ছবি: এআই।
সিলেটের সীমান্তবর্তী কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার নয়নাভিরাম পর্যটনকেন্দ্র সাদাপাথর থেকে পাথর লুটপাটে জড়িতরা এখনও অধরা। দীর্ঘদিন পার হওয়ার পর আলোচিত পাথর লুটপাটের ঘটনায় জড়িতদের বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট পরিচয় এখনও সামনে আসেনি। এই ঘটনায় ঘোলাটেভাবে আড়ালে থেকে গেল লুটপাটের সঙ্গে কারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সম্পৃক্তকারীর। তবে; দেশব্যাপী এই লুটপাটের ঘটনাকে কেন্দ্রকরে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
সম্প্রতি বিদায়ী সিলেট জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলম এ বিষয়ে জানান, ‘সাদাপাথর লুটপাটের ঘটনায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করা হয়নি।’
তিনি বলেন, ‘সাদাপাথর লুটপাটের ঘটনার কোনো প্রতিবেদন আমরা করিনি। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও কেবিনেটের সম্পৃক্ততায় এ বিষয়ে কাজ হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো তদন্ত কমিটি গঠন কিংবা কোনো প্রতিবেদন তৈরি করা হয়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘ওই ঘটনায় কেবিনেটের সম্পৃক্ততায় কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে এবং এ ধরনের কোনো রিপোর্ট আমাদের কাছেও দেওয়া হয়নি। সুতরাং এ বিষয়ে হতাশ হওয়ার কিছু নেই।’
সূত্রে জানা যায়, সিলেটের সাদাপাথর লুটপাটের ঘটনায় দেশব্যাপী ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। সাদাপাথর লুটপাটের ঘটনা আলোচনায় আসার পর তৎকালীন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদের উদ্যোগে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। একজন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে প্রধান করে গঠিত ওই কমিটি ঘটনার অনুসন্ধান শুরু করে। একই সময়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)ও তদন্তে নামে। গুঞ্জন শোনা যায় দুদকের তদন্ত প্রতিবেদনে সাদাপাথর লুটপাটের পেছনে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত ও সুবিধাভোগী ৫২ জন প্রভাবশালীর নাম উঠে আসে। তবে দুদক আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি স্বীকার করেনি।
এর পরবর্তী সময়ে লুট ঠেকাতে ব্যর্থতা ও উদাসীনতার অভিযোগে ২০২৫ সালের ১৮ আগস্ট সোমবার সিলেটের জেলা প্রশাসক শের মাহবুব মুরাদ ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আজিজুন্নাহারকে বদলি করা হয়। ঠিক একই দিনে সিলেটের নতুন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় মো. সারওয়ার আলমকে। মো. সারওয়ার আলম সিলেটে আসার পর থেকে প্রশাসনের লোকজনদের নিয়ে অভিযানে নামেন তিনি। দীর্ঘ অভিযানের পর লুটপাটের কয়েক লক্ষ ঘনফুট পাথর উদ্ধার করে সাদাপাথরে প্রতিস্থাপন করা হয়। পাথর প্রতিস্থাপন করার দীর্ঘ সময় পরও এখনও জানা যায় নি কারা এই পাথর লুটপাটের সাথে জড়িত রয়েছেন।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সাদাপাথর, ভোলাগঞ্জ, রেলওয়ে বাঙ্কার, জাফলংসহ বিভিন্ন পাথর কোয়ারী থেকে ব্যাপক হারে পাথর লুটপাট শুরু হয়। প্রকাশ্যেই প্রশাসনের সামনেই পাথর লুটের ঘটনা ঘটে। এরপর প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর তৎপরতায় কিছুদিন বন্ধ ছিল লুটপাট। মাত্র কয়েকদিনেই লুটপাট করে লন্ডভন্ড করে দেওয়া হয় সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্র। লুটপাট-পরবর্তী সময়ে জাফলং এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে পাথর ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিক্ষোভ ও ঘেরাওয়ের মুখে পড়েন তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। পরিস্থিতির কারণে সেদিন তিনি সাদাপাথর সফরের নির্ধারিত কর্মসূচিও বাতিল করেন।
অন্যদিকে, সাদাপাথর লুটপাটের ঘটনায় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাহাব উদ্দিনের সব দলীয় পদ স্থগিত করা হয়। এছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে বিএনপি ও যুবদলের আরও কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। এর বাইরে জেলা ও মহানগর বিএনপির একাধিক নেতার নাম নিয়েও বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও গুঞ্জন রয়েছে।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/ এহিয়া
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.