প্রকাশিত: ২৫ জুন, ২০২৬ ০০:০০ (বৃহস্পতিবার)
সিলেটে ছাত্রলীগ খুঁজছে পুলিশ

ছবি: এআই।

সিলেটে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসহযোগী সংগঠনসহ নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের খোঁজে জোরালো অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। ২০২৪ সালের আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মামলা দায়ের করা হয়। সেই মামলায় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনসহ নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এখনও লাপাত্তা। কেউ কেউ মামলা নিয়ে দেশ ত্যাগ করেছেন আবার কেউ কেউ শহর ছেড়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গিয়ে ঠাঁই নিয়েছেন। সম্প্রতি মহানগরীতে ঝটিকা বিক্ষোভ মিছিলের ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হওয়ার পর তাদের গ্রেফতারে তৎপরতা আরও বাড়িয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ইতোমধ্যে অভিযানে ১৭জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং বাকিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

সূত্র জানায়, আগস্টের পরবর্তী সময়ে দেশব্যাপী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং ফ্যাসিস্ট তৎপরতা দমনে যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযান ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ এবং পরবর্তীতে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২’ পরিচালিত হয়েছে। অভিযান শুরুর পর থেকেই সিলেট মহানগরসহ বিভাগের চার জেলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল ও তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। রাতভিত্তিক অভিযান, চেকপোস্ট ও নজরদারি জোরদারের মধ্য দিয়ে একের পর এক রাজনৈতিক মুখ গ্রেফতার খবর পাওয়া যায়। অভিযানের প্রভাবে সিলেট মহানগরসহ বিভাগের চার জেলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক সংগঠন ও তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ছিল। কিন্তু এর পরবর্তী সময়ে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ ও  ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২’ বন্ধ হয়ে যায়। আর তাতেই ধীরে ধীরে প্রকাশ্যে আসতে দেখা যায় নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের।

 

নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, বিগত সরকারের পটপরিবর্তনের পরকার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসহযোগী সংগঠনসহ নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা অনেকেই অবৈধ পথে ভারতে চলে যান। এছাড়া অনেকে স্থানীয় এলাকা ছেড়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে চলে যান। গণঅভ্যুত্থানের পর দীর্ঘ সময় তাদের কোনো সাংগঠনিক কার্যক্রম চোখে না পড়লেও পরবর্তীতে বিভিন্ন ইস্যুতে ব্যানার নিয়ে ঝটিকা মিছিল ও বিক্ষোভ মিছিলে সক্রিয় হতে দেখা যায় তাদের। 

 

সর্বশেষ মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সিলেট মহানগরীর নবাব রোড এলাকায় একটি ঝটিকা বিক্ষোভ মিছিল করেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। বিক্ষোভ মিছিলটি সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. নাসির উদ্দিন খানের উদ্যোগে আয়োজন করা হয়। সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শাহরিয়ার আলম সামাদ ও মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি সুজেল আহমদ তালুকদারের নেতৃত্বে ওই মিছিলে ৪০/৫০ জনের নেতাকর্মী অংশ নেন। 

 

এই ঘটনার পরবর্তী সময়ে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) কোতোয়ালী থানার এসআই মাসুদ আহমদ বাদী হয়ে সিলেট মহানগরীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলা দায়েরের পর থেকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসহযোগী সংগঠনসহ নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের খোঁজে নামে সিলেট মহানগর পুলিশ।

 

পুলিশ জানায়, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা নতুন এই মামলা দায়েরের পর থেকেই তাদের গ্রেফতার অভিযানে মাঠে নামে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি)।  সিলেট মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় চলে রাতভর পৃথক অভিযান। আর এই অভিযানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের মোট ১৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেফতারেও অভিযান অব্যাহত রেখেছে পুলিশ।

এদিকে সূত্র জানিয়েছে চলমান অভিযানের কারণে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। 

 

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মো. মনজুরুল আলম বলেন, ‘সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা মামলার আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও মামলা রয়েছে, তাদের আইনের আওতায় আনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘সিলেট মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের নিয়মিত টহল, চেকপোস্ট এবং লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান জোরদার করা হয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও মামলা রয়েছে, তাদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে। নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যেকোনো ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে এই বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

 

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম/ এহিয়া