প্রকাশিত: ১৫ জুলাই, ২০২৬ ১১:১২ (বৃহস্পতিবার)
যে কারণে সুইডেনে নতুন আ ই ন কার্যকর

সুইডেনে বৈধভাবে থাকার অনুমতি হারানো বা বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত পাওয়া ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে নতুন একটি বিতর্কিত আইন কার্যকর হয়েছে।

সোমবার (১৩ জুলাই) থেকে কার্যকর হওয়া এ আইনের আওতায় ছয়টি সরকারি সংস্থা তাদের দায়িত্ব পালনকালে কোনো ব্যক্তির বৈধভাবে সুইডেনে থাকার অধিকার নেই বলে সন্দেহ হলে সেই তথ্য পুলিশ, সুইডিশ সিকিউরিটি সার্ভিস অথবা মাইগ্রেশন এজেন্সিকে জানাতে বাধ্য থাকবে।

সরকারের ভাষায় এটিকে ‌‘ইনফরমেহোন প্লিক্ট’ বা তথ্য প্রদানের বাধ্যবাধকতা বলা হলেও সমালোচকরা একে ‘অ্যাঙ্গিভারিলাগেন’ বা ‘তথ্যদাতা আইন’ নামে উল্লেখ করছেন।

নতুন আইনের আওতায় থাকা সংস্থাগুলো হলো- সুইডিশ পাবলিক এমপ্লয়মেন্ট সার্ভিস, সোশ্যাল ইন্স্যুরেন্স এজেন্সি, কারা ও প্রবেশন সার্ভিস, এনফোর্সমেন্ট অথরিটি, পেনশন এজেন্সি এবং সুইডিশ ট্যাক্স এজেন্সি।

সুইডিশ সরকারের দাবি, এ আইনের মাধ্যমে দেশে গড়ে ওঠা তথাকথিত ‘শ্যাডো সোসাইটি’ বা রাষ্ট্রীয় নজরদারির বাইরে থাকা অবৈধ অভিবাসীদের সংখ্যা কমানো এবং বৈধ কাগজপত্র ছাড়া বসবাসকারীদের শনাক্ত করা সহজ হবে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আরও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারবে।

তবে আইনটি কার্যকরের আগেই দেশজুড়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়। শুরুতে সরকার আরও বেশি সরকারি সংস্থাকে এ আইনের আওতায় আনার পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু চিকিৎসক, শিক্ষক, সমাজকর্মীসহ বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন, মানবাধিকার সংস্থা ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর তীব্র সমালোচনার মুখে সেই পরিকল্পনা থেকে সরে আসে সরকার।

সমালোচকদের আশঙ্কা, এ ধরনের বাধ্যবাধকতা অভিবাসীদের সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা কমিয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরকারি সেবা নিতে অনেকে ভয় পেতে পারেন, যার প্রভাব জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষার ওপরও পড়তে পারে।

অন্যদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আইনের উদ্দেশ্য কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করা নয়; বরং যেসব ব্যক্তি বৈধভাবে সুইডেনে থাকার অধিকার হারিয়েছেন বা অবৈধভাবে অবস্থান করছেন, তাদের শনাক্ত করে অভিবাসন আইন কার্যকর করা এবং দেশের অভিবাসন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা।

নতুন আইন কার্যকর হওয়ার মধ্য দিয়ে সুইডেনের অভিবাসন নীতিতে আরও কঠোর অবস্থানের প্রতিফলন ঘটল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ এবং অভিবাসন আইন কঠোর করার লক্ষ্যে দেশটির সরকার ধারাবাহিকভাবে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে।

সিলেটভিউ২৪ডটকম/পিটি