প্রকাশিত: ২০ জুন, ২০২৬ ০০:০০ (শনিবার)
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সুখবর

সরকারি চাকরিজীবীদের অবসরকালীন আর্থিক সুরক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে ২০১৫ সালে পেনশন ব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কার আনে সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে পেনশনযোগ্য চাকরিকাল, পেনশনের হার, আনুতোষিক (গ্র্যাচুইটি), পারিবারিক পেনশন এবং ছুটি নগদায়নে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়।


পেনশনযোগ্য চাকরিকাল কমিয়ে ৫ বছর

নতুন নীতিমালায় পেনশন পাওয়ার জন্য ন্যূনতম চাকরিকাল ১০ বছর থেকে কমিয়ে ৫ বছর নির্ধারণ করা হয়। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ পেনশনের হার শেষ বেতনের ৮০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৯০ শতাংশ করা হয়।

এতে দীর্ঘদিন চাকরি করা সরকারি কর্মচারীরা অবসরের পর তুলনামূলকভাবে বেশি আর্থিক সুবিধা পাওয়ার সুযোগ পান। ৫ থেকে ২৫ বছর বা তার বেশি চাকরিকালের জন্য ধাপে ধাপে পেনশন হার নির্ধারণ করা হয়, যেখানে ২৫ বছর বা তদূর্ধ্ব চাকরিতে সর্বোচ্চ ৯০ শতাংশ পেনশন প্রযোজ্য।

তবে ৫ থেকে ২৪ বছর চাকরিকাল সাধারণভাবে নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে প্রযোজ্য—যেমন চাকরিরত অবস্থায় মৃত্যু, মেডিকেল বোর্ড কর্তৃক স্থায়ী অক্ষমতা বা পদ বিলুপ্তির কারণে চাকরি হারানো।

অবসরভোগীদের পেনশন বৃদ্ধি

২০১৫–১৬ অর্থবছর থেকে অবসরপ্রাপ্তদের জন্য পেনশন বৃদ্ধির সিদ্ধান্তও কার্যকর হয়। ৬৫ বছরের কম বয়সীদের ক্ষেত্রে ৪০ শতাংশ এবং ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সীদের ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ পেনশন বৃদ্ধি করা হয়। পাশাপাশি মাসিক ন্যূনতম পেনশন ৩ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়।

আনুতোষিক ও মৃত্যুজনিত সুবিধা

পেনশনযোগ্য চাকরিকাল কমানোর ফলে গ্র্যাচুইটি (আনুতোষিক) কাঠামোতেও পরিবর্তন আনা হয়। ৫ থেকে ৯ বছর চাকরিকালের ক্ষেত্রে প্রতি ১ টাকা পেনশনের বিপরীতে ২৬৫ টাকা আনুতোষিক নির্ধারণ করা হয়।

এ ছাড়া চাকরির মেয়াদ ৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই কোনো কর্মচারী মৃত্যুবরণ করলে বা স্থায়ীভাবে অক্ষম হয়ে পড়লে তার পরিবার বিশেষ আর্থিক সহায়তা পাওয়ার বিধান রাখা হয়। প্রতিটি পূর্ণ বছরের জন্য শেষ তিন মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ এককালীন সহায়তা হিসেবে দেওয়া হবে।

পারিবারিক পেনশনে শর্ত শিথিল: পারিবারিক পেনশন ব্যবস্থায়ও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়। বিধবা স্ত্রীদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বয়সের পর পুনর্বিবাহ না করার অঙ্গীকারনামার শর্ত শিথিল করা হয়। একই সঙ্গে প্রয়োজনে মৃত নারী কর্মচারীর স্বামীও পারিবারিক পেনশন পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করবেন বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

ছুটি নগদায়নে বড় সুবিধা: সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের একটি হলো ছুটি নগদায়ন সুবিধা বৃদ্ধি। আগে যেখানে সর্বোচ্চ ১২ মাসের ছুটি নগদায়ন করা যেত, সেখানে তা বাড়িয়ে ১৮ মাস করা হয়। ফলে অবসরের সময় কর্মচারীরা বেশি আর্থিক সুবিধা পাওয়ার সুযোগ পান।

কার্যকারিতা ও মূল্যায়ন: প্রজ্ঞাপনটি ২০১৫ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরা হয় এবং ওই সময় পিআরএলে থাকা কর্মচারীরাও নতুন সুবিধার আওতায় আসেন।


 

সিলেটভিউ২৪ডটকম/ডেস্ক/এসডি-১০