লিওনেল স্কালোনির বক্তব্যেই স্পষ্ট, পরিবর্তনের হাওয়া বইতে চলেছে টানা দুই বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলা আর্জেন্টিনার স্কোয়াডে। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন দলের সবাই সদ্য সমাপ্ত আসরে ছিলেন না। তবে সেখানে উল্লেখযোগ্য বড় নাম নেই। অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া আগেই অবসর নিয়েছেন। তবে পরবর্তী বিশ্বকাপ আসর ২০৩০-এর আগে বেশ লম্বা হতে পারে সেই তালিকা।
সময়ের নির্মম বাস্তবতাই হয়তো কয়েকটি অধ্যায়ের ইতি টানবে। সবার শীর্ষের নামটা হয়তো লিওনেল মেসির। স্পেনের কাছে বিশ্বকাপ ফাইনালে হারের পর তিনি নিজেই সিদ্ধান্ত নেবেন জাতীয় দলের হয়ে আর কতদিন খেলবেন। বিশ্বকাপের আগে তার আবেগঘন অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য, নিজেকে শতভাগ প্রস্তুত করে তোলার প্রচেষ্টা– সবই এখন স্মৃতির অংশ। একইভাবে নিকোলাস ওটামেন্ডিও আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন, এই বিশ্বকাপই হবে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের জার্সিতে তার শেষ অফিসিয়াল টুর্নামেন্ট।
স্কালোনিও সম্প্রতি ওলেকে জানিয়েছেন, বছরের শেষেই তিনি সম্ভবত দায়িত্ব ছাড়বেন, যদিও আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) তাকে ধরে রাখতে চায়। তার মতে, মেসি বা ওটামেন্ডির মতো মান ও প্রতিযোগিতামনস্ক এবং ড্রেসিংরুমে নেতৃত্বগুণসম্পন্ন ফুটবলারের বিকল্প খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। তাদের আগে ২০২৪ কোপা আমেরিকায় আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরই জাতীয় দলের জার্সি তুলে রাখেন ডি মারিয়া।
তবে এই পরিবর্তন হবে ধীরে ধীরে, কোনো আকস্মিক বিপ্লবের মাধ্যমে নয়। মেসি থাকুন বা না থাকুন, স্কালোনি থাকুন বা না থাকুন– ২৫ থেকে ৩০ বছর বয়সী ফুটবলারদের একটি শক্তিশালী ভিত্তি ইতোমধ্যেই তৈরি হয়েছে। জুলিয়ান আলভারেজ, এনজো ফার্নান্দেজ, ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্টিনেজ, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, লাউতারো মার্টিনেজ, থিয়াগো আলমাদা এবং এজাকুয়েল প্যালাসিওস দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শেষ করেছেন এবং অভিজ্ঞতা সঞ্চার করলেন পরবর্তী বিশ্বকাপ চক্রে নেতৃত্ব দেওয়ার উপযোগী।
নিকো গঞ্জালেস ও জিওভানি লো চেলসো কাতার বিশ্বকাপে খেলতে না পারলেও দলের সঙ্গে ছিলেন। ভবিষ্যতে তারা কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন, তা নির্ভর করবে পরবর্তীতে পারফরম্যান্স ও মূল্যায়নের ওপর। একইভাবে ৩২ বছর বয়সী রদ্রিগো ডি পল ও লিয়েন্দ্রো পারেদেস, আর ৩৩ বছর বয়সী নিকো তালিয়াফিকোর মতো অভিজ্ঞ ফুটবলাররা এখনও গুরুত্বপূর্ণ। ক্লাবে তাদের পারফরম্যান্স ও সময়ই ঠিক করবে তারা কতদিন জাতীয় দলে থাকবেন। তবে স্কালোনির মতে, ওটামেন্ডির মতো নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা সম্পন্ন খেলোয়াড় সহজে পাওয়া যায় না।
সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপে গেমটাইম কম পাওয়া ফুটবলারদের পাশাপাশি আগামী কয়েক মাসে নতুন মুখও উঠে আসবে। তরুণ প্রতিভা ভ্যালেন্টিন বারকো, হোসে ম্যানুয়েল লোপেস, নিকো পাজ এবং জুলিয়ানো সিমিওনেরা ধীরে ধীরে মূল দলে নিজেদের জায়গা পাকাপোক্ত করতে পারেন। একইভাবে কিছুটা অভিজ্ঞ লিও বালের্দি ও মার্কোস সেনেসিও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যারা ইতোমধ্যেই বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলেছেন।
এই তালিকায় আরও আছেন বোকা জুনিয়রের একাডেমি থেকে উঠে আসা আরান্দা ও নিকোলাস কাপালদো, যাদের স্কালোনির অধীনেই জাতীয় দলে অভিষেক হয়েছে। তারা যদি নিজেদের পারফরম্যান্স ধরে রাখতে পারেন, তবে আগামী দিনের দলেও থাকবেন। তাদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ৩৫ সদস্যের প্রাথমিক দলে থাকা মাতিয়াস সুলে (রোমা), নিকোলাস কাপালদো (হামবুর্গ), আগুস্তিন গিয়াই (পালমেইরাস) এবং রিভার প্লেটের গোলরক্ষক সান্তিয়াগো বেলত্রান, যিনি বিশ্বকাপ চলাকালে দুই সপ্তাহ দলের সঙ্গে অনুশীলন করেছেন।
গোলরক্ষকের অবস্থানেও সামনে পরিবর্তন আসতে পারে। এমিলিয়ানো মার্টিনেজের ধারাবাহিকতা একসময় নিশ্চিত বলেই মনে হচ্ছিল। কিন্তু বিশ্বকাপ শেষে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘অনেক কিছু নিয়ে ভাবতে হবে। সামনে কীভাবে আগাব, আর সরে দাঁড়ানোর সময় হয়েছে কি না, সেটাও দেখতে হবে।’
বিশ্বকাপজুড়ে ডান হাতে চোট নিয়ে খেলেছেন বিশ্বকাপজয়ী এই গোলরক্ষক। ফাইনালের পর আবেগ কিছুটা কমে আসতেই তিনি নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। মার্টিনেজ যে সিদ্ধান্ত নিন না কেন, ভবিষ্যতের গোলরক্ষকদের দিকে নজর রাখবে আর্জেন্টিনা। সান্তিয়াগো বেলত্রানের পাশাপাশি আছেন ফাকুন্দো ক্যাম্বেসেস। আরও তরুণদের মধ্যে রয়েছেন সান্তিনো বারবি, যিনি ২০২৫ অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপে নজর কেড়েছিলেন। কাস্তেলাউ দে রোয়াও থাকবেন বিবেচনায়।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/ডেস্ক/এসডি-০২
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.