বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), সিলেট জেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত “সিলেটের পরিবেশ ও প্রকৃতির সুরক্ষা: সংকট ও সুপারিশ” শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে অংশগ্রহণ করেছে মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি জিওগ্রাফি অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটি (মুগাস)।
সোমবার (১৫ জুন) সিলেটের পূর্ব জিন্দাবাজারস্থ একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত এ গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক, পরিবেশবিদ, সাংবাদিক, সিভিল সোসাইটির প্রতিনিধি এবং পরিবেশভিত্তিক সংগঠনের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং লিডিং ইউনিভার্সিটির শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও এ আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনায় সিলেট অঞ্চলের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, নদী ও জলাভূমি রক্ষা, পাহাড় ও বনাঞ্চল সংরক্ষণ, অবৈধ বালু উত্তোলন, পাহাড় কাটা এবং পরিকল্পনাহীন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় করা হয়।
মুগাসের প্রতিনিধিরা সড়ক উন্নয়নের সময় অপ্রয়োজনীয় বৃক্ষনিধন বন্ধ, রাস্তার পাশে পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণ, পর্যটন এলাকাগুলোর সংযোগ সড়কের পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন এবং টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিশেষ করে টিলাগড় থেকে বটেশ্বর পর্যন্ত সড়কের পাশের বৃক্ষ সংরক্ষণ, ভোলাগঞ্জ-উৎমাছড়া সড়ক উন্নয়ন এবং পরিকুণ্ড পর্যটন এলাকার পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার বিষয়টি আলোচনায় তুলে ধরা হয়।
গোলটেবিল বৈঠকে মুগাসের জেনারেল মেম্বার হিসেবে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের কবির আহমেদ, তানিয়া সুলতানা ও তিলোত্তমা দেব অংশগ্রহণ করেন। ব্যবসায় প্রশাসন (বিবিএ) বিভাগের ভূমি কর শ্রেয়াও উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি মুগাসের হেড অব আইটি এবং কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের জীবন চক্রবর্তী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
মুগাসের সভাপতি ও মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির ইইই বিভাগের সিনিয়র লেকচারার আহমেদ ইসতিয়াকুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ ও সিএসই বিভাগের লেকচারার ইসরার নাজাহ্ চৌধুরী এবং ছাত্র উপদেষ্টা প্রিতম পাল পরিবেশ সংরক্ষণে তরুণদের সম্পৃক্ততা, গবেষণাভিত্তিক উদ্যোগ এবং পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
বক্তারা বলেন, সিলেটের পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য, নদী, হাওর, জলাভূমি, পাহাড় ও বনাঞ্চল রক্ষায় সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পরিবেশ সংগঠন এবং সাধারণ জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। একইসঙ্গে উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে একটি টেকসই ও বাসযোগ্য সিলেট গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান তানভীর এম. ও. রহমান চৌধুরীর পরিবেশবান্ধব ও টেকসই উন্নয়ন বিষয়ক দৃষ্টিভঙ্গিও আলোচনায় গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করা হয়।
প্রসঙ্গত, মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি জিওগ্রাফি অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটি (মুগাস) বিশ্বাস করে, সকলের সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমেই একটি সবুজ, নিরাপদ ও টেকসই সিলেট গড়ে তোলা সম্ভব।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/আরআই-কে
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.