ছবি: সিলেট ভিউ।
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় অবৈধ পাথর উত্তোলনের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্টের অভিযান পরিচালনা করছে জালানি ও খনিজসম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো (বিএমডি)। অভিযানে পাথর জব্দ করার পর সেগুলো আবার চুরি করে নিয়ে যায় দুষ্কৃতকারীরা। চুরি হওয়া পাথর উদ্ধার না করে আবারও নতুন করে পাথর জব্দ করা হচ্ছে। বিএমডির দুটি অভিযানে ১ লাখ ৯৫ হাজার ঘনফুট পাথর জব্দ করা হয়। এর মধ্যে শাহ আরেফিন টিলায় জব্দকৃত প্রায় ১ লাখ ১ হাজাট ঘনফুট পাথর চুরি করে অন্যত্র সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলে জানা গেছে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৈকত রায়হান অবৈধ পাথরের বিরুদ্ধে দুটি অভিযান পরিচালনা করেন। এর মধ্যে গত ৯ এপ্রিল উপজেলার শাহ আরেফিন টিলায় অবৈধভাবে উত্তোলিত ১ লাখ ১ হাজার ঘনফুট পাথর জব্দ করা হয়। সে সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জিম্মায় সেই পাথরগুলো রাখা হয়ে ছিল। কিন্তু জব্দের দুই দিনের মাথায় সেই পাথরগুলো অন্যত্র সরিয়ে ফেলে দুষ্কৃতকারীরা।
স্থানীয় একাধিক সুত্র জানায়, কিছুসংখ্যক পাথর চিকাডহর গ্রামের হাবিবুর রহমানের বাড়ির আশেপাশে নিয়ে রাখা হয়েছে। এছাড়া অন্য পাথরগুলো হাবিবুর রহমান সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়েছে।
ইউনিয়ন চেয়ারম্যান জিয়াদ আলী জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও অভিযান পরিচালনাকারী অফিসারকে পাথর চুরির বিষয়টি জানানো হয়েছে তারা কোনো প্রদক্ষেপ গ্রহণ করেননি।
শাহ আরেফিন টিলার জব্দকৃত পাথর নিলামে বিক্রয়ের জন্য খনিজ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলে পাড়ুয়া গ্রামের সিরাজুল ইসলাম নিলামে সেই পাথরগুলো ক্রয় করেন। ভ্যাটসহ প্রায় একশ’ টাকা দরে পাথরগুলো ক্রয় করলেও এখনো ক্রয়কৃত পাথরগুলো তাদের বুঝিয়ে দেয়নি খনিজ মন্ত্রণালয়। যার জন্য সিরাজুল ইসলাম কোটি টাকার মধ্যে মাত্র ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা জমা দিয়েছেন।
এদিকে সিরাজুল ইসলাম জানান, আমরা নিলামে ১ লাখ ১ হাজার ঘনফুট পাথর ক্রয় করি। যার মধ্যে ৯৬ হাজার ঘনফুট পাথর ভ্যাটসহ ৯৭ টাকা ও ৫ হাজার ঘনফুট ১০০ টাকা ফুট দরে ক্রয় করি। ইতোমধ্যে সব পাথর চুরি করে নিয়েছে দুষ্কৃতকারীরা। বিএমডির সাথে বারবার যোগাযোগ করা হলেও তারা পাথর বুঝিয়ে দিচ্ছেন না। সেজন্য আমরাও সরকারি কোষাগারে টাকা জমা দিতে পারছি না।
এদিকে ১৩ জুলাই উপজেলার উত্তর রনিখাই ইউনিয়নের উৎমা এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৈকত রায়হান মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করেন। এসময় ৯৪ হাজার ৩৯০ ঘনফুট পাথর জব্দ করা হয়। এবং সেগুলো স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। এর আগেও এই পাথরগুলো বিজিবি কর্তৃক জব্দ করা হয়। তবে এগুলো তখন নিলামে বিক্রি করা হয়নি।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সৈকত রায়হান জানান, ‘অবৈধভাবে উত্তোলিত এই পাথর জব্দ করে নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়। এবং এই টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হয়।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমি শুধু অভিযান দিয়ে পাথর জব্দ করি। জব্দকৃত পাথরের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।’
খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো (বিএমডি’র) পরিচালক (যুগ্মসচিব) মোহাম্মদ রবিউল ফয়সাল বলেন, ‘নিলামের পাথর মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তাদের বুঝিয়ে দেওয়া হবে। আমরা সব কিছু মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। জব্দ পাথর চুরির বিষয়ে আমাদের জানা নাই। স্থানীয় প্রশাসন পাথরগুলো দেখাশোনা করার কথা। যদি জব্দকৃত পাথর চুরি হয়ে থাকে তাহলে সেগুলো উদ্ধার করা হবে।’
সিলেটভিউ২৪ডটকম/ জলিল/ এহিয়া-০৫
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.