প্রকাশিত: ০৫ জুলাই, ২০২৬ ১৮:৫৫ (সোমবার)
এনসিপি নেতাকর্মীদের বি রু দ্ধে মা*ম*লা, তদন্তের দাবি

মৌলভীবাজার জেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি মামলাকে ‘মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেছেন সংগঠনটির দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ।


রবিবার দুপুর আড়াইটার দিকে মৌলভীবাজার পৌর শহরে স্থানীয় একটি অভিজাত রেস্টুরেন্টে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য এসব দাবি তুলে ধরে সংগঠনটি।

তারা বলেন, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা নিজেদের দায় এড়াতে এবং সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে এই ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দায়ের করেছেন।
 

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, গত কিছুদিন আগে কুলাউড়া সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক বাংলাদেশি নাগরিক হত্যার প্রতিবাদে একটি প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করেছিল জাতীয় নাগরিক পার্টি। ওই কর্মসূচি চলাকালে আব্দুল্লাহ আল হোসাইন, কামরুল হাসান, জাবেদ রহমান এবং শাফাকাত হোসেন সাদেকসহ একদল ব্যক্তি দলের অভ্যন্তরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন। এ সময় দলের মুখ্য সমন্বয়ক জনাব নাসির উদ্দীন পাটোয়ারীকে বহনকারী গাড়িতেও হামলা ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে।

নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, পরবর্তী কর্মসূচি চলাকালে কমলগঞ্জ উপজেলার শমসেরনগরেও একই ব্যক্তিরা আবারও বিশৃঙ্খলা ও হামলার চেষ্টা চালায়। দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিলে তারা মৌলভীবাজার ফিরে যান। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আব্দুল্লাহ আল হোসাইনকে ‘ছাত্রলীগ কর্তৃক অপহরণ’ করা হয়েছে বলে অপপ্রচার চালানো হয় এবং দলের দায়িত্বশীল নেতাদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়।
 

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, “মামলার এজাহারে যাদের সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে যে, তারা কেউই সাক্ষী হওয়ার বিষয়ে অবগত নন এবং তাদের কোনো বক্তব্য বা সম্মতি নেওয়া হয়নি। এই তথ্যগুলো প্রমাণ করে যে মামলাটি সম্পূর্ণ সাজানো। ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি যাচাই না করে, এমনকি জেলা পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতাদের বক্তব্য না নিয়েই মৌলভীবাজার মডেল থানা তড়িঘড়ি করে মামলাটি গ্রহণ করেছে, যা মামলার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।”

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, “আমরা শুরু থেকেই আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কিন্তু মিথ্যা অভিযোগের মাধ্যমে আমাদের নেতাকর্মীদের হয়রানি করা হচ্ছে। আমরা প্রশাসনে কাছে এই ঘটনার একটি নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি। সুষ্ঠু তদন্ত হলেই প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে এবং যারা ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত তাদের উদ্দেশ্যও সবার সামনে স্পষ্ট হবে।”
 

দলটি জানায়, তাদের কাছে অভিযুক্তদের বিশৃঙ্খলা ও মিথ্যা মামলার সংশ্লিষ্ট তথ্য-প্রমাণাদি রয়েছে, যা প্রয়োজনে তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে উপস্থাপন করা হবে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মৌলভীবাজার শাখার আহবায়ক খালেদ হাসান ও সদস্য সচিব রুহুল আমিন, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক এহসান বিন জাকারিয়া, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব বিমল কুমার সিংহ ।

উল্লেখ্য, শুক্রবার (২৬ জুন) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে এনসিপির মৌলভীবাজার জেলা শাখার ‘মুক্তিযোদ্ধা ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান বিষয়ক সম্পাদক’ আব্দুল্লাহ আল হুসাইনকে মৌলভীবাজার শহরের বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন কোদালিপুর এলাকার জাম্বু মিয়ার গ্যারেজের পেছন থেকে জুনেদের নেতৃত্বে দলেরই কয়েকজন কর্মী তার গলায় ছুরি ধরে জোরপূর্বক একটি গাড়িতে তুলে নেয়। গাড়িটি দ্রুত শ্রীমঙ্গলের দিকে রওনা হয়। অপহরণের সময় গাড়ির ভেতরে আব্দুল্লাহ আল হুসাইনকে হুমকি দিয়ে বলা হয়, তিনি যদি দলের অন্য নেতা এহসান জাকারিয়ার সঙ্গে কোনও ধরনের দ্বন্দ্বে জড়ান, তবে তাকে মেরে গুম করে ফেলা হবে। পরবর্তীকালে রাত আনুমানিক ১১টার দিকে শ্রীমঙ্গল শহরের ২ নম্বর পুল এলাকায় তাকে চলন্ত গাড়ি থেকে নামিয়ে দিয়ে অপহরণকারীরা পালিয়ে যায়। এঘটনায় নেতাকর্মীরা আসামী করে মামলা রুজু হয।

 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/সাইফুল/এসডি-১১