কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় প্রেমিকের বাড়িতে টানা ১২ দিন ধরে অনশন করছেন এক তরুণী। বিয়ের দাবিতে উপজেলার শিদলাই ইউনিয়নের পশ্চিম শিদলাই গ্রামে অনশন করছেন ওই তরুণী। তবে ওই তরুণীকে পাত্তা দিচ্ছে না প্রেমিকের পরিবার। এতে অনেকটা মানবতার জীবনযাপন করছেন ওই তরুণী।
বৃহস্পতিবার উপজেলার শিদলাই ইউনিয়নের পশ্চিম শিদলাই গ্রামে গিয়ে ওই তরুণীকে অনশনে থাকতে দেখা যায়।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিনই ওই বাড়িতে ভিড় করছেন উৎসুক জনতা।
ওই তরুণীর দাবি, প্রায় চার বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পশ্চিম শিদলাই গ্রামের ওহাব আলী খনকার বাড়ির মো. আবু কালামের ছেলে আবু সাইদ ওরফে সাইফুল ইসলামের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত দুই বছর ধরে ঢাকায় নিয়মিত দেখা-সাক্ষাতের মাধ্যমে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়।
তার দাবি, প্রায় ১২ দিন আগে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে আবু সাইদ তাকে দেবিদ্বার উপজেলার চরবাকর এলাকার এক আত্মীয়ের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে দুই দিন অবস্থানের পর তিনি বিয়ের বিষয়টি তুললে আবু সাইদ তাকে রেখে কাউকে কিছু না জানিয়ে নিজ বাড়িতে চলে আসেন। পরে প্রেমিকের বাড়ির ঠিকানা সংগ্রহ করে ব্রাহ্মণপাড়ার পশ্চিম শিদলাই গ্রামে গেলে আবু সাইদ তাকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান। একপর্যায়ে তাকে টেনেহিঁচড়ে বাড়ি থেকে বের করে দেয়ারও চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেন ওই তরুণী।
ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয়রা শিদলাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে অবহিত করেন। পরে চেয়ারম্যান উভয়পক্ষকে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে ডেকে সমাধানের উদ্যোগ নেন।
তবে অভিযোগ অনুযায়ী, বৈঠক চলাকালেই আবু সাইদ সেখান থেকে চলে যান। এরপর থেকেই ওই তরুণী প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান করে বিয়ের দাবিতে অনশন করছেন।
ভুক্তভোগী তরুণী বলেন, সে আমার জীবনের অনেক ক্ষতি করেছে। আমার সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। এখন সে আমাকে বিয়ে করবে, না হলে আমি এই বাড়ি থেকে ফিরব না।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, গত ১২ দিন ধরে তরুণীটি প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান করছেন। এ সময় অভিযুক্ত যুবক আত্মগোপনে চলে যান। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও যুবকের পরিবার সহযোগিতা করেনি। পরে পরিবারের সদস্যরাও বাড়ি ছেড়ে চলে যান বলে দাবি করেন তারা।
শিদলাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম আকবর আলাউল বলেন, উভয়পক্ষকে ডেকে সমাধানের চেষ্টা করেছি; কিন্তু ছেলেটি বৈঠক থেকে চলে যায় এবং তার পরিবারও বিয়েতে রাজি নয়। পরে ছেলেসহ পরিবারের সদস্যরা আত্মগোপনে চলে যান। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে।
উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা লুৎফা ইয়াসমিন বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে তরুণীর সঙ্গে কথা বলেছি। তবে অভিযুক্ত যুবকের পরিবারের কাউকে পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তিনি তা গ্রহণ করেননি। পরে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের বিষয়টি সমাধানের জন্য বলা হয়েছে।
এদিকে অভিযুক্ত আবু সাইদ ও তার পরিবারের কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/ডেস্ক
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.