ছবি: সিলেট ভিউ।
সৌদিআরবের রাজধানী রিয়াদের দিরা এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনে ২৩ তলায় কাজ করার সময় একট দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান সিলেটের দুই যুবক। ওই ঘটনার পর তাদের লাশ দেশে ফিরবে কি-না এই নিয়ে দ্বিধায় ছিল পরিবার। অবশেষে শুক্রবার প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হকের হস্তক্ষেপে তাদের লাশ দেশে নিয়ে আসা হয়। শনিবার (১৮ জুলাই) তাদের গ্রামের বাড়িতে নিহত দুই প্রবাসীর মরদেহ সমাহিত করা হয়েছে।
নিহতরা হলেন- পাড়ুয়া গ্রামের মাসুক মিয়ার ছেলে জয় আহমদ (২৩) এবং দলইরগাঁও গ্রামের আব্দুল হাফিজের ছেলে মোতাহের হোসেন (৩৭)। শনিবার (১৮ জুলাই) তাদের গ্রামের বাড়ি সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পাড়ুয়া ও দলইরগাঁও গ্রামে জানাজা শেষে মাটি দেওয়া হয়।
জানা যায়, সৌদিআরবে থাকাকালীন সময়ে বেশ কয়েকমাস আগে জয় ও মোতাহেরের আকামা নষ্ট হয়ে যায় (অবৈধ হয়ে যান)। এরপর আর তারা আকামা রিনিউ করতে পারেন নি। গত ৫ জুলাই সৌদিআরবের রাজধানী রিয়াদের দিরা এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনে ২৩ তলায় কাজ করার সময় একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনায় তাদের দুইজনের মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর তাদের মরদেহ দেশে আনা নিয়ে দোয়াশায় পড়ে যায় পরিবারগুলো। বৈধ কাগজপত্র না থাকায় লাশ দেশে ফেরাতে নানা জটিলতা দেখা দেয়। এসময় তাদের আশার আলো হয়ে দাঁড়ান প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুল মনাফ, সিনিয়র সহ সভাপতি শওকত আলী বাবুল, সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান লাল মিয়ার মাধ্যমে পরিবার মন্ত্রীর সাথে যোগাযোগ করলে মন্ত্রী সম্পূর্ণ সরকারি খরচে তাদের লাশ দেশে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করেন।
নিহতের স্বজন নজির উদ্দিন জানান, আকামা না থাকায় লাশ দেশে আনার আশাই ছেড়ে দিয়ে ছিলাম। স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সাহায্যে মন্ত্রীর সাথে যোগাযোগ করি। পরে সরকারি খরচে লাশ দেশে নিয়ে আসা হয়।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি শওকত আলী বাবুল জানান, সৌদিআরবে দুর্ঘটনায় নিহতদের বৈধ কাগজপত্র না থাকায় লাশ দেশে আসা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। পরে আমরা স্থানীয় নেতৃবৃন্দ আমাদের এমপি প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হকের কাছে তাদের স্বজনদের নিয়ে গেলে তিনি সম্পূর্ণ সরকারি খরচে লাশ দেশে আনার ব্যবস্থা করে দেন।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/ জলিল/ এহিয়া-০৫
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.