ছবি: সিলেট ভিউ।
হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে নয়ন মিয়া হত্যা মামলার পলাতক দুই আসামিকে কুমিল্লা থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৯) ও র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১১)।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) আনুমানিক রাত সাড়ে ৯টার দিকে কুমিল্লা জেলার সদর দক্ষিণ মডেল থানাধীন কোর্ট বাড়ী ময়নামতি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং থানার কাউরিয়াকান্দি এলাকার ছেনু মিয়ার ছেলে হুমায়ুন মিয়া (২২) ও মৃত রেনু মিয়ার ছেলে জাহাঙ্গীর মিয়া (২২)।
ঘটনার বিবরণ উল্লেখ করে র্যাব জানায়, ভিকটিম নয়ন মিয়া (৩৭) হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং থানাধীন কাউরিয়াকান্দি গ্রামের বাসিন্দা। এ ঘটনায় অভিযুক্ত বিবাদীরাও একই এলাকার বাসিন্দা এবং তারা পরস্পরের আত্মীয়। দীর্ঘদিন ধরে জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে ভিকটিমের পরিবারের সঙ্গে বিবাদীদের বিরোধ চলছিল। বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হলেও বিবাদীরা তা প্রত্যাখ্যান করে এবং ভিকটিমের পরিবারের প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৮ জুন সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে ভিকটিমের স্ত্রী তাদের বসতবাড়ির সংলগ্ন টিউবওয়েল থেকে পানি আনতে গেলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ২ নম্বর আসামি রুসেনা আক্তার, ৫ নম্বর আসামি তানিয়া আক্তার এবং ৩ নম্বর আসামি ইমন মিয়া টিউবওয়েলের পাশে ময়লা ফেলার বিষয়কে কেন্দ্র করে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও আক্রমণাত্মক আচরণ করতে থাকে।
ভিকটিমের স্ত্রীর চিৎকার শুনে নয়ন মিয়া ঘটনাস্থলে পৌঁছালে ২ নম্বর আসামির ডাকে অন্যান্য আসামিরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র, যেমন ছুরি, রামদা ও লোহার রডসহ ঘটনাস্থলে এসে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা ভিকটিমের শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি আঘাত করে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে এবং হত্যার হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত নয়ন মিয়াকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় ভিকটিমের ভাই বাদী হয়ে হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর আসামিদের আইনের আওতায় আনতে র্যাব-৯ ঘটনাটির ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে।
এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৯, সিপিসি-৩, শায়েস্তাগঞ্জ ক্যাম্প, হবিগঞ্জ এবং র্যাব-১১, সিপিসি-২, কুমিল্লার একটি যৌথ আভিযানিক দল বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টায় কুমিল্লা জেলার সদর দক্ষিণ মডেল থানাধীন কোর্টবাড়ী, ময়নামতি এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং থানার মামলা নং-০১, তারিখ ০১/০৭/২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, পেনাল কোড, ১৮৬০-এর ১৪৩/৩২৩/৩২৪/৩২৬/৩০২/৩০৭/৫০৬/১১৪/৩৪ ধারায় দায়েরকৃত নয়ন মিয়া হত্যা মামলার এজাহারনামীয় ৭ ও ৯ নম্বর পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় যৌথ আভিযানিক দল।
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৯) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া ) কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, ‘পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে গ্রেফতারকৃত আসামিদ্বয়কে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়াও দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র্যাব-৯ এর চলমান গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
সিলেটভিউ২৪ডটকম/ এহিয়া-০৯
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.