ছবি: সংগৃহিত
সুনামগঞ্জের দিরাই পৌরসভার একটি ড্রেন নির্মাণকে কেন্দ্র করে পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী মলয় ভট্টাচার্যের কথিত মন্তব্যসংবলিত একটি অডিও রেকর্ড বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এতে প্রকৌশলীর কথিত বক্তব্য নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
অডিও রেকর্ডে শোনা যায়, মজলিশপুর সরকারি পুকুরপাড় সড়কের এক বাসিন্দা ড্রেন নির্মাণের জন্য পূর্বে করা মাপজোখের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে উপ-সহকারী প্রকৌশলী মলয় ভট্টাচার্য বলেন, এখন আর কোনো ড্রেন নাই, টেন্ডার নাই।
পরে ওই বাসিন্দা জানতে চান, তাহলে প্রকল্পটি কোনো প্রক্রিয়ায় আছে কি না। জবাবে তিনি বলেন, কোনো প্রক্রিয়ায় নাই।এরপর টেন্ডার হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপনেরা করিলাইন। বাসিন্দা প্রশ্ন করেন, “আমরা কেন করব? এটা কি কোনো ধারাবাহিকতায় থাকবে না? অথচ পৌরসভায় তো একের পর এক ড্রেনের টেন্ডার হচ্ছে। উত্তরে প্রকৌশলী বলেন, কোনো ধারাবাহিকতা নাই। আমি তো বলছি এটা টেন্ডার হবে না। কেন হবে না— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এটা আমি আপনারে কইতে পারব না, ফোন রাখইন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মলয় ভট্টাচার্য প্রায় এক যুগেরও বেশি সময় ধরে দিরাই পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতার শিকার মজলিশপুর সরকারি পুকুরপাড় সড়কের অন্তত শতাধিক পরিবার। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে পানি জমে চলাচল অযোগ্য হয়ে পড়ে। এতে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, মুসল্লি, নারী, শিশু ও বয়স্ক মানুষকে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। শুধু তাই নয়, বাসাবাড়ির ব্যবহার্য ও গোসলের পানি নিষ্কাশনেরও কোনো ব্যবস্থা না থাকায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের সৃষ্টি হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় দুই বছর আগে ড্রেন নির্মাণের দাবিতে পৌরসভায় লিখিত আবেদন করা হলেও আজ পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাদের দাবি, একই সময়ে পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক ড্রেন নির্মাণের টেন্ডার হয়েছে। এমনকি অল্প কয়েকটি পরিবারের সুবিধার জন্যও নতুন ড্রেন নির্মাণ করা হলেও এই এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি বছরের পর বছর অবহেলিত রয়েছে।
এলাকাবাসী আরও জানান, তৎকালীন পৌর প্রশাসক অভিজিৎ সূত্রধর তাদের আশ্বস্ত করেছিলেন যে, প্রকল্পটি দ্রুত টেন্ডারে যাবে এবং প্রকৌশল বিভাগ এ নিয়ে কাজ করছে। পরবর্তীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক সনজীব সরকারের সঙ্গে বৈঠকের পর রাস্তার পাশে সরকারি জায়গা নির্ধারণ ও মাপজোখের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হলেও বাস্তবে কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, বছরের পর বছর ধরে একই সমস্যার কথা জানিয়েও কোনো সমাধান না পাওয়ায় তারা হতাশ। এখন আবার কথিত অডিওতে “টেন্ডার হবে না” এবং “আপনারা নিজেরাই ড্রেন করে নিন” ধরনের মন্তব্য তাদের ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
এ বিষয়ে দিরাই পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী মলয় ভট্টাচার্যের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি এখন হাসপাতালে রোগী দেখতে এসেছি। পরে কথা বলব।
পৌর প্রশাসক ও এসিল্যান্ড জিয়াউল হাসান সৌরভ বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আমি এখনও অবগত নই। তবে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে।
ড্রেন নির্মাণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। প্রতিটি ওয়ার্ড আমি নিজে পরিদর্শন করব। যেসব এলাকায় আগে উন্নয়নকাজ, বিশেষ করে ড্রেন নির্মাণ প্রয়োজন, সেগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/ইকে
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.