স্কুলছাত্রী ধর্ষণ মামলায় জহির রায়হান (৩২) নামে যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ অর্থদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ (শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল)র বিচারক এএইচ এম শফিকুল ইসলাম আদালতে আসামির অনুপস্থিতিতে এই রায় দেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত হলেন সদর উপজেলার হররা ডাক্তারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা নুর নবীর ছেলে জহির রায়হান (৩২)।
মামলা সূত্রে জানা যায়, কুষ্টিয়া শহরের হাউজিং এস্টেট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির ওই ছাত্রী বাড়ি থেকে স্কুলে যাতায়াতের পথে যুবক রায়হান নানা ভাবে কুপ্রস্তাবসহ উত্ত্যক্ত করত। বিষয়টি ওই ছাত্রী পরিবারকে জানালে পরিবারের উদ্যোগে ওই যুবক রায়হানের পরিবারের লোকজন এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ যুবক রায়হানকে এ কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য বলে দেয়। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ যুবক প্রতিশোধ পরায়ন হয়ে উঠে। তারই জের ধরে ২০১৮ সালের ৩ মার্চ রাত ৯টার দিকে ওই ছাত্রীর বাবা মা পাশের বাড়িতে ওয়াজ মাহফিলে যাওয়ার সুযোগে ওই যুবক কক্ষে প্রবেশ করে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এ সময় ছাত্রীর আর্তচিৎকারে আশপাশের লোকজন জড়ো হলে যুবক রায়হার দরজা খুলে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু লোকজন তাকে আটক করে। এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর পিতা বাদী হয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানায় ধর্ষণের অভিযোগ এনে যুবক জহির রায়হানের নামোল্লেখসহ এজাহার দায়ের করেন।
মামলাটির তদন্ত শেষে কুষ্টিয়া মডেল থানার উপসহকারী পুলিশ পরিদর্শক আনোয়ারুল ইসলাম ২০১৮ সালের ৩০ এপ্রিল, ২০০০ (সংশোধনী-৩) সালের ৯(১) ধারার অভিযোগ এনে যুবক জহির রায়হানের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি অ্যাড. আব্দুল মজিদ জানান, কুষ্টিয়া সদর থানার স্কুল ছাত্রী ধর্ষণ অভিযোগে আসামি জহির রায়হানের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সাক্ষ্য শুনানি শেষে সন্দেহাতীত প্রমাণিত হওয়ায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা। অনাদায়ে আরও ৬ মাসের সাজার আদেশ দেন আদালত।
উল্লেখ্য, আসামি রায়হানকে ২০১৮ সালের মার্চে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করলে আদালত তাদের কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন। পরবর্তীতে আসামি রায়হান জামিনে কারামুক্ত হওয়ার পর থেকেই পলাতক রয়েছে।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/ডেস্ক/এসডি-১৪
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.