ভক্তি, শ্রদ্ধা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে সিলেটে সিদ্ধ মহাত্মা বৈষ্ণবাচার্য্য প্রভুপাদ ১০৮ শ্রীমৎ রাধারমণ গোস্বামীর ৫৬ তম তিরোধান উৎসব শ্রী রাধারমণ সেবক সংঘ সিলেটের উদ্যোগে ও মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ এবং সুনামগঞ্জের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) সিলেট নগরীর মীরাবাজারস্থ শ্রী শ্রী বলরাম জিউর আখড়ায় দিনব্যাপী এ উৎসবের আয়োজন করা হয়।
সকালে শ্রীশ্রী গুরু-গৌরাঙ্গের বিশেষ অর্চনা, পূজা ও পুষ্পাঞ্জলি প্রদানের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে সমবেত গীতা পাঠ, আলোচনা সভা, ভক্তিমূলক সংগীত, ধর্মীয় পাঠ এবং বিভিন্ন আধ্যাত্মিক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ ছিল ‘শুদ্ধাচারই শ্রী রাধারমণ’ শীর্ষক আলোচনা সভা।
বরমচাল সিংগুরের শ্রী রাধারমণ জন্মস্থান মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ অরুণ কান্তি গোস্বামীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- ভারতীয় সহকারি হাই কমিশনার অনিরুদ্ধ দাস।
উদ্বোধক হিসেবে বক্তব্য রাখেন- প্রভু বৈষ্ণবরায় বংশাবতংশ প্রভুপাদ শ্রী হিমাদ্রী গোস্বামী (মহর)।
মূখ্য আলোচক ছিলেন শ্রীশ্রী প্রভু জগদ্বন্ধু সুন্দর ধামের সভাপতি মনোজ বিকাশ দেবরায়।
আলোচনা করেন- প্রভু ঠাকুরবাণী বংশাবতংশ প্রভুপাদ শ্রী নিত্যগোপাল গোস্বামী, মৌলভীবাজার, শ্রী মহাপ্রভুর পার্ষদপ্রবর শ্রীবাসুদেব ঘোষ বংশাবতংশ শ্রীপাদ পার্থসারথী ঘোষ অধিকারী, কিশোরগঞ্জের শ্রীশ্রী রাধামোহন মন্দিরের অধ্যক্ষ কানুপ্রিয় গোস্বামী, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি সুদীপ রঞ্জন সেন, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রফেসর ড. হিমাদ্রী শেখর রায়, সিলেট উইমেনস মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের প্রাক্তন অধ্যাপক প্রফেসর ডা. মৃগেন কুমার দাস চৌধুরী, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি গ্রান্ট কমিশনের সহকারি পরিচালক প্রবীর চন্দ্র দাস, করেরপাড়া শ্রীশ্রী গীতা মন্দির সভাপতি আশোক রঞ্জন চৌধুরী, শ্রীশ্রী হরিভক্তি প্রচারিনী সভা সিলেটের সহ: সাধারণ সম্পাদক স্থপতি জিষ্ণু কুমার দাস, হবিগঞ্জ শচীন্দ্র কলেজ অধ্যাপক গোপীনাথ দাস, সুনামগঞ্জ আন্তর্জাতিক কৃষ্ণ অনুরাগী জাগ্রত যুব সংঘের প্রতিষ্ঠাতা হিমাদ্রী রায় (প্রান্ত), প্রিয়াচরণ দাস, বিএডিসি সিলেট বিভাগ প্রকল্প পরিচালক প্রনজিত কুমার দেব, চরনারচর ইউনিয়ন পরিষদ সাবেক চেয়ারম্যান রতন কুমার দাস, হবিগঞ্জের নিরঞ্জন সাহা নিরু, কিশোরগঞ্জের নন্দন সাহা প্রমুখ।
এছাড়া বিভিন্ন ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।
সিলেটে ভারতের সহকারী হাই কমিশনার অনিরুদ্ধ দাস বলেন, “বৈষ্ণবাচার্য্য প্রভুপাদ ১০৮ শ্রীমৎ রাধারমণ গোস্বামী শুধু একজন অসাধারণ সাধক নন, তিনি ভারতীয় উপমহাদেশের যৌথ আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের এক উজ্জ্বল প্রতীক। তাঁর দর্শন ও মানবপ্রেমের বাণী আজও মানুষকে সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ববোধ ও আত্মশুদ্ধির পথে অনুপ্রাণিত করে। রাধারমণ গোস্বামীর জীবন ও কর্ম নতুন প্রজন্মের কাছে আরও ব্যাপকভাবে তুলে ধরতে বাংলাদেশ ও ভারতের তাঁর ভক্তদের মনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাঁর স্মৃতিকে ধারণ করে আয়োজিত এ ধরনের অনুষ্ঠান দুই দেশের মানুষের পারস্পরিক বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করবে।”
অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন- শাবিপ্রবির সহকারী অধ্যাপক ও শ্রী রাধারমণ সেবক সংঘের পৃষ্ঠপোষক অভিজিৎ গোস্বামী (অয়ন)।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- বৈষ্ণবাচার্য্য প্রভুপাদ ১০৮ শ্রীমৎ রাধারমণ গোস্বামীর ৫৬ তম তিরোধান উৎসব উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক প্রদীপ কুমার চন্দ, যুগ্ম আহ্বায়ক এডভোকেট স্বাধীন চন্দ্র রায়, যুগ্ম আহ্বায়ক নৃপেন্দ্র কুমার দাস, সদস্য সচিব বিমলেন্দু পাল, সহ সদস্য সচিব শিপন পাল, সহ সদস্য সচিব অখিল তালুকদার, কোষাধ্যক্ষ অসিত চন্দ, সহ কোষাধ্যক্ষ রুপক দাস, সদস্য জ্যোতিশ চন্দ, সমিরণ কর, সিতেশ পাল, নিত্য গোপাল দেব নন্দু, অনন্ত দাস, চন্দন চন্দ, শিল্পী পাল, ভিষন মালাকার বিষু, ভানু চন্দ্র পাল, শ্রী রাধারমণ সেবক সংঘ সিলেটের সভাপতি অজয় ভূষণ, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক পংকজ দেব।
দুপুরে ভক্তদের মাঝে মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হয়। বিকেলে শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত পাঠ অনুষ্ঠিত হয়। সন্ধ্যায় সমবেত কীর্তন এবং রাতে শ্রী রাধারমণ গোস্বামীর তিরোধান লীলাকথা পাঠ ও নামসংকীর্তনের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী উৎসবের সমাপ্তি ঘটে।
উৎসবে সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত বিপুলসংখ্যক ভক্ত, সুধীজন ও রাধারমণ অনুরাগীরা অংশগ্রহণ করেন। পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল ভক্তিময় পরিবেশ ও উৎসবের আমেজ।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/প্রেবি/এসডি-০৫
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.