প্রকাশিত: ১৬ জুন, ২০২৬ ২০:২২ (মঙ্গলবার)
বি*ত*র্কি*ত মন্তব্যে পদ হারালেন ছাত্রদল নেতা অমি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর গাজীপুর মহানগর ছাত্রদলের এক নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।


একই ঘটনায় আরও এক নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছে দল। এদিকে বহিষ্কৃত নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, অপহরণ ও নির্যাতনের অভিযোগে থানায় লিখিত অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে।

 

সোমবার (১৫ জুন) গাজীপুর মহানগর ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক বোরহান উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি রোহানুজ্জামান শুক্কুর ও সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান মিরণের নির্দেশনায় এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়।
 

বহিষ্কৃত নেতা হলেন গাজীপুর মহানগর ছাত্রদলের ৫১ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি রাতুল সিকদার অমি। একই সঙ্গে মহানগর ছাত্রদলের ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক কাওসার আহমেদকেও দলীয় পদ ও প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিও ক্লিপে রাতুল সিকদার অমির কণ্ঠ বলে দাবি করা একটি বক্তব্য ভাইরাল হয়। সেখানে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘এটা আমার বাড়ির রোড। এখানে স্বয়ং তারেক রহমান আসলেও কাজ হবে না। আপনি তো পাপ্পু সরকারের কথা বলছেন, এখানে প্রধানমন্ত্রী আসলেও কাজ হবে না।’
 

অডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে শুরু হয় তুমুল আলোচনা-সমালোচনা।

অডিও বিতর্কের মধ্যেই রাতুল সিকদার অমির বিরুদ্ধে টঙ্গী পশ্চিম থানায় চাঁদাবাজি, অপহরণ ও নির্যাতনের অভিযোগ এনে লিখিত আবেদন করেছেন বাংলাদেশ পোশাক শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মো. মাজহারুল ইসলাম।
 

অভিযোগে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে রাতুল ও তার সহযোগীরা বিভিন্ন অজুহাতে তার কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। দাবি অনুযায়ী টাকা না দেওয়ায় তাকে হুমকি দেওয়া হয়।

লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর রাতে অফিস থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে তাকে একটি স্থানে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ৬৫ হাজার টাকা আদায় করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

 

এছাড়া বিভিন্ন সময়ে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রায় দেড় লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। অফিস পরিবর্তনের পরও অভিযুক্তরা নতুন কর্মস্থলে গিয়ে পুনরায় চাঁদা দাবি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এ বিষয়ে বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা রাতুল সিকদার অমির বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া মেলেনি।

গাজীপুর মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি রোহানুজ্জামান শুক্কুর বলেন, ‘ভাইরাল হওয়া অডিও রেকর্ডটি নিয়ে দলের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’
 

চাঁদাবাজির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে জেনেছি। এটি সম্পূর্ণ আইনগত বিষয়। তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা উদঘাটন হবে।’

টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি আরিফুর রহমান বলেন, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/ডেস্ক/এসডি-২০