ছবি: সংগৃহিত
লোডশেডিংয়ের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ সিলেটবাসী। একবার বিদ্যুৎ গেলে অপেক্ষায় থাকতে হয় ১ ঘন্টা। গ্রামাঞ্চলেতো বিদ্যুৎ যায়না। মাঝে মাঝে আসে। এ অবস্থায় সিলেটবাসীর প্রশ্ন, লোডশেডিং আর কত? কবে মুক্তি মিলবে- এমন প্রশ্নও অনেকের। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের মানুষের। এদিকে কর্তাদের বক্তব্য পরিস্কার, তাদের যা সরবরাহ করা হচ্ছে তারা তা সুষম বন্টন করছেন।
সিলেট মহানগরীর ইলেক্ট্রিসাপ্লাই এলাকার কথা। বুধবার সকাল থেকে দুপুর প্রায় ১টা পর্যন্ত এ এলাকায় বিদ্যুৎ ছিলনা। দুপুরের পর এলেও থাকেনি বেশি সময়। ২টার পর আবার সেই যে গায়েব হয়েছিল, আর ফিরেছে ৪টার পর।
একই অবস্থা সিলেট মহানগরীর আরেক গুরুত্বপূর্ণ এলাকা জিন্দাবাজারের পূর্ব বারুতখানার। এই এলাকায়ও একইভাবে হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যায়, ফিরে কখনো ঘন্টাখানেক পর। এমনটা চলে দিনে কয়েকবার।
গরমে বিদ্যুতের এমন লম্বা সময় না থাকার কারণে ব্যবসা বাণিজ্যের ক্ষেত্রে যেমন সমস্যা হচ্ছে, তেমনি সমস্যায় পড়েছেন সাধারণ নাগরিকরা। বিশেষ করে নারী শিশু ও বয়স্কদের অবস্থা করুণ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পিক আওয়ার সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সিলেট মহানগর এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা থাকে সর্বোচ্চ ১২০ মেগাওয়াটের মত। আর সরবরাহ হচ্ছে প্রায় ৮২ মেগাওয়াট। ঘাটতি প্রায় ৪৫ থেকে ৪৮ মেগাওয়াটের মধ্যে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মো. জারজিসুর রহমান রনি এসব তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ ভাগ লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
এ অবস্থা কতদিন চলবে জানতে চাইলে তিনি জানিয়েছেন, এটা কেবল উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বলতে পারবেন। তারা যা পাচ্ছেন তাই সুষম বন্টন করছেন।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের আওতায় আছে সিলেট মহানগর ছাড়াও মৌলভীবাজার হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের কিছু অংশ। পুরো এলাকায় পিক আওয়ারে (সন্ধ্যা ৭টা) সর্বোচ্চ চাহিদা ১৯৬ মেগাওয়াট। আর সরবরাহ করা হচ্ছে ১৬১ মেঘাওয়াট। প্রতিদিন গড়ে ঘাটতি থাকছে প্রায় ৩৫ মেগাওয়াট।
এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের প্রধান প্রকৌশলী মো. ইমাম হোসেন। তবে এক ঘন্টার বেশি লোডশেডিং বা একই এলাকায় একাধিকবারে লোডশেডিংয়ের বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেছেন।
বলেছেন, এরকমটা হওয়ার কথা নয়। আর যদি হয়ই, তবে তা লোডশেডিংয়ের কারণে নয়। কারিগরি কোনো ত্রুটি কারণে হতে পারে।
এদিকে সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সদস্য বা গ্রাহকদের অবস্থা আরও করুন। প্রতিদিন গোলাপগঞ্জ, বিয়ানীবাজার, জৈন্তাপুর বা কানাইঘাট থেকে সাধারণ মানুষ বিদ্যুতের যন্ত্রণার কথা জানাচ্ছেন। কোনো কোনো এলাকায় ২৪ ঘন্টার মধ্যে ১০ থেকে ১২, কোথাও আবার ১৪/১৫ ঘন্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকেনা।
বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত জানতে একাধিকবার কল দিলেও সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর জেনারেল ম্যানেজার মো. আব্দুর রশীদের কোনো সাড়া মিলেনি। সাড়া মিলেনি সিলেট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর জেনারেল ম্যানেজার, প্রকৌশলী মো. শিফাজ উদ্দিন মল্লিকেরও। এমনকি তাদের হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ দিলেও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
উৎপাদন ও সরবরাহ ঘাটতির কারণে হউক বা কারিগরি ত্রুটির কারণেই হউক, বিদ্যুতের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ সিলেটবাসী। এমন পরিস্থিতি থেকে দ্রুত মুক্তি চান তারা।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/ইকে
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.