সেমিফাইনালে বুধবারে মুখোমুখি হবে ফুটবল বিশ্বের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। ২০০৫ সালের নভেম্বরের পর এই প্রথম আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে একে অপরের বিপক্ষে খেলতে নামছে দল দুটি।
৩৯ বছর বয়সী লিওনেল মেসিও ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবেন। তবে ম্যাচ শুরুর আগেই মাঠের বাইরের এক গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে এগিয়ে গেছে আর্জেন্টিনা। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচকে সামনে রেখে ফিফার কাছে বিশেষ একটি অনুরোধ জানিয়েছিল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা, আর সেই আবেদন অনুমোদন করেছে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
আর্জেন্টাইন সাংবাদিক গ্যাস্টন এদুল জানিয়েছেন, ফিফার কাছে আর্জেন্টিনা অনুরোধ করেছিল তারা যেন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তাদের চেনা আকাশি-সাদা জার্সির বদলে ডার্ক ব্লু বা গাঢ় নীল রঙের জার্সি পরে খেলতে পারে। চলতি বিশ্বকাপে ছয়টি ম্যাচের মধ্যে পাঁচটি ম্যাচই আর্জেন্টিনা খেলেছে তাদের ঐতিহ্যবাহী আকাশি-সাদা স্ট্রাইপের জার্সি পরে। কেবল গ্রুপ পর্বে জর্ডানের বিপক্ষে ৩-১ ব্যবধানে জেতা ম্যাচটিতে তারা অন্য জার্সি পরেছিল।
তাহলে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কেন হঠাৎ এই জার্সি বদলের সিদ্ধান্ত? এর পেছনে জড়িয়ে আছে এক চরম কুসংস্কার আর ইতিহাস। অতীতের পাতা উল্টালে দেখা যায়, ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল এবং ১৯৯৮ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে এই গাঢ় নীল রঙের জার্সি পরেই ইংল্যান্ডকে বিদায় করেছিল আর্জেন্টিনা।
১৯৮৬ সালে মেক্সিকো সিটির অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে এই নীল জার্সি গায়ে জড়িয়েই দিয়েগো ম্যারাডোনা করেছিলেন ফুটবল ইতিহাসের সেই বিখ্যাত ‘হ্যান্ড অব গড’ এবং ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’। সেই ম্যাচে ম্যারাডোনার পরা ঐতিহাসিক জার্সিটি ম্যাচ শেষে নিয়েছিলেন ইংল্যান্ডের মিডফিল্ডার স্টিভ হজ, যা ২০২২ সালে নিলামে রেকর্ড ৭১ লাখ ৪২ হাজার ৫০০ পাউন্ডে বিক্রি হয়। এরপর ১৯৯৮ সালেও নীল জার্সি পরেই টাইব্রেকারে ইংল্যান্ডকে হারিয়েছিল আর্জেন্টিনা। ডেভিড বেকহ্যামের সেই লাল কার্ড আর দিয়েগো সিমিওনেকে লাথি মারার ঘটনা তো ফুটবলপ্রেমীদের মনে আজও দাগ কেটে আছে। তাই ইতিহাস এবং সৌভাগ্যের পুনরাবৃত্তি ঘটাতেই এই কুসংস্কারকে সঙ্গী করেছে আলবিসেলেস্তেরা।
অবশেষে সেই অনুরোধে সাড়া দিয়েছে ফিফা। তাদের ম্যাচ কালার ডেজিগনেশন ডকুমেন্ট অনুযায়ী, আর্জেন্টিনা এই ম্যাচে নামবে গাঢ় নীল জার্সি, কালো শর্টস এবং কালো মোজা পরে। অন্যদিকে ইংল্যান্ড খেলবে তাদের চিরাচরিত সাদা কিট পরে। গোলপোস্টের নিচে ইংল্যান্ডের জর্ডান পিকফোর্ড থাকবেন হলুদ জার্সিতে, আর আর্জেন্টিনার বাজপাখি এমিলিয়ানো মার্টিনেজকে দেখা যাবে গাঢ় সবুজ জার্সিতে।
ইতিহাস গড়ার লক্ষ্যে এই সেমিফাইনাল দুদলের জন্যই ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। আর্জেন্টিনা যেখানে তাদের সপ্তম বিশ্বকাপ ফাইনালের টিকিট কাটতে মরিয়া, সেখানে ইংল্যান্ডের লক্ষ্য ১৯৬৬ সালের পর প্রথমবার ফাইনালে পা রাখা।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/ডেস্ক/এসডি-১২
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.