প্রকাশিত: ০২ জুলাই, ২০২৬ ০০:০০ (বৃহস্পতিবার)
যে যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ সিলেটবাসী

ছবি: এআই।

তীব্র গরমের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী ও অনিয়মিত লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন সিলেটবাসী। সকাল, দুপুর, বিকেল, সন্ধ্যা কিংবা গভীর রাত-দিনের কোনো সময়ই বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক থাকছে না। কখন বিদ্যুৎ আসবে, আর কখন চলে যাবে, তারও কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি নেই । এমন পরিস্থিতিতেই বৃহস্পতিবার শুরু হচ্ছে উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষা। ফলে চরম দুর্ভোগ আর ভোগান্তির মধ্যে রয়েছেন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা।

 

সূত্র জানায়, গত কয়েকদিন ধরে সিলেটে বিদ্যুতের সংকট আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে। দিনের বিভিন্ন সময়ে বারবার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হচ্ছে। একবার বিদ্যুৎ চলে গেলে ফিরতে সময় লাগছে এক ঘণ্টারও বেশি। কিছু সময় সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও অল্প সময়ের মধ্যেই আবারও শুরু হচ্ছে লোডশেডিং। এরমধ্যে সিলেটে তাপমাত্রা ৩৫ থেকে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। প্রচণ্ড গরম এবং ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো পড়াশোনা ও পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেছেন। অনেকেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছেন।

 

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় চার জেলার মোট ৭১ হাজার ৭১১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। 

 

চলমান বিদ্যুৎ সংকটের কারণে অনেক পরীক্ষার্থী স্বাভাবিকভাবে পড়াশোনা ও পরীক্ষার প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে পারছেন না। এতে গুরুত্বপূর্ণ এ পরীক্ষাকে সামনে রেখে তাদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

 

সিলেট সরকারি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী আবিদুল হাসান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘পরীক্ষা কীভাবে দেব, সেটাই এখন চিন্তার বিষয়। বিদ্যুতের কারণে ঠিকমতো প্রস্তুতি নেওয়া যাচ্ছে না। উপজেলা পর্যায়ে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। দিনে ১৪ থেকে ১৫ ঘণ্টাও অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ থাকে না।’

 

শুধু শিক্ষার্থীরাই নন, তাদের অভিভাবকরাও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে ক্ষোভ ও অসন্তোষ জানিয়ে বিভিন্ন ধরনের স্ট্যাটাস দিচ্ছেন।

 

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্রে জানা গেছে, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কম থাকায় বাধ্য হয়েই লোডশেডিং করা হচ্ছে। সিলেটে পিক আওয়ারে বিদ্যুতের চাহিদা থাকে ২৪০ থেকে ২৫০ মেগাওয়াট। কিন্তু বর্তমানে সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ১৪০ থেকে ১৫০ মেগাওয়াট। ফলে প্রতিদিন প্রায় ১০০ মেগাওয়াটের সমপরিমাণ লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

 

কয়েকদিন আগে জাতীয় সংসদে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, ‘কারিগরি ত্রুটির কারণে দেশের দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এ কারণে সারা দেশেই লোডশেডিং বেড়েছে। তিনি এটিকে জাতীয় সংকট উল্লেখ করে বলেন, আগামী দুদিনের মধ্যে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে।’

 

এদিকে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সিলেটের প্রধান প্রকৌশলী মো. ইমাম হোসেন বলেন, ‘চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কম থাকায় প্রতিদিন প্রায় ১০০ মেগাওয়াটের মতো লোডশেডিং করতে হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে কত সময় লাগবে, সে বিষয়ে এখনই নির্দিষ্ট করে কিছু বলা সম্ভব নয়।’

 

 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/ এহিয়া