প্রকাশিত: ২৬ জুন, ২০২৬ ০০:০০ (শুক্রবার)
খুলবে পাথর কোয়ারি, সিলেটে খুশির জোয়ার

ছবি: এ আই তৈরি

আবারও আশ্বাস দিলেন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী ও সিলেটের পাথররাজ্য খ্যাত কোম্পানীগঞ্জ, জৈন্তাপুর ও গোয়াইনঘাট উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-৪ আসনের সাংসদ আরিফুল হক চৌধুরী। তার এই আশ্বাসে সিলেটজুড়ে বলতে গেলে খুশির জোয়ার বইতে শুরু করেছে।

 

সিলেটের পাথর কোয়ারিগুলো থেকে পাথর উত্তোলনে একসময় কোনো নিয়ম নীতি মানছিলেন না সংশ্লিষ্টরা। পরিবেশ ধ্বংসকারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে রীতিমতো খাবলে খুবলে খাওয়া হচ্ছিল পর্যটনের জন্য সমৃদ্ধ এই এলাকাগুলো। যার বিরূপ প্রভাবে গোটা অঞ্চলটা কঙ্কালে পরিণত হচ্ছিল। সঙ্গে ছিল প্রাণহানীর মতো ঘটনা। প্রায়ই নানান অনিয়মের কারণে কোয়ারি ধসে দরিদ্র পাথর শ্রমিকদের প্রাণহানীর ঘটনা সারাদেশ কাঁপিয়ে দিচ্ছিল।

 

এমন পরিস্থিতি আন্দোলনে নামে সিলেটের পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো। একসময় তারা আদালতে গেলে সিলেটের কোয়ারিগুলোসহ দেশের বেশ কয়েকটি পাথর কোয়ারি থেকে পাথর উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন আদালত। এরপর বন্ধ হয়ে যায় পাথর উত্তোলন। এর প্রভাব পড়ে অন্তত ১০ থেকে ১৫ লাখ মানুষের জীবনে। তাদের কেউ কোয়ারি শ্রমিক কেউবা পরিবহণ শ্রমিক আর কেউবা এখাতের ব্যবসায়ী। সঙ্গে তাদের পরিবারের সদস্যদের জীবনেও নেমে আসে নানান সংকট।

 

আন্দোলনে নামেন তারাও। হরতাল অবরোধ হয়েছে, হয়েছে মানববন্ধন প্রতিবাদ মিছিল। কিন্তু সরকার নিজেদের অবস্থানে অনঢ় থাকায় পাথর কোয়ারি আর খোলেনি। এমন কি, অন্তবর্তী সরকারের সময়ে দু’জন উপদেষ্টাকে গোয়াইনঘাটে অবরোধের মুখেও পড়তে হয়েছিল।

 

তবে পরিস্থিতি পাল্টাতে থাকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। সিলেট-৪ আসনে বিএনপি প্রার্থী হিসবে মনোনয়ন দেয় সাবেক মেয়র, বর্তমান প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীকে। তিনি তখন তার নির্বাচনী প্রচারণায় আশ্বাস দিয়েছিলেন, তিনি এবং বিএনপি নির্বাচিত হলে পরিবেশের ক্ষতি না করে পাথর উত্তোলনের ব্যবস্থা করবেন।

 

এরপর বিএনপি সরকার গঠনের করলে আরিফুল হক চৌধুরী এ ব্যাপারে সচেষ্ট হন। বিভিন্ন পর্যায়ে আলাপ-আলোচনার পর সরকারও ইতিবাচক সাড়া দেন। কিছুদিন আগে এ সংক্রান্ত একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেই বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, পরিবেশের ক্ষতি না করে কোয়ারিগুলো থেকে পাথর উত্তোলনের অনুমতি দেওয়ার।

 

এরপর আর বিষয়টি তেমন অগ্রসর না হলেও বুধবার ৪ দিনের সফরে সিলেট পৌঁছে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী সাংবাদিকদের কাছে অত্যন্ত জোরালোভাবে বলেছেন, পাথর কোয়ারি খুলবেই। তবে হরিলুটের সুযোগ দেওয়া হবেনা। আইন মেনে পরিবেশ সুরক্ষিত রেখে পাথর উত্তোলনের অনুমতি দেওয়া হবে। তবে সজন্য আরেকটু সময় লাগবে।

 

এর কারণও ব্যাখ্যা করেছেন তিনি। জানিয়েছেন, এর সঙ্গে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় জড়িত। আছে আইন আদালতের ব্যাপার-স্যাপার। সবকিছু ঠিকঠাক করে এগুতে হবে।

 

পাথর কোয়ারি খুলবেই, মন্ত্রীর এমন ঘোষণার পর আনন্দের জোয়ারে ভাসছেন সিলেটের মানুষ। বিশেষ করে কোয়ারি সংশ্লিষ্ট শ্রমিক ব্যবসায়ী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা এখন প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। তারা সরকারের বিধিনিষেধ মেনে নিয়েই নিজেদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য একটু স্বচ্ছল জীবন-যাপনের আশায় এখন নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন।

 

সিলেটের গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর ও কোম্পানীগঞ্জের কয়েকজন পাথর শ্রমিকের সাথে আলাপ হয় সিলেটভিউর। গোয়াইনঘাটের আনিস (৩৫), মানিক (৩২) ও খালিক (২৯) মৃদু হেসে বলেন, খয়টা বছর বড় খষ্টে দিন যার ভাইসাব। মন্ত্রীয়ে কথা দিসলা। আমরাও তানরে ভোট দিসলাম। এখন দেখা যাউক। আমরার দুর্দশার অবসান অয়নি। আশায় আছি। মন্ত্রী কথা হুনিয়া খুব খুশি আমরা।

 

আমাদের কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধি আব্দুল জলিল জানিয়েছেন, পাথরখাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাই এখন রীতিমতো খুশির জোয়ারে ভাসছেন। তারা দ্রুত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের মাধ্যমে কোয়ারিগুলো খুলে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন।

 

সিলেটে পাথরখাতের সঙ্গে সরাসরি জড়িত অন্তত ১৫ লাখ মানুষ। তাদের মধ্যে শ্রমিকের সংখ্যাই প্রায় ১০ লাখ। আর নির্ভরশীলদের সংখ্যা ধরলে সব মিলিয়ে অর্ধকোটির কাছাকাছিই হবে। এখন তাদের সবাই নতুন করে সুন্দর জীবনের আশায় সানন্দে প্রহর গুনছেন।

 

উল্লেখ্য, আদালতের নিষেধাজ্ঞায় ২০১৮ সালে সিলেটের ভোলাগঞ্জ, বিছানাকান্দি, জাফলং, লোভছড়া, রতনপুর, শাহ আরেফিনটিলাসহ মোট ১৭টি পাথর কোয়ারি বন্ধ হয়ে যায়।

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম/ইকে