প্রকাশিত: ২৫ জুলাই, ২০২৬ ০৯:২৮ (রবিবার)
সিলেট বিভাগের দেড় কোটি টাকার যে প্রকল্পে নয়ছয়

হবিগঞ্জের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন স্পট সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান। এখানে প্রায় দেড় কোটি টাকার একটি প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। 

 

 

উদ্বোধনের আগেই সেতুর অ্যাপ্রোচ সড়ক ও গাইডওয়ালে ধসে পড়েছে। এ নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পর্যটকসহ স্থানীয় বাসিন্দারা।

 

 

তাদের অভিযোগ কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও তদারকির ঘাটতির কারণেই এমন হয়েছে। সেন্টু নামে একজন দর্শনার্থী বলেন- নিয়মিত তদারকি না থাকায় প্রকল্পে নয়ছয় হয়েছে-যা খুবই হতাশাজনক। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। 

 

 

সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান সহব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি শফিকুল ইসলাম আবুল বলেন, উদ্বোধনের আগেই সেতু এভাবে ধসে পড়া অত্যন্ত দুঃখজনক।

 

 

আশা করি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।
চুনারুঘাট উপজেলা প্রকৌশলী ফজলুল হক বলেন- অতিরিক্ত বৃষ্টি ও পাহাড়ি ছড়ার প্রবল স্রোতের কারণে অ্যাপ্রোচ সড়ক ও সেতুর গাইডওয়ালের কিছু অংশ ধসে পড়েছে। কাজে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি আছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে বিষয়টি সমাধান করা হবে।

 

  
চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গালিব চৌধুরী বলেন, সাতছড়ির ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছি। ঢাকা থেকে বিশেষজ্ঞ দল এসে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করবে। তাদের সুপারিশ অনুযায়ী নতুন পরিকল্পনা করে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পুনর্নির্মাণ করা হবে। কাজে অনিয়মের প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

জানা যায়, সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে আসা দর্শনার্থীদের চলাচলের সুবিধার জন্য ২০২৩ সালের মে মাসে প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে সেতুর কাজ শুরু করে এলজিইডি।

 


কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে। নির্ধারিত সময় পার হলেও এখন পর্যন্ত কাজ শেষ হয়নি। প্রকল্পের প্রায় ৭০ শতাংশ বিল পরিশোধ করা হয়েছে।

 

 

সরেজমিন দেখা যায়, ব্রিজের দুই পাশের অ্যাপ্রোচ সড়ক ধসে গেছে। ছড়ার গাইডওয়ালের বিভিন্ন অংশ লণ্ডভণ্ড অবস্থায় পড়ে আছে। অনেক জায়গায় কংক্রিট ব্লক সরে জিওটেক্সটাইল ছিঁড়ে গেছে। ছড়ার মধ্যে এলোমেলো অবস্থায় পড়ে রয়েছে ব্লকগুলো।

 

 

স্থানীয়রা বলছেন, নির্মাণকাজের মান নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও নিয়মিত তদারকির অভাবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দায়সারাভাবে কাজ করছে। বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত অংশে প্রায় ২০০ বস্তা বালু ফেলে সাময়িকভাবে দর্শনার্থীদের চলাচলের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। অ্যাপ্রোচ সড়কে চলাচলের জন্য তড়িঘড়ি কাজ করা হচ্ছে। 

 


স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল জাহির মিয়া বলেন, সাতছড়ি উদ্যান দেশের অন্যতম পর্যটন স্পট। এখানে এমন অনিয়ম মেনে নেওয়া যায় না। দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।


সিলেটভিউ২৪ডটকম/ জাকারিয়া