

 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/প্রেবি/এসডি-১৮