সুনামগঞ্জের হাওর অঞ্চল খ্যাত দূর্গম শাল্লা উপজেলার শাল্লা সরকারি ডিগ্রি কলেজের স্নাতক (পাস) শিক্ষার্থীদের সরকার কর্তৃক প্রদত্ত শিক্ষা উপবৃত্তির টাকা না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে ভর্তিকৃত কলেজের স্নাতক (পাস) শিক্ষার্থীরা ভর্তির তিন বছর হলেও শিক্ষা উপবৃত্তির কোনো টাকা পায়নি। তবে একই কলেজের অন্যান্য শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা আবেদন করে উপবৃত্তির টাকা তাদের সুনির্দিষ্ট একাউন্টে আসছে এবং টাকা উত্তোলনও করেছে। কিন্তু স্নাতক (পাস) শিক্ষার্থীরা উপবৃত্তির টাকা না পেয়ে হতাশায় ভুগছে। এমনকি অসহায় ও হতদরিদ্র শিক্ষার্থীরা শিক্ষাজীবন নিয়ে চরম সংকটে পড়ছে।
এব্যাপারে স্নাতক শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী আঞ্জু তালুকদার বলেন, আমরা ২০২১-২২ সেশনে ডিগ্রি ভর্তি পর উপবৃত্তির জন্য আবেদন করেছি। কিছু দিন পর ডিগ্রি ফাইনাল পরীক্ষা দিয়ে বের হয়ে যাব। কিন্তু এখনো উপবৃত্তির টাকা পাইনি। শুধু আমি নয় আমার জানামতে আবেদনকারী কেউ উপবৃত্তির টাকা পায়নি। একই কথা বলেন জুই ও স্বর্ণা নামের শিক্ষার্থী।
এবিষয়ে স্নাতক ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী শুভ দাশ জানান, যারা উপবৃত্তি পাবে তাদের মিনিমাম ৩.০০ পয়েন্ট থাকতে হবে আমার থ্রী পয়েন্টের উপরে আছে। আমি আবেদন করেছি এবং আমার সাথের অনেকেই আবেদন করেছে। আগামী ২৫ জুলাই আমাদের ডিগ্রির ফাইনাল পরীক্ষা শুরু কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো উপবৃত্তির টাকা পাই নি। আমার সাথের ক্লাসমেট যারা আছে তারা কেউ টাকা পায়নি৷
উপবৃত্তি না পাওয়া স্নাতক ৩য় বর্ষের আরো একাধিক শিক্ষার্থী জানান, কলেজে ভর্তির পর সরকারের যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে উপবৃত্তির জন্য আবেদন করেছি। কিন্তু ভর্তির তিন বছর চললেও এখন পর্যন্ত আমরা এক টাকা উপবৃত্তি পাই নি। বরং আমাদের পরে আবেদন করে অনেক ছাত্র-ছাত্রী উপবৃত্তির টাকা পেয়েছে। আমরা খুব অসহায় মানুষ অনেক কষ্ট করে পড়ালেখা করছি। এইবার ফসল হানির জন্য অর্থাভাবে পড়ালেখা বন্ধের পথে। ডিগ্রির ফাইলান পরীক্ষা ২৫ জুলাই থেকে কিভাবে পরীক্ষা দিব টেনশনে আছি। এরমধ্যে উপবৃত্তির টাকা বন্ধ করে দিয়েছে।
শিক্ষা উপবৃত্তি বাছাই কমিটির সদস্য প্রভাষক রন্টু বৈষ্ণব বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমল থেকেই উপবৃত্তির টাকা দেওয়া বন্ধ করা হয়েছে এখনো চালু হয়নি। বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে এর বেশি তিনি আর কিছু বলতে রাজি নন।
জানতে চাইলে শাল্লা সরকারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) বিশ্বনাথ দাস জানান, আমি একবছর হয়েছে কলেজের দায়িত্ব নিয়েছি। আমার পূর্বে যিনি দায়িত্বে ছিলেন বিষয়টা উনার আমলের। তবে ফাইল দেখে তিনি আরো জানান, ২০২১-২০২২ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (পাস) ২৪৭ জন ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীর মধ্যে ১২৮ জন শিক্ষার্থী শিক্ষা উপবৃত্তির জন্য আবেদন করেছিল। বিষয়টা আমি খোঁজ নিচ্ছি। পাশাপাশি মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে যোগাযোগ করলে আরো ভাল জানতে পারবেন।
এবিষয়ে শাল্লা উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার কালিপদ দাস বলেন, আমাদের কাছে হাইস্কুল ও কলেজ যেসব শিক্ষার্থীর লিষ্ট আসে, তা ফরোয়ার্ড করে পাঠিয়ে দেই সংশ্লিষ্ট দপ্তরে। নিয়ম অনুযায়ী প্রতি বছর শিক্ষার্থীরা উপবৃত্তির টাকা পাওয়ার কথা কিন্তু কেন পায়নি বলতে পারব না। উপবৃত্তি দেওয়ার এখতিয়ার অধিদপ্তরের হয়তো কোন ত্রুটি আছে যার কারণে দিচ্ছে না। সবারতো ত্রুটি থাকার কথা নয় অন্তত যাদের আবেদন সঠিক তাদের উপবৃত্তি আসলো না কেন? এর জবাবে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেন নি।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/পিটি/সুজন
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.