প্রকাশিত: ১১ জুলাই, ২০২৬ ১৯:০০ (রবিবার)
বিরিয়ানিতেই ভাগ্য বদল, দু'বছর পর মায়ের কোলে সিয়াম

ছবি: সংগৃহিত

এক প্লেট বিরিয়ানি খাওয়ার আবদারই হয়ে উঠল দুই বছর ধরে নিখোঁজ থাকা এক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী তরুণের পরিবারে ফেরার সেতুবন্ধন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওর সূত্র ধরে অবশেষে পরিবারের কাছে ফিরে গেছে কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার বাসিন্দা মৃত মাহাবুলের ছেলে  বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী সিয়াম (১৮)।

 

জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে বাবার মৃত্যুর দেড় মাস পর একটি ওয়াজ মাহফিলে গিয়ে হারিয়ে যায় সিয়াম। এরপর দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। ঘুরতে ঘুরতে একসময় সে সুনামগঞ্জ সদরে চলে আসে। পরে দিরাই শহর হয়ে শ্যামারচর বাজার এলাকায় অবস্থান করতে থাকে।

 

সম্প্রতি শ্যামারচর বাজারে সিয়ামের সঙ্গে দেখা হয় ব্রজেন্দ্রগঞ্জ রামচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর মোজাম্মেল হকের। তাকে দেখেই সিয়াম বিরিয়ানি খাওয়ার ইচ্ছার কথা জানায়। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে মোজাম্মেল হক তাকে  বিরিয়ানি হাউসে নিয়ে খাবার খাওয়ান এবং সেই মুহূর্ত ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন।

 

মোজাম্মেল হক বলেন,আমি হঠাৎ শ্যামারচর বাজারে সিয়ামকে দেখি। আমাকে দেখেই সে বিরিয়ানি খেতে চায়। আমি তাকে বিরিয়ানি খাওয়াই এবং ভিডিওটি ফেসবুক ও টিকটকে পোস্ট করি। পরদিনই সিয়ামের বড় চাচাতো ভাই ভিডিওটি দেখে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য তারা পরিবারের ছবি পাঠান। সবকিছু মিলিয়ে নিশ্চিত হয়ে তাদের পরদিন আসতে বলি।

 

তিনি জানান, পরদিন কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলা থেকে সিয়ামের মা, বোন ও স্বজনরা শ্যামারচর বাজারে আসেন। এর আগে তিনি সিয়ামকে নিজের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে গোসল করান, চুল কেটে দেন এবং খাবারের ব্যবস্থা করেন।

 

বিকেলে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সিয়ামের পুনর্মিলন ঘটে। দীর্ঘ দুই বছর পর মা, ভাই ও বোনকে দেখে সিয়াম তাদের চিনে ফেলে। আবেগঘন সেই মুহূর্তে উপস্থিত সবাই কান্নায় ভেঙে পড়েন।

 

মোজাম্মেল হক আরও বলেন, পরে আমি তাদের সবাইকে আমার বাড়িতে নিয়ে যাই। রাতে থাকার ব্যবস্থা করি। পরদিন সকালে নৌকায় করে তাদের নিজ বাড়ির উদ্দেশে রওনা হওয়ার ব্যবস্থা করি। এর আগেও আমি একজন মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিকে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে পেরেছি। ভবিষ্যতেও এমন অসহায় ও পথহারানো মানুষদের পরিবারে ফিরিয়ে দিতে কাজ করতে চাই। এজন্য সমাজের সবার সহযোগিতা কামনা করছি।

 

শ্যামারচর বাজারের ব্যবসায়ী কবির আহমেদ ও ইসমাইল আহমেদ ইমন বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, মানবিক উদ্যোগে ব্যবহার করলে তা মানুষের জীবনেও যে বড় পরিবর্তন আনতে পারে তার প্রমাণ মোজাম্মেল হক। সিয়ামের পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলনের ঘটনাটি তারই একটি উজ্জ্বল উদাহরণ।

 

সিয়ামকে খুঁজে পেতে সহযোগিতা করায় শিক্ষক মোজাম্মেল হকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সিয়ামের মা সাথি বেগম বলেন, আমরা আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম। আল্লাহর রহমত এবং স্যারের মানবিক উদ্যোগের কারণেই আমাদের ছেলে আজ আবার পরিবারের কাছে ফিরে এসেছে।

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম/হিল্লোল/ইকে-০১