প্রকাশিত: ২৫ জুলাই, ২০২৬ ১৮:০৩ (রবিবার)
নারী শিক্ষার্থীকে যৌ*ন হ য় রা নির অভিযোগ

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাককানইবি) এক নারী শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানিমূলক মন্তব্য, মানসিক নির্যাতন, গালিগালাজ ও শারীরিক লাঞ্ছনার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক আনসার সদস্য ও তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে তিন দফা দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
 

অভিযোগ অনুযায়ী, গত শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় গেটসংলগ্ন একটি ভাড়া বাসায় সর্বশেষ এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর দাবি, গত প্রায় ছয় মাস ধরে অভিযুক্তরা তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে মানসিকভাবে নির্যাতন, গালিগালাজ এবং যৌন হয়রানিমূলক মন্তব্য করে আসছিলেন। সর্বশেষ ঘটনার পর তিনি বিষয়টি সহপাঠী ও সিনিয়র শিক্ষার্থীদের জানান। পরে শিক্ষার্থীরা অভিযুক্ত আনসার সদস্য শিরিয়া বেগম ও তাঁর স্বামী জোবায়ের রাহমানকে প্রক্টর কার্যালয়ে নিয়ে যান। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনে।
 

শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে— অভিযুক্ত আনসার সদস্যকে চাকরিচ্যুত করা, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তাঁর পরিবারের কাছে প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়া এবং অভিযুক্ত আনসার সদস্য ও তাঁর স্বামীকে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে স্থায়ীভাবে বিতাড়িত করা।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর অভিযোগ, পরিবারসহ অভিযুক্ত আনসার সদস্যের পাশের বাসায় ভাড়া থাকার সময় থেকেই তাঁদের নানা ধরনের হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। তাঁর বাবা একজন রিকশাচালক হওয়ায় পরিবারকে সামাজিকভাবে হেয় করা হতো। এ ছাড়া মায়ের বিরুদ্ধে মিথ্যা চুরির অভিযোগ, ধর্মীয় অনুশীলনের সময় কটূক্তি এবং বিভিন্ন অশালীন মন্তব্য করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
 

তিনি আরও দাবি করেন, অভিযুক্ত জোবায়ের রাহমান একাধিকবার তাঁর প্রতি যৌন হয়রানিমূলক ও অশ্লীল মন্তব্য করেছেন। পাশাপাশি তাঁর বৃদ্ধা মাকে ধাক্কা দিয়ে লাঞ্ছিত করা হয়েছে এবং আনসার সদস্য হওয়ার প্রভাব দেখিয়ে তাঁদের বাসা ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমি এবং আমার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে চরম মানসিক নির্যাতনের শিকার। একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
 

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আনসার সদস্য শিরিয়া বেগম। তাঁর দাবি, একই বাসায় বসবাসের কারণে কথা-কাটাকাটি হলেও গালিগালাজ বা শারীরিক লাঞ্ছনার কোনো ঘটনা ঘটেনি।

অভিযোগ নাকচ করেছেন তাঁর স্বামী জোবায়ের রাহমানও। তিনি বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা মারধর, গালিগালাজ ও যৌন হয়রানির অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

বাসার মালিক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তরের কেয়ারটেকার মাসুদ রানা জানান, এর আগে তিনবার উভয় পক্ষের বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় উভয় পক্ষকেই বাসা ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
 

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর নাজমুল হাসান বলেন, দুই পক্ষের বক্তব্য শোনা হয়েছে। আনসার প্লাটুন কমান্ডারের মাধ্যমে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নেবে।

এদিকে, শিক্ষার্থীরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রশাসনকে দ্রুত, নিরপেক্ষ ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।

 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/ডেস্ক/এসডি-১০