ছবি: সংগৃহিত
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার সদর ইউনিয়নের বাজিতপুর পঞ্চায়েতি কবরস্থানে সেই ভন্ড পীর গয়াছ মিয়ার আস্তানায় অভিযান চালিয়ে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। সেই সাথে নিজ দায়িত্বে কথিত আস্তানাটি গুটিয়ে নিতে অভিযুক্ত গয়াছ মিয়াকে আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (২০ জুন) বিকালে দোয়ারাবাজারের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রাশিদুল ইসলামের নেতৃত্বে এ বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হত্যা মামলার জামিনপ্রাপ্ত প্রধান আসামি গয়াছ মিয়া গ্রামের পঞ্চায়েতি কবরস্থানে গড়ে তোলেন বাঁশ-বেতের দু'তলা আস্তানা (টং ঘর)। দীর্ঘদিন ধরে সেখানে চলছিল অসামাজিক কর্মকাণ্ড ও মাদকসেবীদের আড্ডা। যা নিয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছিল। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে এক ঝটিকা অভিযান চালানো হয়। অভিযানে আস্তানা ঘর তল্লাশি করে দা, কুড়াল, লোহার রড ও কাঁচিসহ বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রাশেদুল ইসলাম বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে আস্তানাটি উচ্ছেদ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গয়াছ মিয়াকে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আস্তানা ছেড়ে চলে যাওয়ার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আস্তানা থেকে বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে। আইন অমান্য করলে পরবর্তীতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়লে দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্কে থাকা বাজিতপুর গ্রামসহ পুরো এলাকাজুড়ে স্বস্তি নেমে আসে। স্থানীয় বাসিন্দারা এ সাহসিক পদক্ষেপের জন্য সাংবাদিক, সংবাদপত্র ও উপজেলা প্রশাসনের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
বাজিতপুর গ্রামের বাসিন্দা মাওলানা কামাল উদ্দিন তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, "প্রশাসনের এই সময়োপযোগী উদ্যোগে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি পূরণ হয়েছে। আস্তানাটির কারণে এলাকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছিল। আমি এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে স্থানীয় সাহসী সাংবাদিক ও প্রশাসনের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।"
সিলেটভিউ২৪ডটকম/তাজুল/ইকে
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.