প্রকাশিত: ২৬ জুলাই, ২০২৬ ১৯:৫৮ (সোমবার)
মৌলভীবাজার স্বামীর সম্পত্তি দ খ লের অভিযোগ, নিরাপত্তা চাইলেন স্ত্রী

স্বামীর মৃত্যুর পর তাঁর রেখে যাওয়া মার্কেট ও স্থাবর সম্পত্তি দখলের অপচেষ্টা, ভাড়া আত্মসাৎ, মারধর এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ এনে নিজের ও সন্তানদের নিরাপত্তা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মনোয়ারা খানম।

রবিবার (২৬ জুলাই) বিকেল ৪টায় মৌলভীবাজার শহরের একটি রেস্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন তিনি।

লিখিত বক্তব্যে মনোয়ারা খানম জানান, তাঁর স্বামী মরহুম মো. সিরাজুল ইসলাম দীর্ঘদিন কাতারে বসবাস করতেন। সেখানে অর্জিত অর্থে তিনি মৌলভীবাজার শহরের কুসুমবাগ এলাকায় ‘সিরাজ শপিং সিটি’ ক্রয়সহ বিভিন্ন স্থানে জায়গা-জমি কিনেছিলেন। ওই মার্কেট থেকে প্রতি মাসে প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা ভাড়া আসত, যা দিয়ে পরিবারের ব্যয়, সন্তানদের লেখাপড়া এবং স্বামীর চিকিৎসাব্যয় নির্বাহ হতো।

তিনি আরও জানান, তাঁর স্বামী ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন এবং সপ্তাহে তিনবার ডায়ালাইসিস করাতে হতো। এই অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে তাঁর স্বামীর ভাগনে এমদাদ মিয়া ও কয়েকজন স্বজন মার্কেটের ভাড়া আত্মসাৎ ও সম্পত্তি দখলের ষড়যন্ত্র শুরু করেন।

গত বছর (২০২৫ সালের) ২৩ মার্চ উন্নত চিকিৎসার কথা বলে তাঁর স্বামীকে জোরপূর্বক সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তাঁকে ও তাঁর সন্তানদের স্বামীর সঙ্গে দেখা করতে বাধা দেওয়া হয় এবং মারধর করা হয়। চিকিৎসার নামে মার্কেটের অগ্রিম ভাড়া থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং বিকাশের মাধ্যমে ৬৯ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া হলেও প্রকৃত চিকিৎসা না করে সেই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়।

গত চার মাসে ‘সিরাজ শপিং সিটি’র ভাড়া বাবদ প্রায় ১০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

গত ২৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে তাঁর স্বামীকে বাড়িতে এনে কার্যত বন্দি করে রাখা হয়। খবর পেয়ে তিনি ও তাঁর সন্তানরা দেখতে গেলে ভাগনে এমদাদ ও তাঁর সহযোগীরা ছেলে হাসান আল মামুন ও মেয়ে শারমিন সুলতানাকে একটি ঘরে আটকে মারধর করেন।  গত ৪ এপ্রিল তাঁর স্বামী মারা গেলেও তাঁকে সেই মৃত্যুর খবর জানানো হয়নি। স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে খবর পেয়ে তিনি সেখানে যান। যথাযথ চিকিৎসা না করিয়ে অর্থ আত্মসাতের কারণেই স্বামীর মৃত্যু হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

স্বামীর অসুস্থতার খবর পেয়ে বিদেশ থেকে দেশে আসা সতীন কলি আক্তারকে আটকে রেখে অর্থ দাবি করা হয়। প্রাণভয়ে তিনি পরবর্তীতে লন্ডনে ফিরে যান। এছাড়া, তাঁর ৮০ বছর বয়সী শাশুড়িকে বাদী সাজিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মনোয়ারা খানম মৌলভীবাজার সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এবং তাঁর ছেলে হাসান আল মামুন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সিআর মামলা নং-৫৩০/২০২৬ দায়ের করেছেন বলে উল্লেখ করেন। বিপুল অর্থ আত্মসাতের পরও অভিযুক্তরা মার্কেট ও জায়গা-জমি দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে এবং তাঁকে ও তাঁর সন্তানদের নিয়মিত প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে, যার ফলে সন্তানদের লেখাপড়াও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয় চেয়ারম্যান-মেম্বারদের মাধ্যমে একাধিকবার সালিশের উদ্যোগ নেওয়া হলেও অভিযুক্তরা সেখানে উপস্থিত হননি বলে জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত এমদাদ মিয়া পূর্বে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও বর্তমানে জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে এলাকায় প্রচার চালাচ্ছেন এবং রাজনৈতিক প্রভাব দেখিয়ে হুমকি দিচ্ছেন।

সংবাদ সম্মেলনে মনোয়ারা খানম স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি নিজের ও সন্তানদের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান। একই সঙ্গে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত এমদাদ মিয়া বলেন, “আমি এ বিষয়ে ইতোমধ্যে সংবাদ সম্মেলন করেছি। তারা হয়তো সেটি আপনাদের দেয়নি। আপনার কাছে যদি পর্যাপ্ত ডকুমেন্টস থাকে, তাহলে আপনি নিউজ করতে পারেন। আর যদি ডকুমেন্টসের ঘাটতি হয়, আপনি আমার নামে রিপোর্ট করেন, আমি কিন্তু আইনের ব্যবস্থা নেবো।”

কামালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চলতি দায়িত্বে থাকা প্যানেল চেয়ারম্যান-১ মো. বেলাল হোসেন বলেন, “আমি শুনেছি, তারা এর আগে একটি সালিশ বৈঠক করেছে। মৃত্যুসনদ প্রস্তুত হলে মরহুম সিরাজ মিয়ার বৈধ ওয়ারিশ সন্তানদের তা দেওয়া হবে।”



সিলেটভিউ২৪ডটকম/সাইফুল/এসডি-১৪