প্রকাশিত: ১৭ জুন, ২০২৬ ০০:০০ (মঙ্গলবার)
সিলেটে যে জালে জড়িয়ে সর্বশান্ত হচ্ছেন নিম্ন আয়ের মানুষ

ছবি: এআই।

সিলেটে শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে অনলাইন জুয়ার চক্র। সাধারণ মানুষকে দ্বিগুণ লাভের লোভ দেখিয়ে তারা হাতিয়ে নিচ্ছে টাকা। আগে শহরকেন্দ্রিক এই চক্রের তৎপরতা থাকলেও এখন গ্রামেও এজেন্ট নিয়োগ দিয়ে প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছে তারা। লোভের ফাঁদে পড়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন নিম্ন আয়ের সহজ-সরল মানুষ।

 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সিলেট নগরীর অন্তত অর্ধশত স্থানে অনলাইন জুয়ার আসর বসে। চক্রের সদস্যরা নির্দিষ্ট সময়ে আসর বসিয়ে নিম্ন আয়ের মানুষকে জুয়া খেলার সুযোগ করিয়ে দেন। খেলায় জিতলে নূন্যতম দ্বিগুণ লাভের লোভ দেখিয়ে তারা মানুষকে প্রথমে জুয়ায় আগ্রহী করে। একপর্যায়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আসক্ত হয়ে পড়েন। এছাড়াও সিলেট নগরীর বিভিন্ন স্থানে জুয়াড়ি চক্রের সদস্যরা নানা কৌশলে মানুষকে জুয়া খেলায় আসক্ত করার চেষ্টা চালান। মোবাইল ফোনে অ্যাপস ডাউনলোড করে দেওয়ার মাধ্যমে শুরু হয় জুয়ায় আসক্তির প্রথম ধাপ। একপর্যায়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নিজে থেকেই আসক্ত হয়ে পড়েন।

 

সূত্র জানায়, অনলাইন জুয়ার নামে হাতিয়ে নেওয়া টাকার একটি নির্দিষ্ট ভাগ সংশ্লিষ্ট এজেন্ট পেয়ে থাকেন। শতকরা ২৫-৪০ ভাগ টাকা পেয়ে থাকে এজেন্ট। বাকি টাকা থেকে যায় মুলচক্রের হাতে। অ্যাপসভেদে কমিশনের হার কমবেশি হয়ে থাকে। আগে সিলেট নগরকেন্দ্রিক ছিল প্রতারক এই চক্রের কার্যক্রম। এখন তা ছড়িয়ে গেছে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত। এজেন্টদের মাধ্যমে গ্রামের সহজ-সরল মানুষকেও তারা আকৃষ্ট করছে জুয়ার জালে।

 

নিজস্ব গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার মোরারবাজার এলাকায় একটি অনলাইন জুয়া চক্রের সন্ধান পায় র‌্যাব। গত রবিবার রাতে ওই চক্রের সদস্যদের ধরতে র‌্যাবের একটি দল অভিযান চালায়। এসময় র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে চক্রের কয়েকজন সদস্য পালিয়ে যায়। ধরা পড়ে চক্রের পাঁচ সদস্য। আটককৃতরা হলো- বালাগঞ্জ উপজেলার নিজগহরপুরের মো. ছুরাব আলীর ছেলে বুরহান হোসেন নাছির (৩৩), একই গ্রামের মৃত গউছ আলীর ছেলে ময়নুল ইসলাম (২৮) ও আব্দুল সাত্তারের ছেলে শাহেদ আহমদ (৪৫), আহম্মদপুর গ্রামের গউছ আলীর ছেলে খলকু মিয়া (৩২), হায়দরপুরের তফুর মিয়ার ছেলে আখতার হোসেন (৩০)।

 

র‌্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা জানায়, তারা বিভিন্ন অনলাইন অ্যাপের মাধ্যমে জুয়ার কার্যক্রম পরিচালনা করে। এসব প্ল্যাটফর্মে অল্প টাকায় বেশি লাভের প্রলোভন দেখিয়ে মানুষকে যুক্ত করে কমিশন পায় তারা। কিছু অ্যাপসের মাধ্যমে তারা মানুষকে দ্বিগুণ লাভের প্রলোভন দেখিয়ে থাকে।

 

র‌্যাব-৯ এর মিডিয়া অফিসার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেফতারে গোয়েন্দা তৎপরতা চালানো হচ্ছে।

 

 

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম/ শাদিআচৌ