প্রকাশিত: ২৬ জুলাই, ২০২৬ ২০:০০ (সোমবার)
সিলেটে হাসনার মৃ ত্যু নিয়ে র/হ*স্য

ছবি: ফাইল ছবি।

সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলায় হাসনা বেগম (৬৫) নামের এক বৃদ্ধার মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। আর এই ঘটনার পর থেকে নানা রহস্যের সৃষ্টি হচ্ছে। ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার (২৬ জুলাই) সকার ৮টার দিকে।

 

নিহত ওই বৃদ্ধা হাসনা বেগম (৬৫)। তিনি জকিগঞ্জ উপজেলার বারঠাকুরী ইউনিয়নের উত্তরকুল গ্রামের মৃত আব্দুল মুমিনের স্ত্রী।

 

স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, জকিগঞ্জ উপজেলার বারঠাকুরী ইউনিয়নের উত্তরকুল গ্রামে বসবাস করেন হাসনা বেগম। তিনি দীর্ঘদিন থেকে শারিরীকভাবে অসুস্থ। তার দেখাশোনার জন্য দীর্ঘ একবছর থেকে কসকনপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মীরারচক গ্রামের মাওলানা ফুজায়েল আহমদের মেয়ে মাহমুদা আক্তার (১৪) থাকেন। মাহমুদা আক্তার হাসনা বেগমের মেয়ের সন্তান (সম্পর্কে নাতনি)। রবিবার (২৬ জুলাই) মাহমুদা আক্তারের পিতা (হাসনা বেগমের জামাতা) মাওলানা ফুজায়েল আহমদ তার মেয়েকে শশুরবাড়ি থেকে নিতে আসেন। এসময় তার মেয়ে পিতার সাথে যেতে মানা করেন।

 

এক পর্যায়ে ফুজায়েল জোর করে তার মেয়েকে নিয়ে যান। এ সময় বিছানায় শুয়ে ছিলেন বৃদ্ধা হাসনা বেগম। এই সময়ের ভেতরে কোনো একসময় হয়তো তিনি মারা যান। তখন স্থানীয়রা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের মর্গে প্রেরণ করে।

 

বারঠাকুরী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মহসিন মর্তুজা চৌধুরী টিপু সিলেটভিউকে জানান, উত্তরকুল গ্রামের অসুস্থ বৃদ্ধা হাসনা বেগমের দেখাশোনার জন্য প্রায় এক বছর ধরে তার নাতনি মাহমুদা আক্তার (১৪) সেখানে অবস্থান করছিলেন। রবিবার (২৬ জুলাই) মাহমুদার বাবা মাওলানা ফুজায়েল আহমদ মেয়েকে নিতে শ্বশুরবাড়িতে গেলে তিনি যেতে অস্বীকৃতি জানান। পরে জোরপূর্বক মাহমুদাকে তার সাথে নিয়ে যান। তখন ঘরে অসুস্থ অবস্থায় শয্যাশায়ী ছিলেন মাহমুদার নানী হাসনা বেগম। কিছু সময় পর স্থানীয়রা তাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পেয়ে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

 

এই ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক। তিনি সিলেটভিউকে বলেন, ‘পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের মর্গে প্রেরণ করে। তবে, নিহত বৃদ্ধার শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই। এটি স্বাভাবিক মৃত্যু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই ঘটনায় কেউ কোনো অভিযোগ দায়ের করেন নি।’

 

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম/ এহিয়া-০৭