ছবি: সংগৃহিত
সিলেটে এখনো তারা বহাল তবিয়তে আছে। তবে চলছে কৌশলে, যাতে কোনো ক্ষতির মুখে পড়তে না হয়। তারা হচ্ছে ব্যাটারিচালিত রিকশাওয়ালা। সিলেট মহানগর এলাকায় তাদের চলাচলের ক্ষেত্রে কঠোর নিষেধাজ্ঞার পর সৃষ্ট পরিস্থিতিতে তারা কৌশল অবলম্বন করে চলছে।
সিলেটের রাজপথে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচলের বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রায় এক বছর হতে চলেছে। শুরুর দিকেতো বিষয়টিকে যুদ্ধ হিসাবে দেখেছেন উভয়পক্ষ, চালক এবং প্রশাসন। এক পর্যায়ে ব্যাপক ধরপাকড়ের মধ্যে অনেক চালককে তাদের রিকশা ট্রাক ভাড়া করে সরিয়ে নিতে দেখা গেছে। কোনো কোনো চালক তাদের রিকশা ভেঙে গুড়িয়ে দেন। কাউকে কাউকে আবার তাদের রিকশা পুড়িয়ে ফেলতে দেখা গেছে।
কিন্তু এরমধ্যেও একদল চালক ছিলেন, যারা প্রশাসনের চোখে ধুলো দিয়ে নিজের কাজ চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। তবে তাদের ধরপাকড়ের মুখে পড়তে হয়েছে। সম্প্রতি আটক এসব রিকশা চালক ও মালিকদের ‘মহানগর এলাকায় না চালানোর’ লিখিত প্রতিশ্রæতির পর তাদের রিকশা ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এরপর আবার দেখা গেছে, নগরজুড়ে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলছে। এ পর্যায়ে এসে অতি সম্প্রতি সিলেট মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে গণবিজ্ঞপ্তি দিয়ে সতর্ক করা হয়েছে, এবার ধরা পড়লে আর রক্ষা নেই। ফেরত দেওয়াতো হবে-ই না, বরং সাথে সাথে এ জাতীয় যানবাহন ধ্বংস করা হবে।
এরপর থেকে তারা আরও সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। চলাচল করছে গলিপথে,পাড়া মহল্লায়। এতে যে ঝুঁকি নেই তা নয়। ঝুঁকি আছে। কিন্তু তারা বেপরোয়া। পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রধান প্রধান কয়েকটি সড়ক বাদ দিয়ে অন্যান্য সড়কে যথারীতি তারা তাদের রাজত্ব চালিয়ে যাচ্ছে।
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার মিজান মিয়া (৪৮)। ৪ সন্তান, মা ও স্ত্রীসহ তার সংসার নির্ভর করছে এই যানবাহন চালিয়ে আয় করা টাকায়। বছরখানেক আগে যখন ব্যাপক ধরপাকড় শুরু হয়েছিল, তিনি নিজের গাড়িটি নিয়ে শহর ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। কিন্তু এখন আবার ফিরে এসেছেন।
বললেন, গ্রামর রাস্তাত চালাইয়া অয়না। খাইয়া না খাইয়া থাকতে অয়। অউ আইচ্ছি আবার। পুলিশের হুঁশিয়ারি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বললেন, জানি জানি। হক্কলতাউ জানি। আমরা গরিবর লাগি হক্কল আইন। ‘স্যার’ হকলোরে ফাঁকি দিয়াউ চলতে অইবো। উফাষ করি আর দিন কাটাইতাম চাইয়ার না।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/ইকে
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.