প্রকাশিত: ১০ জুলাই, ২০২৬ ১৪:২৯ (শনিবার)
ইরানের সঙ্গে ফের যু*দ্ধে জড়ানোর ঘোষণা ইসরাইলের, যা বলল যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের মধ্যে পুনরায় সংঘাত শুরু হওয়ায় যে কোনো মুহূর্তে প্রয়োজন হলে ইসরাইল আবারও ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যেতে প্রস্তুত। তবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে সংঘাতে নতুন করে ইসরায়েলকে জড়াতে আগ্রহী নয়।

 

 


ইসরাইলি বিমানবাহিনীর নতুন পাইলটদের স্নাতক সমাপনী অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা দেন। নিজের বক্তব্যে ইয়াল জামির বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ‘এখনো শেষ হয়নি।’ তিনি বলেন, ‘পরিকল্পনার খাতায় নতুন নতুন পরিকল্পনা রয়েছে। আমাদের সামনে এখনও বড় বড় সামরিক অভিযান অপেক্ষা করছে। প্রস্তুত থাকুন।’

 

 


নেতানিয়াহুর বক্তব্যে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরাইলের সামরিক অভিযানের বিষয়টি উঠে আসে। তিনি নতুন পাইলটদের বলেন, যতদিন প্রয়োজন হবে ততদিন ইসরাইলি বাহিনী লেবাননে অবস্থান করবে। তিনি বলেন, ‘উত্তরাঞ্চলের আমাদের সীমান্তবর্তী জনপদগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যতদিন প্রয়োজন হবে, ততদিন আমরা দক্ষিণ লেবাননের নিরাপত্তা অঞ্চলে অবস্থান করব।’

 

 


লেবানন দাবি করছে, আগামী সপ্তাহে রোমে নির্ধারিত পরবর্তী দফার সরাসরি আলোচনায় অংশ নেওয়ার আগে ইসরাইলকে দক্ষিণ লেবাননের দুটি ‘পাইলট জোন’ থেকে সেনা প্রত্যাহার করে সেগুলোর নিয়ন্ত্রণ লেবাননের সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে হবে। তবে ইসরাইলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননে একটি বাফার জোন বা নিরাপত্তা বেষ্টনী বজায় রাখবে।

 

 

ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান প্রসঙ্গে নেতানিয়াহু আবারও বলেন, ‘চুক্তি হোক বা না হোক, ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে পারবে না।’ 

 

 

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইসরাইলের জন্য ‘একটি অসাধারণ শক্তিবর্ধক’ হিসেবে কাজ করে।

 

 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম সরাসরি উল্লেখ না করলেও, নেতানিয়াহু পরোক্ষভাবে তার সেই ঘোষণার দিকে ইঙ্গিত করেন, যেখানে ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ন্যাটো সদস্য এবং ইসরাইলের অন্যতম কড়া সমালোচক তুরস্কের কাছে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রি করতে চান।

 

 

নেতানিয়াহু বলেন, ‘যুদ্ধ শেষ হয়নি। পুরোনো চ্যালেঞ্জগুলোর পাশাপাশি নতুন নতুন চ্যালেঞ্জও সামনে আসছে। পুরোনো অক্ষগুলো ভেঙে পড়ছে, নতুন অক্ষ গড়ে উঠছে। আমরা প্রতিটি সম্ভাব্য পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমরা একটি বিষয় জানি, আমাদের সব সময় আমাদের শত্রুদের চেয়ে শক্তিশালী থাকতে হবে।’

 

 

তিনি আরও বলেন, ‘ইসরাইলের আকাশসীমায় শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখা আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা নীতির অন্যতম ভিত্তি। একই সঙ্গে অস্থির মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্যও এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’ এফ-৩৫ বিক্রির বিরোধিতায় এই সপ্তাহে তিনি যে যুক্তি তুলে ধরেছিলেন, তার বক্তব্যে সেটিরই পুনরাবৃত্তি করে তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের জনবল ও প্রযুক্তিকে ধারাবাহিকভাবে উন্নত করার মাধ্যমে এই সক্ষমতা ধরে রাখছি।’

 

 

অন্যদিকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাটজ জোর দিয়ে বলেন, আইডিএফ ‘ইরানে পুনরায় সামরিক অভিযান শুরু করার জন্য সতর্ক এবং সম্পূর্ণ প্রস্তুত।’ 

 

 

তিনি নতুন পাইলটদের বলেন, প্রয়োজন হলে সামরিক বাহিনী আবারও আকাশসীমায় পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে এবং সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে ইসরাইলি অভিযান চালিয়ে ইরানের হুমকি দূর করতে প্রস্তুত। এমনকি ‘তৃতীয়বারের মতো’ও হামলা চালানো হতে পারে। কাটজ বলেন, ‘যদি আমাদের (যুদ্ধে) ফিরে যেতে হয়, তাহলে আমরা আরও অনেক বেশি শক্তি নিয়ে ফিরে যাব।’

 

 


বৃহস্পতিবার নেতানিয়াহু টেলিফোনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেন। ইসরায়েলের প্রকাশিত বিবরণ অনুযায়ী, তিনি পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে ট্রাম্পকে অবহিত করেন।


সিলেটভিউ২৪ডটকম/ ডেস্ক