সাধক-শিল্পী হ্যারল্ড রশীদের প্রথম একক চিত্র প্রদর্শনী শুরু হয়েছে। সোমবার বিকেলে নগরের টিবি গেইট এলাকার শাহ আলম গ্যালারি অব ফাইন আর্টসের অরবিন্দ দাসগুপ্ত ভবনে চিত্রপ্রদর্শীর উদ্বোধন করেন দেশের খ্যাতিমান চিত্রশিল্পী অধ্যাপক আবুল বারাক আলভী, অধ্যাপক নিসার হোসেন ও অধ্যাপক শিশির চক্রবর্তী।
হ্যারল্ড রশীদের ৭০ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ‘সত্তরে হ্যারল্ড’ নামে তিনদিনব্যাপী আয়োজনের অংশ হিসেবে এ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। ‘শিল্পী হ্যারল্ড রশীদের সত্তরতম জস্মদিন উদযাপন পরিষদ’ এই আয়োজন করে।
প্রবীন সঙ্গীতশিল্পী হিমাংশু বিশ্বাসের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শিল্পী আবুল বারাক আলভী বলেন, হ্যারল্ডকে চিনি দীর্ঘদিন ধরে। আজ প্রথম তার চিত্রকর্ম দেখার সুযোগ হলো। মনে হলো আজ হ্যারল্ডকে নতুন করে চিনলাম। তার ছবি আমাকে মুগ্ধ করেছে।
তিনি বলেন, এইরকম একজন গুণি শিল্পী ঢাকার বাইরে একেবারে নিভৃত জীবনযাপন করছেন এবং সত্তরতম জন্মদিনে এসে প্রথম একক চিত্রপ্রদর্শনীর আয়্জোন করেছেন- এমন উদাহরণ খুবই বিরল।
অনুষ্ঠানে শিল্পী নিসার হোসেন বলেন, হ্যারল্ড রশীদের বিচরণ শিল্পের নানা শাখায়। চিত্রকলা থেকে সঙ্গীত সব বিষয়েই তার দক্ষতা রয়েছে। সঙ্গীতের আধুনিকতম বিষয়েও তিনি জ্ঞান রাখেন। একজনের মানুষের মধ্যে এতো গুণি আমাদের সমাজে বিরল।
তিনি বলেন, হ্যারল্ড কার্টুন আঁকায় সিদ্ধহস্ত। যুগভেরীতে যে তিনি নিয়মিত রাজনৈতিক কার্টুন আঁকতেন তা অনেকেরই অজানা। তার কাটুর্ণের মাধ্যমে আমরা সমাজের সেইসময়কার চিত্র দেখতে পাই। এসব কার্টুন নিয়েও গবেষণা হতে পারে।
নেসার হোসেন বলেন, আজকাল যাদের যোগ্যতা আছে তারা তো বটেই, এমনকি যাদের কোন যোগ্যতাই নেই, তারাও ঢাকায় থাকতে চায়। সবাই এখন ঢাকামুখী। অথচ হ্যারল্ডের মতো গুণি শিল্পী ঢাকা ছেড়ে সিলেটে চলে এসেছেন। সিলেটের শিল্পচর্চার বিকাশে কাজ করছেন। তা খুবই অনুপ্রেরণাদায়ক।
সিলেটে কোট আর্ট কলেজ ও গ্যালারি না থাকাটা হ্যারল্ডের দীর্ঘদিনের আক্ষেপ উল্লেখ করে চিত্রকলার এই অধ্যাপক বলেন, সম্প্রতি হ্যারল্ডের উদ্যোগে সিলেটে আর্টস কলেজ হয়েছে। চিত্রকলার গ্যালারি হয়েছে। আমি আশা করি, তার হাত ধরে সিলেটের শিল্প চর্চা আরও বিকশিত হবে।
অনুষ্ঠানের আরেক অতিথি শিল্পী শিশির ভট্টাচার্য বলেন, এখন আধুনিক শিল্পীরা যা করছেন, এআই দিয়ে যা করা হচ্ছে, হ্যারল্ড রশীদ তা আশির দশকেই করে ফেলেছেন।
তিনি বলেন, কার্টুন আঁকার কারণে আমাকে অনেকের কাছে পরিচিত করে তুলেছে, আজ এসে দেখলাম হ্যারল্ড রশীদও প্রচুর কার্টুন এঁকেছেন। তিনি আমাদের শিল্পকলায় আরও অনেক অবদান রাখবেন বলে বিশ্বাস করি।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে শিল্পী হ্যারল্ড রশীদ বলেন, আমি আগে কখনো একক চিত্রপ্রদর্শনীর আয়োজন করি। আমার সত্তরতম জন্মদিনে কিছু সুহৃদ ও অনুরাগী এই আয়োজন করেছেন। আমি সবাইকে ধন্যবাদ জানাই।
উদযাপন পরিষদের সদস্য সচিব আব্দুল করিম কিমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন উদযাপন পরিষদের আহবায়ক শামসুল বাসিত শেরো। এতে সিলেটের শিল্পী, সাহিত্যিক, সাংবাদিকসহ বিশিষ্ট নাগরিকবৃন্দ, হ্যারল্ড রশীদের সৃহৃদ, স্বজন, অনুরাগী ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা হ্যারল্ড রশীদের শিল্পকর্ম ঘুরে দেখেন।
তিনব্যাপী এই প্রদর্শনী চলবে বুধবার পর্যন্ত। প্রতিদিন বিকেল ৫টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত সবার জন্য এই প্রদর্শনী উন্মুক্ত থাকবে।
এদিকে, জন্মবার্ষিকী উদযাপনের দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেল ৫টায় একই স্থানে ‘সত্তরে হ্যারল্ড’ নামে জন্মদিনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, স্মৃতিকথন, স্মারকগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচনের মধ্যেমে জন্মদিন উদযাপন করা হবে।
আর অনুষ্ঠানের শেষ দিন বুধবার (১ জুলাই) বিকেল ৫ টায় নগরের কুমারপাড়ায় সিলেট আর্টস কলেজে হ্যারল্ড রশীদের শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত চিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হবে। এই প্রদর্শনীও রাত ৮টা পর্যন্ত সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
আয়োজকরা জানান, শিল্পীর সৃজনযাত্রাকে সম্মান জানাতে, তাঁর শিল্পকর্ম ও জীবনদর্শনের সঙ্গে নতুন প্রজন্মকে পরিচয় করিয়ে দিতেই জন্মদিনের এই বর্ণাঢ্য আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/প্রেবি/এসডি-১২
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.