প্রকাশিত: ১১ জুলাই, ২০২৬ ০০:০০ (শনিবার)
ওসমানীতে নামবে যে তিন বিদেশি এয়ারলাইন্স

দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হতে যাচ্ছে সিলেটবাসীর। পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হওয়া স্বত্তেও ওসমানী থেকে বিদেশি এয়ারলাইন্স উঠানামা না করার আক্ষেপ ছিল তাদের। কিন্তু এবার সেই আক্ষেপ ঘুচতে যাচ্ছে। চলতি বছরের শেষের দিকে অথবা আগামী বছরের শুরু থেকে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিদেশি তিনটি এয়ারলাইন্স ফ্লাইট পরিচালনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। 

এতে সিলেটের সাথে বিভিন্ন দেশের সরাসরি ফ্লাইট ও উড়োজাহাজের গন্তব্য বাড়বে। এছাড়া ভারতের সাথে ইতিবাচক সম্পর্কের উচ্চতা বাড়লে সিলেটের পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলোতেও ফ্লাইট পরিচালনার কথা ভাবছে সরকার। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কয়েক হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ করা হয়েছে। নির্মাণ করা হয়েছে আধুনিক ওয়্যারহাউজ। নতুন টার্মিনালসহ আরও বেশ কিছু উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সুযোগ-সুবিধা থাকলেও ওসমানীতে উঠানামা করে না বিদেশি কোন এয়ারলাইন্স। বর্তমানে ওসমানী থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের যুক্তরাজ্য (লন্ডন, ম্যানচেস্টার), সৌদিআরব, কাতার, ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে (শারজাহ ও আবুদাবি) সরাসরি ফ্লাইট চালু রয়েছে। আগামী আগস্টে ইউএস-বাংলা সৌদি আরবের মক্কা ও মদিনায় সরাসরি ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এদিকে, কোন বিদেশি এয়ারলাইন্স হিসেবে ওসমানী বিমানবন্দরের রানওয়ে সর্বপ্রথম স্পর্শ করেছিল ‘ফ্লাই দুবাই’। ২০১৫ সালের ১ এপ্রিল সিলেট-দুবাই রুটে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করে ফ্লাই দুবাই’। শুরুতে সপ্তাহে ৫ দিন ফ্লাইট পরিচালনা করতো এয়ারলাইন্সটি। পরে যাত্রী চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় প্রতিদিনই ‘ফ্লাই দুবাই’র ফ্লাইট ওঠানামা করত ওসমানীতে। কিন্তু নিজেদের সমস্যার কারণে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে ‘ফ্লাই দুবাই’ সিলেট-দুবাই রুটে তাদের ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ করে দেয়। 

বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর ‘ফ্লাই দুবাই’ ফের সিলেট থেকে ফ্লাইট পরিচালনায় আগ্রহ প্রকাশ করেছে। দুবাইভিত্তিক এয়ারলাইন্সটিকে ফ্লাইট অপারেশনের জন্য নীতিগত সবধরণের সহযোগিতার আশ্বাসের কথা জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা। ট্রাভেলস ব্যবসার সাথে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন এ বছরের শেষের দিকে ‘ফ্লাই দুবাই’ ওসমানী থেকে ফের ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারে। 


এদিকে, ওসমানী বিমানবন্দর থেকে ওমানের মাস্কটে ফ্লাইট পরিচালনা করতে আগ্রহ ব্যক্ত করেছে ‘সালাম এয়ার’। চলতি বছরের ১ সেপ্টেম্বর থেকে সিলেট-মাস্কট রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে ওমানভিত্তিক বাজেট এয়ারলাইন্সটি। ফ্লাইটটি চালু হলে তুলনামূলক স্বল্প ভাড়ায় সিলেটের ওমান প্রবাসীরা যাতায়াতের সুযোগ পাবেন। 


এছাড়া ওসামনী বিমানবন্দর থেকে ফ্লাইট পরিচালনা করতে চায় সংযুক্ত আরবআমিরাত ভিত্তিক এয়ারলাইন্স এয়ার আরাবিয়া। চলতি বছরের শেষের দিকে কিংবা আগামী বছরের শুরুতে ফ্লাইট পরিচালনার প্রস্তুতি নিচ্ছে এয়ারলাইন্সটি। 


ওসমানী আর্ন্তজাতিক বিমাবন্দরের পরিচালক হাফিজ আহমদ জানিয়েছেন, শুরুতে ‘সালাম এয়ার’ সপ্তাহে সিলেট থেকে সরাসরি তিনটি ফ্লাইট পরিচালনা করার আগ্রহ ব্যক্ত করেছে। এয়ার এরাবিয়া ও ফ্লাই দুবাই সিলেট থেকে ফ্লাইট পরিচালনা করতে আগ্রহ দেখিয়েছে। 


এদিকে, গত রবিবার বিমানের সিলেট-ম্যানচেস্টার ফ্লাইট ফের চালু হয়েছে। ওইদিন সকালে যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার থেকে ওসমানী বিমাবন্দরে নামা যাত্রীদের স্বাগত জানান বেসামরিক বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। 


এ উপলক্ষে বিমানবন্দরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী ওসমানী বিমাবন্দর নিয়ে নতুন সম্ভবনার কথা জানিয়েছেন। তিনি জানান, ওসমানীকে একটি কার্যকর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তরিত করতে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। ভারতের সাথে ইতিবাচক সম্পর্ক সেই উচ্চতায় গেলে সিলেট-গোয়াহাটি ফ্লাইট চালু হতে পারে। এছাড়াও সিলেটের আশপাশের রুটগুলোতেও সরাসরি ফ্লাইট চালুর সুযোগ সৃষ্টি হবে। এতে আন্তঃরাষ্ট্রীয়, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগ বাড়বে। সরকার এ লক্ষ্যেই কাজ করছে। 

এ প্রসঙ্গে আটাব সিলেটের সাবেক সভাপতি আবদুল জব্বার জলিল জানান, ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের যে সক্ষমতা রয়েছে সেটির পূর্ণ ব্যবহার আমরা করতে পারছি না। এই বিমানবন্দর থেকে বিদেশি এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ওঠানামা করবে এটা সিলেটবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি। এ ব্যাপারে বর্তমান সরকারের নেওয়া উদ্যোগ সফল হলে সিলেটবাসীর দাবি পূরণের পাশাপাশি এ অঞ্চলের প্রবাসীরা উপকৃত হবেন।


সিলেটভিউ২৪ডটকম/শাদিআচৌ