শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) 'বিজয়-২৪' হলে একের পর এক চুরির ঘটনা ঘটছে। কিন্তু হলের আবাসিক ব্লকগুলোতে প্রয়োজনীয় সিসিটিভি ক্যামেরা না থাকায় অপরাধীদের কোনোভাবেই শনাক্ত করা যাচ্ছে না।
এতে হলটির সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে।
সর্বশেষ শুক্রবার (২৪ জুলাই) জুমার নামাজের সময় আবাসিক হলটির ৫০০৪ নম্বর কক্ষ থেকে ‘আসুস ভিভোবুক’ (ইনটেল কোর আই-থ্রি, ১২তম জেনারেশন) মডেলের একটি ল্যাপটপ চুরি হয়। চুরি হওয়া ল্যাপটপটির আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫৬ হাজার টাকা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, এর মাত্র এক মাস আগে একই হলের ‘এ’ ব্লকের ৪০০৮ নম্বর কক্ষ থেকে প্রায় ৪৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি ‘থিংকপ্যাড টি-৪৯৫’ মডেলের ল্যাপটপ চুরি হয়ে যায়। সব মিলিয়ে গত দুই মাসে অন্তত তিনটি ল্যাপটপ চুরির ঘটনা ঘটলেও সিসিটিভির অভাবে কোনো অপরাধী ধরা পড়েনি।
হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পাঁচতলা বিশিষ্ট দুটি ব্লকের নিচতলা, টিভি রুম, ডাইনিং, ক্যান্টিন ও হলের প্রবেশদ্বারে সিসি ক্যামেরা থাকলেও ওপরের চারটি তলায় কোনো ক্যামেরা নেই। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অসাধু চক্র নিয়মিত চুরি সংঘটিত করে নিরাপদে সটকে পড়ছে।
ল্যাপটপ হারানো ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মিনাল রহমান বলেন, "কয়েক দিন আগেই অনেক কষ্টে কিস্তিতে টাকা শোধ করার শর্তে ৬০ হাজার টাকায় ল্যাপটপটি কিনেছিলাম। জুমার নামাজের সময় দরজার ভেতরের দিকে না আটকে ওপরে চাবি রেখে সবাই বের হই। নামাজ শেষে ফিরে এসে দেখি ল্যাপটপটি নেই। চাবি দিয়ে তালা খুলেই কেউ ল্যাপটপটি নিয়ে গেছে। বাইরের কারও প্রবেশের সুযোগ কম, কারণ সিঁড়ির সামনেই সবাই নামাজ পড়ছিল। আমাদের ধারণা, ওপরের কোনো ফ্লোরের কেউ হয়তো এর সঙ্গে জড়িত।"
এ বিষয়ে বিজয়-২৪ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক আ. ফ. ম. জাকারিয়া বলেন, "পরপর এমন অনাকাঙ্ক্ষিত চুরির ঘটনা ঘটে যাওয়া সত্যিই দুঃখজনক। হলের প্রতিটি ফ্লোরকে দ্রুত নিরাপত্তার আওতায় আনতে কাজ চলছে। গত ৮ জুনেই সিসি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। আজকের ঘটনার প্রেক্ষাপটে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও ছাত্র উপদেশ এবং নির্দেশনা পরিচালকের উপস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসা হবে।"
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম বলেন, "পূর্বের ঘটনার পরই সিসি ক্যামেরা লাগানোর বিষয়ে কথা হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক কিছু পরিস্থিতির কারণে কাজটিতে কিছুটা বিলম্ব ঘটেছে। আমরা শিগগিরই শিক্ষার্থীদের সাথে বসে তাদের মতামত শুনব এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতে করণীয় ঠিক করব।"
অপরাধীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের কথা জানাতে গিয়ে তিনি জোর দিয়ে বলেন, "তদন্তে অপরাধ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোরতম প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে— এমনকি অভিযুক্ত যদি হলের নিজস্ব আবাসিক শিক্ষার্থীও হয়, তাহলেও কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।"
সিলেটভিউ২৪ডটকম/আতহার/এসডি-১০
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.