প্রকাশিত: ১৯ জুন, ২০২৬ ০০:০০ (শুক্রবার)
সিলেটে একসূতোয় বাঁধা যে তিন পর্যটনকেন্দ্র

ছবি: এআই।

সিলেটের পর্যটন খাতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলতে যাচ্ছে একটি ব্যতিক্রমী সড়ক প্রকল্প। পর্যটকদের দীর্ঘ যাত্রা, সময় অপচয় ও অতিরিক্ত ব্যয় কমাতে ভোলাগঞ্জের সাদাপাথর, বিছনাকান্দি ও জাফলংকে একই সড়ক নেটওয়ার্কের আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি)। প্রায় ৩২ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সংযোগ সড়ক নির্মিত হলে সীমান্তঘেঁষা পাহাড়, নদী, চা-বাগান ও পাথুরে জলধারার মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মধ্য দিয়ে গড়ে উঠবে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন রুট।

 

জানা গেছে, বর্তমানে সাদাপাথর থেকে জাফলং যেতে হলে পর্যটকদের সিলেট শহর হয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়। এতে সময় ও যাতায়াত ব্যয় দুটিই বেড়ে যায়। তবে নতুন সড়ক নির্মাণ শেষ হলে সিলেট শহরে না গিয়েই সরাসরি সাদাপাথর, বিছনাকান্দি ও জাফলং ভ্রমণ করা সম্ভব হবে। ফলে পর্যটকদের ভোগান্তি যেমন কমবে, তেমনি সহজ ও স্বল্প ব্যয়ে একসঙ্গে তিনটি জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র ঘুরে দেখার সুযোগ তৈরি হবে।

 

এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পের আওতায় ১৯ দশমিক ৫ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের মাধ্যমে ভোলাগঞ্জের সাদাপাথর ও বিছনাকান্দির মধ্যে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি রাধানগর থেকে জাফলং পর্যন্ত আরও ১৩ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। পুরো রুটজুড়ে চারটি সেতুও নির্মাণ করা হবে।

 

এ বিষয়ে এলজিইডির সিলেট কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন খান বলেন, ‘আগামী বছরের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়ে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে সিলেটের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রকে একটি সমন্বিত সড়ক নেটওয়ার্কের আওতায় আনার পরিকল্পনাও রয়েছে।’

 

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, নতুন এই সড়কের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হবে এর নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক পরিবেশ। ভারতীয় মেঘালয় সীমান্তঘেঁষা পুরো পথজুড়ে থাকবে পাহাড়ের সারি, পিয়াইন ও ধলাই নদীর স্বচ্ছ জলধারা এবং সবুজে ঘেরা গ্রামীণ জনপদ। পথের বিভিন্ন অংশ থেকে দেখা যাবে সাদাপাথরের সাদা পাথরে মোড়া নদী, বিছনাকান্দির পাথুরে জলপ্রবাহ এবং জাফলংয়ের ডাউকি নদীর মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঝরনা, মেঘের ভেলা ও সবুজ প্রকৃতির মেলবন্ধনে সড়কটি দেশের অন্যতম দর্শনীয় পর্যটন রুটে পরিণত হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/ এহিয়া