ছবি: সিলেট ভিউ গ্রাফিক্স।
সিলেট জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পদকে ঘিরে টানা আলোচনা-সমালোচনা। এর মধ্যেই মাত্র ১৮ দিনের ব্যবধানে চারজন কর্মকর্তাকে এ পদে পদায়ন করা হয়েছে। কিন্তু সিলেটের সাবেক জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমের বিদায়ের পর এই পদে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয় পিংকি সাহাকে। তার কিছুদিনের মাথায় নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় কুমিল্লার ডিসি মু. রেজা হাসানকে কিন্তু তিনিও শেষপর্যন্ত তার কর্মস্থলে পৌছাতে পারেন নি। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে ফেরত যেতে হয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে।
সর্বশেষ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উপসচিব আব্দুল্লাহ আল মামুনকে নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলেও তিনি কবে সিলেটে যোগ দেবেন, তা এখনও নিশ্চিত নয়। তবে নানা কারণে এখন পর্যন্ত কেউই ডিসি পদে আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারেননি। ফলে এখন পর্যন্ত অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) পিংকি সাহা ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
জানা যায়, সিলেটের জেলা প্রশাসক পদে একের পর এক পদায়ন হলেও এখন পর্যন্ত নতুন কোনো জেলা প্রশাসক দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারেননি। গত ২১ জুন সাবেক জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহারের পর থেকে জেলার প্রশাসনিক দায়িত্ব ভারপ্রাপ্ত হিসেবে পালন করছেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহা। সবশেষ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উপসচিব আব্দুল্লাহ আল মামুনকে সিলেটের নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, আগামী রবিবার (১২ জুলাই) অথবা সোমবার (১৩ জুলাই) এই দুইদিনের যেকোনো একদিন সিলেটের নতুন জেলা প্রশাসক তার নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে পারেন। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
এর আগে গত ২৮ জুন কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসানকে সিলেটের জেলা প্রশাসক হিসেবে পদায়ন করা হয়েছিল। তিনি সিলেটে যোগদানের উদ্দেশ্যে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালেও শেষ মুহূর্তে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ফিরে যান। পরে সিলেটে যোগদানের আগেই তাকে ওই পদ থেকে সরিয়ে নতুন জেলা প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। এদিকে কুমিল্লায় তার স্থলাভিষিক্ত রোজী আক্তার ইতোমধ্যে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও প্রশাসনের একাধিক সূত্র জানায়, রেজা হাসানকে বিমানবন্দর থেকে ফিরিয়ে নেওয়ার পর একই দিন তাকে সচিবালয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে দেখা যায়। সিলেটের একজন প্রভাবশালী মন্ত্রীর আপত্তির কারণেই শেষ মুহূর্তে তার যোগদান স্থগিত করা হয়। যদিও এ বিষয়ে সরকারিভাবে কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি।
এর আগে ২১ জুন সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে উপসচিব হিসেবে সংযুক্ত করা হয়। ওই সময় জারি করা প্রজ্ঞাপনে তার প্রত্যাহারের কারণ কিংবা নতুন জেলা প্রশাসকের নাম উল্লেখ করা হয়নি। পরবর্তীতে ২৮ জুন মু. রেজা হাসানকে নিয়োগ দেওয়া হলেও তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারেননি। সবশেষ ৯ জুলাই আব্দুল্লাহ আল মামুনকে নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে পদায়ন করা হয়।
এভাবে মাত্র ১৮ দিনের ব্যবধানে সিলেটের জেলা প্রশাসক পদে চারজন কর্মকর্তাকে পদায়ন করা হলেও এখনো কার্যত শূন্য রয়েছে জেলার সর্বোচ্চ প্রশাসনিক এই পদ।
প্রসঙ্গত, সাবেক জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন কারণে তিনি সিলেটজুড়ে আলোচনায় ছিলেন। বিশেষ করে তিনি পাথর লুটপাট কাণ্ডের সময় সিলেটে যোগদান করেন এবং এর পর থেকে কয়েক লক্ষ ঘনফুট সাদাপাথর প্রতিস্থাপন করেন। এর পর সিলেটের বিভিন্ন ইস্যুকে কেন্দ্র করে তিনি ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনায় ছিলেন। সম্প্রতি হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরাণ (রহ.)-এর মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার উদ্যোগ দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়। গত ১২ জুন তিনি দুই মাজার পরিদর্শন করে আয়-ব্যয়ের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনার ঘোষণা দেন। এর ধারাবাহিকতায় ১৮ জুন মাজারের পুরোনো দানবাক্স সিলগালা করে নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে বহু বছরের ঐতিহ্যবাহী তিনটি দানের ডেগও সিলগালা করা হয়।
দানের অর্থের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা নিয়ে জেলা প্রশাসকের পক্ষে-বিপক্ষে বিস্তর আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়। কেউ জেলা প্রশাসকের উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে অভিহিত করেন। তবে বিষয়টি নিয়ে জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। একদিকে অনেকেই এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান, অন্যদিকে প্রশাসনের মাধ্যমে দান ব্যবস্থাপনায় হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে সমালোচনাও করেন অনেকে। আবার প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় দানবাক্স স্থাপনের বিষয়ে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ রকম আলোচনা-সমালোচনা চলাকালেই সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে নেয় সরকার। যদিও সরকারের একাধিক মন্ত্রী জেলা প্রশাসক বদলির ঘটনাকে ‘রুটিন ওয়ার্ক’ বলে মন্তব্য করেন।
প্রত্যাহারের আদেশ জারির একদিন পরই সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) পিংকি সাহার কাছে দায়িত্ব অর্পণ করেন বিদায়ী জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। নতুন জেলা প্রশাসক যোগদান না করা পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এডিএম পিংকি সাহা ।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/ এহিয়া/ ০৩
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.