ফাইল ছবি
এখন বর্ষার ভরা মওসুম। সময়টা বৃষ্টির সাথে সাথে ডেঙ্গুরও। প্রতিদিনই আক্রান্তের খবর পাাওয়া যাচ্ছে।আতঙ্ক ছড়াচ্ছে সচেতন মহলে। তবে আশার কথা, এখনো সিলেট মহানগর এলাকায় কোনো ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়নি। ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবেলায় সার্বিকভাবে ভালো প্রস্তুতির মতো আশার বাণীও শুনিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে দেওয়া তথ্য অনুযাায়ী, গত ২৪ ঘন্টায় সিলেট বিভাগে একজন ডেঙ্গু ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী সনাক্ত হয়েছে। তাও সেটি হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে।
গত ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত সিলেট জেলায় ডেঙ্গু সনাক্ত হয়েছে ১৪ জনের। আর জানুয়ারি থেকে বিভাগের ৪ জেলায় মোট সনাক্ত হয়েছেন মোট ৭৮ জন।
এরমধ্যে হবিগঞ্জে ৩৮, সুনামগঞ্জে ১৫ ও মৌলভীবাজার জেলায় সনাক্ত হয়েছেন ৮ জন।
তবে সচেতন মহলের আশঙ্কা, সনাক্তের হার দ্রুত বাড়তে পারে। বরাবরই এরকম হয়। হঠাৎ এ হার আতঙ্কজনক পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। অবশ্য সেজন্য ডেঙ্গু মোকাবেলায় সার্বিক প্রস্ততিও বেশ জোরেশুরেই চলছে।
সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মাহবুবুল আলম জানিয়েছেন, প্রতিটি জেলা পর্যায়ে তারা সার্বিক নির্দেশনা প্রদান করেছেন। পরীক্ষার প্রয়োজনী সরঞ্জাম মজুদ রাখা হয়েছে। আছে পর্যাপ্ত স্যালাইন। ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কেবলমাত্র ডেঙ্গু রোগীদের জন্য একটি আইসিইউ বেড রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে বেড সংখ্যা বাড়ানো হতে পারে। সেখানে ডেঙ্গু কর্ণারও আছে। পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে একই তথ্য নিশ্চিত করেছেন সিলেটের সিভিল সার্জন ডাক্তার মো. নাসির উদ্দিন। তিনি জানান, প্রতি শনিবার বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং সে অনুযায়ী কাজও চলছে।
এদিকে সিলেট মহানগর এলাকায় ডেঙ্গু মোকাবেলায় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বেশ জোরেশুরে। গত ১ জুলাই থেকে বিভিন্ন স্থানে অ্যাডিস মশার লার্ভা ধ্বংসে বিশেষ ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। অন্তত ২ হাজার বাসা বা বাড়িতে পরিচ্ছন্নতা নিয়ে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। প্রচারণা চলছে। তবে বৈরি আবহওয়ার কারণে গত কয়েকদিন ওষুধ ছিটানোর কাজ স্থগিত রয়েছে। আবহাওয়া অনুকুল হলে আবারও এ কাজ শুরু হবে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী সিলেটভিউকে বলেন, আমরা নগরবাসীর স্বাস্থ্য সেবার বিষয়ে সচেতন। লার্ভা ধ্বংসে কাজ চলছে। শুরু হয়েছে অনেক আগে। আমরা অন্তত ২০০০ বাড়িতে সচেতনতা মূলক লিফলেট বিতরণ করেছি। এ কাজে মসজিদের ঈমাম মুয়াজ্জিন এবং জনপ্রতিনিধিদের সংশ্লিষ্ট করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আমাদের তৎপরতায় এবার নগরীতে মশার উপদ্রব কিছুটা হলেও কম।
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার জাহিদ হোসেন এ প্রসঙ্গে বলেন, ১ জুলাই থেকে আমরা লার্ভা ধ্বংসের কাজ শুরু করেছি। বৃষ্টির কারণে গত কয়েকদিন থেকে স্থগিত। আবহাওয়া ভালো হলে আবারও কাজ শুর হবে।
তিনি জানান, ১ জানুয়ারি থেকে ১৩ জুলাই পর্যন্ত সিলেট সিটি কর্পোরেশন এলাকার কোনো ব্যক্তি ডেঙ্গু আক্রান্ত হন নি।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/ইকে
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.