ছবি: সিলেট ভিউ গ্রাফিক্স ও এআই।
সিলেটে উত্তরা ব্যাংকের আম্বরখানা শাখা থেকে এক ব্যবসায়ীর টাকা গায়েব হয়ে যাওয়ার ঘটনায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ এই ঘটনার তদন্তে কাজ করছে বলে নিশ্চিত করেছেন এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুর রহমান।
তিনি বলেন, ‘উত্তরা ব্যাংকের আম্বরখানা শাখায় এক ব্যবসায়ীর ব্যাংক হিসাব থেকে ৫ লাখ টাকা স্থানান্তরের ঘটনায় থানায় একটি জিডি হয়েছে। অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
জানা যায়, সিলেটে উত্তরা ব্যাংকের আম্বরখানা শাখা থেকে ব্যবসায়ী মো. লায়েক আহমদের ৫ লাখ টাকা গায়েব হয়ে গেছে। মাত্র তিনঘন্টার ব্যবধানে ১০টি লেনদেনের মাধ্যমে চারটি ব্যাংক হিসাব ও একটি বিকাশ নাম্বারে ওই ব্যবসায়ীর ৫ লাখ টাকা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এবং এই বিষয়ে ব্যাংকে ধর্ণা দিয়েও কর্মকর্তাদের কাছ থেকে টাকা খোঁয়া যাওয়ার ব্যাপারে কোন সদুত্তর পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
ভূক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. লায়েক আহমদ সিলেট সদর উপজেলার সাদিপুর সোনাতলা গ্রামের মো. জহির আলীর ছেলে। তিনি সোনাতলা বাজার মাদ্রাসা মার্কেটের ব্যবসায়ী।
লায়েক আহমদের ব্যাংক স্টেটমেন্টের তথ্যে দেখা যায়, গত ১০ জুন রাত ৮টা ৬ মিনিট থেকে রাত ১১টা ৬ মিনিট এর মধ্যে ১০টি লেনদেনের মাধ্যমে প্রাইম ব্যাংকের দুটি, ইসলামি ব্যাংকের দুটি ও একটি বিকাশ নাম্বারে টাকাগুলো স্থানান্তর করা হয়েছে।
লায়েক আহমদ জানান, চলতি বছরের ৯ এপ্রিল উত্তরা ব্যাংক আম্বরখানা শাখায় তিনি তাঁর সঞ্চয়ী হিসাবে ৫ লাখ টাকা জমা রাখেন। ১ জুলাই তাঁর মোবাইলে সার্ভিস চার্জ বাবত ১০০ টাকা কেটে নেয়ার বার্তা আসে। এসময় তিনি দেখতে পান ব্যাংকে তার হিসাবে মাত্র ২ হাজার ৩৫ টাকা জমা আছে। ব্যাকের এই খুদেবার্তা পেয়ে তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। ২ জুলাই তিনি ব্যাংকে গেলে তারা জানায় অ্যাপস ব্যবহার করে টাকাগুলো স্থানান্তর করা হয়েছে। এসময় লায়েক আহমদ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের জানান, তিনি ব্যাংকের কোন অ্যাপস এমনকি ডেবিট কার্ডও ব্যবহার করেন না।
এরপরও তিনি বার বার ব্যাংকে গিয়ে ব্যবস্থাপকসহ অন্য কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করেন। কিন্তু কোন কর্মকর্তাই তাকে কোন সদুত্তর দিতে পারেননি। উল্টো একেক সময় একেক কথা বলে হয়রানি করছেন বলে অভিযোগ করেন লায়েক আহমদ। ব্যাংক থেকে টাকা খোয়া যাওয়ার ঘটনার সাথে ব্যাংকের কর্মকর্তা জড়িত বলেও অভিযোগ করেন লায়েক। এ ঘটনায় তিনি এয়ারপোর্ট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে উত্তরা ব্যাংকের আম্বরখানা শাখার ব্যবস্থাপক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘এই ঘটনায় ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ তদন্ত করা হয়েছে। সেই দেখা গেছে, গ্রাহকের নামে একটি মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপ সক্রিয় ছিল এবং ওই অ্যাপ ব্যবহার করেই সব লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে। লেনদেনের জন্য প্রয়োজনীয় ওটিপি গ্রাহকের নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরেই পাঠানো হয়েছিল, যা ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের তদন্তেও নিশ্চিত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল তিন ঘণ্টার মধ্যে সব লেনদেন হয়েছে। তবে তদন্তে দেখা গেছে, ১০ ও ১১ জুন—এই দুই দিনে মোট ১০টি লেনদেনের মাধ্যমে চারটি ব্যাংক হিসাব ও একটি বিকাশ নম্বরে অর্থ স্থানান্তর করা হয়।’
মো. আমিনুল ইসলাম আরও বলেন, ‘ভূক্তভোগী ওই গ্রাহক জিডি করার পর বিষয়টি নিয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। শাখা থেকে জিডির কপি প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রধান কার্যালয় বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে ই-মেইল পাঠিয়ে অভিযুক্ত হিসাবগুলো ফ্রিজ করার অনুরোধ জানিয়েছে। প্রাইম ব্যাংক ইতোমধ্যে ই-মেইলের জবাবে জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট হিসাবধারীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। ওই হিসাবে অর্থ জমা হলে তা ভুক্তভোগীকে ফেরত দেওয়ার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে ইসলামী ব্যাংকে ই-মেইল পাঠানো হলেও তাদের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব পাওয়া যায়নি।’
সিলেটভিউ২৪ডটকম/ এহিয়া-০৭
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.