যুক্তরাজ্যের পূর্ব লন্ডনে এনসিপি কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) ও জুলাই আন্দোলনের অন্যতম মুখ হাসনাত আব্দুল্লাহকে সম্মান জানিয়ে আয়োজিত এক শুভেচ্ছা অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
আয়োজকদের দাবি, আওয়ামী লীগ সমর্থক হিসেবে পরিচিত কিছু ব্যক্তি অনুষ্ঠানস্থলের বাইরে বিক্ষোভ ও বিশৃঙ্খলার চেষ্টা চালায়। তবে পুলিশি নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে অনুষ্ঠান নির্ধারিতভাবে সম্পন্ন হয়।
স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় পূর্ব লন্ডনের মায়েদা গ্রিল ব্যাংকুইটিং হলে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের আগে হোয়াইটচ্যাপেল ও পূর্ব লন্ডনের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভকারীদের উপস্থিতি দেখা যায়। একই দিনে বিকেলে লন্ডনের রমফোর্ড এলাকায় হাসনাত আব্দুল্লাহকে লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপ ও ধাওয়া দেওয়ার অভিযোগও ওঠে।
অনুষ্ঠানস্থলের বাইরে একদিকে বিক্ষোভকারীদের স্লোগান, অন্যদিকে এনসিপি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমর্থকদের পাল্টা অবস্থান উত্তেজনা বাড়ায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায় এবং নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্য দিয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহ অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করেন।
বক্তব্যের শুরুতে হাসনাত আব্দুল্লাহ সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহের প্রসঙ্গ তুলে রাজনৈতিক বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে জনগণ এবং রাজনৈতিক জবাবদিহিতা জনগণের কাছেই থাকতে হবে।
তিনি জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে দাবি করেন, আন্দোলনে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিয়েছিলেন এবং প্রবাসীদের সমর্থন এ আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
প্রবাসীদের অভিজ্ঞতার বিষয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, দেশের বিমানবন্দর ও সরকারি সেবায় মর্যাদাপূর্ণ আচরণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তিনি ভবিষ্যতে বিশেষ সুবিধা গ্রহণ না করার অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন এবং সকল নাগরিকের জন্য সমতা ও সম্মানভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থার কথা তুলে ধরেন।
তিনি আরও বলেন, প্রবাসীদের হয়রানি বন্ধ, বিমানবন্দরে সেবার মানোন্নয়ন এবং আঞ্চলিক অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়ে কাজ করার প্রয়োজন রয়েছে। পাশাপাশি তিনি এমন একটি বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, যেখানে বিদেশে যাওয়া মানুষের একমাত্র স্বপ্ন হয়ে না দাঁড়ায়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এনসিপি অ্যালায়েন্স ইউকের আহ্বায়ক মাকসুদুল হক শাকুর। এতে বক্তব্য দেন কমিউনিটির ব্যক্তিত্ব ব্যারিস্টার আতাউর রহমান, ব্যারিস্টার নাজির আহমদ, জামায়াতের মুখপাত্র আবু বকর মুল্লাহ, সাবেক কাউন্সিলর সাইফ উদ্দিন খালেদ, এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা এহতেশামুল হক, ব্যারিস্টার জুনায়েদসহ কমিউনিটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
এদিকে অনুষ্ঠানস্থলের বাইরে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার ঘটনায় পুলিশ কয়েকজনকে আটক করেছে বলে আয়োজক সূত্রে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/শামীম/এসডি-০৩
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.