প্রকাশিত: ২৬ জুলাই, ২০২৬ ১৯:০০ (সোমবার)
সিলেটে ভাইয়ের প্রেমের জন্য প্রাণ হারালেন ভাই

ছবি: সিলেট ভিউ।

সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচংয়ে ভাইয়ের প্রেমের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে সংঘটিত সাদেকুজ্জামান হত্যা মামলার আরও এক আসামিকে সিলেট থেকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-৯)।

 

গ্রেফতারকৃত যুবক আমির হামজা (২০)। সে হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং থানার বলাকীপুর এলাকার ফরিদ মিয়ার ছেলে।

 

ঘটনার বিবরণ উল্লেখ করে র‌্যাব জানায়, নিহত সাদেকুজ্জামান চৌধুরী বানিয়াচং থানার কাগাপাশা এলাকার বাসিন্দা। তার ভাই এনায়েত চৌধুরীর সঙ্গে একই এলাকার সারাজ মিয়ার মেয়ে তাছনিয়া আক্তারের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে পরিবারের অমতে তারা পালিয়ে বিয়ে করলে মেয়ের পরিবার বিষয়টি মেনে নেয়নি। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তারা সাদেকুজ্জামানের পরিবারের প্রতি বিরূপ মনোভাব পোষণ করতে থাকে। ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর বিকেল আনুমানিক ৪টা ১৫ মিনিটে বানিয়াচং উপজেলার বলাকীপুর এলাকায় সাদেকুজ্জামানকে দেখতে পেয়ে প্রতিপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে তার ওপর হামলা চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

এ ঘটনায় নিহতের ভাই এনায়েত চৌধুরী বাদী হয়ে বানিয়াচং থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা নম্বর-২০, তারিখ ২৫ অক্টোবর ২০২৫। মামলায় দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ১৪৩/৩২৩/৩২৫/৩২৬/৩০২/১১৪/৫০৬(২)/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।

 

এরপর থেকে র‌্যাব-৯ ঘটনাটির ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-৯ সিপিসি-৩, শায়েস্তাগঞ্জ ক্যাম্প এবং সিপিএসসি, সিলেটের যৌথ আভিযানিক দল শনিবার (২৫ জুলাই) বিকাল আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার লক্ষণাবন্দ ইউনিয়নের ফোরকান্দি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

 

র‌্যাব আরও জানায়, এর আগে ২০২৫ সালের ১২ নভেম্বর একই হত্যা মামলার এক নম্বর আসামিকেও গ্রেফতার করা হয়েছিল।

 

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-৯) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া ) কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, ‘গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। র‌্যাব জানিয়েছে, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তাদের গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

 

 

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম/ এহিয়া-০৬