প্রকাশিত: ২৩ জুন, ২০২৬ ২৩:০০ (বুধবার)
সিলেটে এক মা*মলায় ছাত্রলীগের ১৭ নেতা গ্রে*ফ*তা*র

ছবি: এআই।

সিলেট মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের আরও পাঁচ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার ও শোন অ্যারেস্ট দেখিয়েছে পুলিশ। সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা মামলায় এ নিয়ে মোট ১৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঝটিকা বিক্ষোভ মিছিলের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি)।

 

সোমবার (২২ জুন) দিবাগত রাত থেকে মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুর পর্যন্ত সিলেট মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেফতার এবং দুজনকে শোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়।

 

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- মহানগর আওয়ামী নবীনলীগের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাংগঠনিক সম্পাদক ও কোতোয়ালী থানার বাগবাড়ী এতিম স্কুল রোড এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম খোকনের ছেলে পাবেল ইসলাম (২৬), মহানগর যুবলীগের ২১ নম্বর ওয়ার্ডের যুগ্ন সম্পাদক ও শাহপরাণ (রহ.) থানার শিবগঞ্জ সোনারপাড়া এলাকার মৃত কালা মিয়ার ছেলে মামুন আহমেদ ওরফে এম মামুন (৫০) এবং দক্ষিণ সুরমা থানার বারখলা এলাকার ভাড়াটিয়া আজিজুর রহমানের ছেলে রাহিমুর রহমান (৩৪)।

 

অন্যদিকে শোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়েছে দক্ষিণ সুরমার লাউয়াই (উম্মরকবুল) এলাকার মৃত আব্দুল জব্বার প্রকাশ লাল মিয়ার ছেলে রুপল মাহমুদ (৪৫) এবং কোতোয়ালী থানার পশ্চিম শেখঘাট উত্তরণ-২৪ এলাকার মৃত মো. আমিরুল ইসলামের ছেলে মিনহাজ ইসলামকে (৩৭)। তারা দু’জনই নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সক্রিয় সদস্য বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মো. মনজুরুল আলম। তিনি জানান, গ্রেফতারকৃত তিন আসামিকে কোতোয়ালী মডেল থানার মামলা নং-২৬, তারিখ ১৮ জুন ২০২৬, সন্ত্রাসবিরোধী আইন ২০০৯ (সংশোধিত ২০১৩)-এর ৯(৩)/১০/১১/১২/১৩ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে, শোন অ্যারেস্ট দেখানো দুই আসামির বিরুদ্ধে একই মামলায় গ্রেফতার প্রদর্শনের জন্য আদালতে আবেদন করা হয়েছে।

 

সূত্র জানায়, মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সিলেট মহানগরীর নবাব রোড এলাকায় পিডিবি অফিসের সামনে থেকে মদিনা মার্কেটের দিকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সংগঠনের ৪০/৫০ জনের নেতাকর্মীদের একটি ঝটিকা বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. নাসির উদ্দিন খানের উদ্যোগে কর্মসূচিটি আয়োজন করা হয়। মিছিলে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। বিক্ষোভকারীদের বহন করা ব্যানারে আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, রাজবন্দীদের মুক্তি এবং ‘মিথ্যা মামলা’ প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। ওই মিছিলের নেতৃত্ব দেন সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শাহরিয়ার আলম সামাদ ও মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি সুজেল আহমদ তালুকদার।

 

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) কোতোয়ালী থানার এসআই মাসুদ আহমদ বাদী হয়ে সিলেট মহানগরীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় ২৪ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৪০ থেকে ৪৫ জনকে আসামি করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মো. মাইনুল জাকির।

 

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মো. মনজুরুল আলম, ‘কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের ঝটিকা বিক্ষোভ মিছিলের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশ তৎপর রয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘মিছিল পরবর্তী সময় থেকে এখন পর্যন্ত পৃথক পৃথক অভিযানে পুলিশ মোট ১৭ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে।’

 

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম/ এহিয়া