মাঠে ভেঙে পড়েছিল পুরো সেনেগাল শিবির। রেফারির সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছিলেন না ফুটবলাররা। প্রতিবাদ, হতাশা আর অসহায়ত্ব মিলেমিশে এক আবেগঘন দৃশ্যের জন্ম হয় মাঠে। পেনাল্টি স্পটেই শুয়ে পড়ে অঝোরে কাঁদছিলেন পাথে সিস। যেন শেষ চেষ্টা হিসেবে কোনোভাবেই বেলজিয়ামকে শটটি নিতে দিতে চাইছিলেন না তিনি। কিন্তু ফুটবলে শেষ কথা বলেন রেফারিই। তার সিদ্ধান্তই হয়ে ওঠে চূড়ান্ত বাস্তবতা।
সেই এক সিদ্ধান্তই বদলে দেয় ম্যাচের পরিণতি। নাটকীয়তায় ভরা লড়াইয়ের শেষ অধ্যায়ে ৩-২ গোলে হার মেনে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হয় আফ্রিকার দেশ সেনেগালকে। মাঠজুড়ে তখন বেলজিয়ামের উল্লাস, আর সেনেগালের ভাগ্যে শুধু অশ্রু আর আক্ষেপ। ১১৮ মিনিটে ডি-বক্সে রেফারির দেওয়া সিদ্ধান্তটি যে সেনেগালকে ছিটকে দিল টুর্নামেন্ট থেকে!
পুরো ম্যাচটার বর্ণনা কেমন হবে! অবিশ্বাস্য, রোমাঞ্চকর, নাটকীয়, অকল্পনীয়—বেলজিয়ামের এই প্রত্যাবর্তনকে ঠিক কোন শব্দে বর্ণনা করা যায়? সব হিসাব-নিকাশ যখন তাদের বিদায়ের দিকেই ইঙ্গিত করছিল, ম্যাচও তখন শেষ বাঁশির অপেক্ষায়। ঠিক সেই মুহূর্তেই বদলে যায় দৃশ্যপট।
রোমেলু লুকাকো ও ইউরি ট্রিলেমান্স যেন সময়কে থামিয়ে লিখলেন অবিশ্বাস্য এক প্রত্যাবর্তনের গল্প। মাত্র তিন মিনিটের ব্যবধানে জোড়া গোল করে বেলজিয়ামকে ফিরিয়ে আনলেন ম্যাচে, আর নিভু-নিভু আশার প্রদীপে জ্বালিয়ে দিলেন নতুন আলো; ম্যাচ চলে যায় অতিরিক্ত সময়ে।
সিয়াটলে ঠিক কি হয়েছিল! চোখ বন্ধ করেও মুহূর্তটাকে অনুভব করা যাচ্ছে না। নাটকের চেয়েও যে নাটকীয় ছিল কয়েক মিনিটের খেলা। ৮৫ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল সেনেগাল। তখন মনে হচ্ছিল, ম্যাচের ভাগ্য যেন নির্ধারিত হয়েই গেছে। কিন্তু বেলজিয়াম হাল ছাড়েনি।
৮৬তম মিনিটে দারুণ এক গোলে ব্যবধান কমান লুকাকো। পেনাল্টি বক্সে তার হালকা ফ্লিকটি প্রথমে সফল হয়নি। তবে বল আবারও বেলজিয়ামের দখলে আসে। এরপর ডান দিক থেকে থমাস মিউনিয়ের নিচু ক্রসে অসাধারণ দক্ষতায় হালকা স্পর্শে গোলরক্ষক মোরি দিয়াওকে পরাস্ত করে বল জালে জড়িয়ে দেন লুকাকো। মুহূর্তেই বদলে যায় ম্যাচের চিত্র।
সেই গতি ও আত্মবিশ্বাসকে কাজে লাগিয়েই সমতায় ফেরে বেলজিয়াম। ঠিক তিন মিনিট পরই মেলে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। দ্বিতীয় হাইড্রেশন বিরতির সময় ট্রোসার্ড ও ট্রিলেমান্সকে তর্কে জড়াতে দেখা গিয়েছিল; একপর্যায়ে তারা একে অন্যের দিকে তেড়ে যাওয়ার অবস্থাও তৈরি করেছিলেন। অথচ ম্যাচের শেষ দিকে সেই দুজনই বেলজিয়ামের ঘুরে দাঁড়ানোর নায়ক হন।
ট্রোসার্ডের নিখুঁত ক্রস থেকে ট্রিলেমান্স দুর্দান্ত এক হেডে গোল করেন। সেনেগালের গোলরক্ষক দিয়াও ঘুসি মেরে বলটি সরানোর চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু ট্রিলেমান্সের নিখুঁত হেড ঠেকানো তার পক্ষে সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত দুই গোলের ঘাটতি পুষিয়ে ম্যাচে দারুণভাবে ফিরে আসে বেলজিয়াম। সেখান থেকে অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধে কেউই কোনো গোল করতে পারেনি। দ্বিতীয়ার্ধের শেষ দিকে পেনাল্টি পেয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে বেলজিয়াম।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/ডেস্ক/এসডি-০২
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.